• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

Photo
বীমা সেক্টরের ইমেজ বাড়ানোর জন্য বন্ধ পলিসি গ্রাহকদের ফেরাতে হবে

একটা পলিসি করার পর মেয়াদের আগেই অনেক গ্রাহক তাদের পলিসি বন্ধ করে দেয়। যে পলিসি করে এবং যে করায় দুজনের মধ্যেই একটা বড় গ্যাপ থাকার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রিমিয়াম দেয় না। বীমা করেও এর উপকারটাও সে আর ভোগ করতে পারে না। তখন বীমা খাতের ওপর গ্রহীতার একটা বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। বীমা খাতে এই সংখ্যাটা অনেক বড়। এসব ঝরে পড়া গ্রাহকদের নতুন করে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি কোম্পানিরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের।

একান্ত আলাপকালে এই প্রধান নির্বাহী বলেন, অনেক গ্রাহক আছেন যাঁরা পলিসি করার পর একটা-দুটি কিস্তি দিয়েই এটা বন্ধ করে দেয়। হয়তো তার পলিসির মেয়াদ দশ বছর। এটা একটা বড় সমস্যা। বীমা সেক্টরের ইমেজ বাড়ানোর জন্য তাদের আবার ফেরাতে হবে। তাদের কাছে আবার কোম্পানিগুলোকে যেতে হবে। না হলে এই বড় একটা গ্রাহক গোষ্ঠী সারা জীবনই বীমার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এসব গ্রাহকের পলিসিগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে তামাদি হয়ে যায়, খুব অল্প সময়ে সারেন্ডার করে। এটি হওয়ার আরো একটি কারণ হলো যে পলিসি বিক্রি করে সে লোকটাই থাকে টেম্পরারি।

এখনো বীমা খাতে যেসব এজেন্ট কাজ করে তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা এবং সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলে জানান জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের। তিনি বলেন, ‘এজেন্টরাই তো আমাদের পলিসিগুলো বিক্রি করছে। তাদের স্থির হতে হবে, বুঝতে হবে, বেশি করে জানতে হবে। দেখা গেল একটা ইউনিক প্রডাক্ট আমার এখানে আছে, যা বিক্রি করলে গ্রাহকের ভালো উপকার হবে। কিন্তু এজেন্টের কমিশন এতে কিছুটা কম। তাহলে সে হয়তো কোনো গ্রাহকের কাছেই এ বিষয়ে কিছু বলবে না। যেটাতে কমিশন বেশি সে পলিসিগুলো গতানুগতিক হলেও সেগুলো নিয়েই তারা পড়ে থাকবে। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে এজেন্টদের আরো বেশি করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ’ নতুন পণ্যের অভাব রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক ইউনিক পণ্য রয়েছে যেগুলো আসলে এজেন্টদের কারণেই বিক্রি করা যাচ্ছে না, গ্রাহকরা আসছে না। তার পরও ব্যাংক অ্যাসুরেন্সের বাস্তবায়ন হবে। এতে করে সেক্টরের অনেক উন্নয়ন হবে। কারণ তখন মানুষ ব্যাংক থেকে পলিসি নিতে পারবে।

ব্যাংকের কথা শুনে চোখ বন্ধ করে মেধাবীরা চাকরিতে যোগ দেয়। বীমা আর্থিক খাতের বড় একটি অংশ হওয়ার পরও এখানে লোকজন চাকরি করতে চায় না। এর মূল কারণ হিসেবে ইমেজ সংকটকেই মনে করেন জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের। তিনি বলেন, ‘বীমায় অনেক মেধাবীরা আসে। তারপর অন্য কোথাও চাকরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দৌড় দেয়। অথচ এখানে কাজের প্রচুর জায়গা রয়েছে। এর মূল কারণ হলো ইমেজ সংকট। অবহেলা কোম্পানিগুলোরও রয়েছে। সবাই আসলে মেধা বিনিয়োগ করতে চায় না। অথচ মেধাবীদের ধরে রাখার কোনো বিকল্প নেই। ’

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রবিধান তৈরির কাজ করছে। এগুলো আরো দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, এসব গাইডলাইন শুধু শেষ করলেই হবে না, দ্রুত বাস্তবায়নও দরকার। কারণ কোম্পানিগুলোকে আরো বেশি করে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন রয়েছে।

জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের
সিইও, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি


-- ব্লগার Rajib Khan এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 1 7 0 0
আজকের প্রিয় পাঠক
1 0 5 7 0 5 2 7
মোট পাঠক