• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ রবিবার | ১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ন

Photo
দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বীমা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মিশ্র অর্থনীতি কাঠামো বিবেচনায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বীমা কোম্পানি আছে। যে কোনো প্রক্রিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোতে বীমা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলোকে মূলধনে রূপান্তরকরণে বীমা কোম্পানিগুলো অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে; দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের জোগানদাতা হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মূলধন গঠন ছাড়াও দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যক্তিক ও পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তা বিধান, ব্যবসা-বাণিজ্যিক ও সর্বোপরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়ক সংস্থা হিসেবে বীমা খাতের কোনো বিকল্প নেই। বীমার বিষয়বস্তু যদি হয় জীবন, তাহলে সে বীমাকে বলা হয় লাইফ ইন্স্যুরেন্স। জীবনবীমা চুক্তির বিষয়বস্তু হতে পারে নিজের এবং অন্যের জীবন। তবে অন্য যার জীবনের ওপর আর্থিক স্বার্থ বিদ্যমান থাকে, শুধু তার জীবনের ওপর বীমা করা যায়।

বর্তমানে দেশে একটি বিদেশি কোম্পানিসহ মোট ৩২টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আছে। দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ জীবনবীমার আওতায় আছে। এই বিশাল ঘাটতিতে এ খাতের উন্নয়নের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। দেশের বীমা খাতে শৃঙ্খলার অভাবের কারণে এ খাত পিছিয়ে আছে। আশার কথা, বর্তমান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এ খাতের উন্নয়নের আশার আলো দেখা যাচ্ছে। জীবনবীমা ব্যতিরেকে অন্য সব ধরনের বীমার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে বলেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তথা ব্যবসাকে সাধারণ বীমা নামে অভিহিত করা হয়। সম্পত্তি বীমা (নৌ ও অগি্ন বীমা), দায় বীমা এবং অন্যান্য ধরনের বীমা সাধারণ বীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে দেশের মোট ৪৬টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আছে। বীমা কোম্পানিগুলোর মুনাফার প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করলে দেখা যায়, অন্য যে কোনো খাতের তুলনায় এ খাতের বছরওয়ারি মুনাফার আকার অত্যন্ত সন্তোষজনক।  

প্রচলিত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা ও সমাধানের উপায় :জীবনবীমা কোম্পানিগুলো পরিচালনা ও কার্যকরী সম্পাদনে বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন_ পরিচালনা পর্ষদের অত্যধিক হস্তক্ষেপ। আবার পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার কোনো সুনির্দিষ্টকরণের গাইডলাইন নেই। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষেরও এর যোগ্যতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।  

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদবি ও যোগ্যতা সব কোম্পানির জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা দিকনির্দেশনা নেই। ব্যবসা সংগ্রহে সব কোম্পানিকে একই কমিশন নীতিমালার মধ্যে আনয়নে ঘাটতি রয়েছে। সর্বোপরি এ সেক্টরে কার্যাবলি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন এবং আর্থিক নীতিমালার ব্যাপারে শৃঙ্খলার বড়ই অভাব।

সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পরিচালকের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত তা তদারকি করতে হবে। যথাযথ শিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকি করতে হবে। এ খাতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যোগ্যতা, পদবি ও নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোর মধ্যে জারিকৃত নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই কমিশন হার বাস্তবায়নের জন্য নীতিমালা তৈরি, বাস্তবায়ন ও তদারকি করতে হবে।  
লেখক :চৌধুরী মোহাম্মদ ওয়াসিউদ্দিন,(সাবেক) এমডি ও সিইও (চ.দা.), পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
 


-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 1 6 1 8
আজকের প্রিয় পাঠক
9 5 6 5 9 4 7
মোট পাঠক