• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

Photo
নতুন নতুন বীমা ডিজাইন করলে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে

নতুন ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের অভাবে সাধারণ মানুষকে আপেক্ষাকৃত কম আকৃষ্ট করতে পারছে দেশের বীমা খাত। নতুন পণ্যের ডিজাইনে কোম্পানিগুলো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। একজন মাত্র অ্যাকচুয়ারির মাধ্যমে ডিজাইন করা হয় বিভিন্ন কোম্পানির বীমা পলিসি বা পণ্য।

খাতসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন বীমা কোম্পানিগুলোর হাতে ইনোভেটিভ বীমা পলিসি, ই-পলিসি নেই বললেই চলে। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে পলিসির ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য আনা দরকার বলে মনে করেন তাঁরা। তবে লাইফ ইনস্যুরেন্সের ক্ষেত্রে সংকটের প্রধান কারণ হলো অ্যাকচুয়ারি সংকট (বীমার নতুন পলিসি তৈরিতে কাজ করে)। বর্তমানে পুরো খাতে একজন মাত্র অ্যাকচুয়ারি কাজ করছেন। তিনি হলেন ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন। অনেক কোম্পানির নতুন পলিসি ডিজাইনের অনেক কাজই তিনি করছেন। তবে তিনি একা কতটা করতে পারছেন সেটা একটা বিষয়। এ জন্য অনেক কোম্পানি তাঁর কাছে ধরনা দিয়েও খুব সহজে নতুন পলিসি ডিজাইন করতে পারছে না। নতুন একটি পলিসি ডিজাইনের জন্য অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেটলাইফ বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ হাম্মাদুল করিম বলেন, ‘প্রডাক্ট আমাদের আছে, যার বেশির ভাগই গতানুগতিক। অধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের বৈচিত্র্য থাকার কথা তা আমরা আনতে পারিনি। এটা অবশ্যই বীমাশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পথে একটি বাধা। তাই আমাদের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্যেও বৈচিত্র্য আনতে হবে। ’

বর্তমানে ৩২টি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি রয়েছে। যেখানে নতুন পণ্য তৈরিতে কাজ করছেন একজন মাত্র অ্যাকচুয়ারি। শুধু যে অ্যাকচুয়ারির অভাব তাই নয়, কোম্পানিগুলোর অনীহাও নতুন পণ্য বাজারে আনার ক্ষেত্রে বাধা বলে মনে করেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য গকুল চাঁদ দাস।

তিনি বলেন, ‘নতুন পণ্য এলে লাইফে হোক আর নন লাইফে হোক দুই ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বীমা প্রডাক্ট আমরা চালু করতে পারছি না। এই উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে। ব্যবসার উন্নয়নের জন্য তাদের এ কাজটা করতে হবে। তবে নতুন পণ্য চালুর বিষয়ে যদি কোনো বাজারে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় কোনো কোম্পানি সেটা দূর করার কাজ আমাদের। নতুন পণ্যের অনুমোদন আমরাই দিই। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো পণ্যের অনুমোদনের জন্য এসে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে আমরা দিচ্ছি না সেটা কেউ বলতে পারবে না। যত তাড়াতাড়ি পারি আমরা অনুমোদন দিয়ে দিই। তাদের ক্ষেত্রেই ইচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এ রকম অবস্থা থাকলে এ খাতে একটা স্থবিরতা আসতে পারে। ’

আইডিআরের এ সদস্য বলেন, ‘অ্যাকচুয়ারি তৈরির বিষয়ে পড়াশোনার জন্য একটা সিলেবাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা দিয়েছিলাম। অ্যাকচুয়ারি তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনার দরকার আছে। এটা আসলে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের নয়, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান যারা আছে তাদের বিষয়। বাংলাদেশে অ্যাকচুয়ারি নেই সেটা যেমন সত্য, আবার আছেও। যারা আছে তারা অ্যাকচুয়ারি হিসেবে দেশের বাইরে পড়াশোনা করেন, সেখানেই কাজ করেন। দেশে আসতে চান না। কারণ তাঁরা যে পারিশ্রমিক সেখানে পান সেটা দেশের কম্পানিগুলো দিতে রাজি নয়। দীর্ঘ মেয়াদে পড়াশোনা করাটাও অ্যাকচুয়ারি তৈরির ক্ষেত্রে একটা বড় বাধা। বীমা একাডেমি ভারতের সঙ্গে একটা কোর্স চালু রাখার বিষয়ে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু একটা পর্যায়ে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। ’


-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 2 9 5 1
আজকের প্রিয় পাঠক
1 0 5 7 1 7 7 8
মোট পাঠক