• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

Photo
বাংলাদেশে এবার চালু হলো প্রাণিসম্পদ বীমা

দেশে প্রথমবারের মতো,ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ও গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড যৌথভাবে নিয়ে এলো গবাদি পশু খামারিদের জন্য প্রাণিসম্পদ বীমা কাভারেজ সুবিধা।

বীমার আওতায় থাকা পশুর দুর্ঘটনা, রোগ বা প্রসবকালে মৃত্যু এবং আংশিক অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ পাবেন খামারিরা। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী এক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চারশ' খামারিকে প্রাণিসম্পদ বীমার আওতায় আনা হবে।

গতকাল বুধবার ২৮ আগস্ট ২০১৯ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। লন্ডনভিত্তিক বিজনেস ফাইন্যান্স ফর দ্য পুওর ইন বাংলাদেশ (বিএফপি-বি) চ্যালেঞ্জ ফান্ডের সহযোগিতায় পাইলট ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক এ বীমার পরিধি বাড়াতে ঋণ সহায়তা দেবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর সদস্য গকুল চাঁদ দাস ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ। আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এমডি ফারজানা চৌধুরী এবং ইউকে এইডের ডেপুটি টিম লিডার আফসানা ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই বীমার আওতায় থাকা পশু শনাক্ত করতে গলায় একটি ট্যাগ লাগানো হবে। এনএফসি প্রযুক্তির ট্যাগে পশুর বিবরণ থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তিতে যা শনাক্ত ও তদারক করা যাবে। গবাদি পশুর দামের ওপর ৩ শতাংশ হারে প্রিমিয়াম কাটা হবে। আপাতত সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এ সুবিধা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এ সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে গবাদি পশু চুরি হলে সে ক্ষেত্রে কোনো সুবিধা পাবেন না খামারি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামারিদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ধীরে ধীরে গুঁড়া দুধ আমদানি কমাতে চায় সরকার। এ জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে গুঁড়া দুধ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক্ক আরোপ করা হয়েছে। শুল্ক্ক আরোপের এক মাস যেতে না যেতেই বলা হলো, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। পরে দেশের বাইরে পরীক্ষা করে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, কখনও শাপে বর হয়। দেশে গবাদি পশু পালন হারিয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে ভারতের গরু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ায় দু-এক বছর দেশের বাজারে দাম অনেক বেড়েছিল। তখন এ নিয়ে নানা কথাবার্তা হলো। সরকারের নীতি-সহায়তার ফলে এখন দেশে গরু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এ কারণে এবার কোরবানির পশুর দাম খুব বাড়েনি, আবার কমও হয়নি। বীমা সুবিধা চালুর ফলে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গকুল চাঁদ দাস বলেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে সাধারণ বীমা করপোরেশন গবাদি পশু পালনে বীমা চালু করেছিল। তবে একজনের গরুর মৃত্যু দেখিয়ে অন্যজন সুবিধা নেওয়ার ফলে তা স্থায়ী হয়নি। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এখন আর তা পারবে না।

শাইখ সিরাজ বলেন, খামারিদের সুরক্ষা দিতে না পারলে এ খাত টিকবে না। প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও বীমা সুবিধা দিতে পারলে কৃষি খাতের অনেক উন্নয়ন হবে। বীমা প্রিমিয়ামের ওপর ভ্যাট তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক শুরু থেকে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে আসছে। গ্রিন ডেল্টার সঙ্গে বীমা সুবিধা চালু এরই ধারাবাহিকতা। এর ফলে এ খাতে আরও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। গ্রামে কর্মসংস্থান বাড়বে।

ফারজানা চৌধুরী বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সামনে রেখে খামারিদের জন্য বীমা সুবিধা আনা হয়েছে। কৃষকদের ঝুঁকি নিরসনে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। এতে কোম্পানিও লাভবান হবে। এ ছাড়া বীমা কোম্পানি টাকা ফেরত না দেওয়ার যে দুর্নাম রয়েছে, কোম্পানিগুলো তা নিরসনে ভূমিকা রাখবে।


-- ব্লগার Admin Post এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 2 6 1 8
আজকের প্রিয় পাঠক
1 0 5 7 1 4 4 5
মোট পাঠক