• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

Photo
সরকারি সহযোগিতা পেলে বীমা খাত আরো এগিয়ে যাবে: বি এম ইউসুফ আলী

বেসরকারি বীমা খাতের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির এমডি ও সিইও বি এম ইউসুফ আলী বলেন, সরকারি বীমা  কোম্পানির চেয়ে বেসরকারি কম্পানিতে সেবার মান উন্নত হয়েছে। জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় বীমা খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সরকারি সহযোগিতা পেলে বীমা খাত আরো এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বীমা  কোম্পানির সাফল্যের মূল ভিত্তিই হচ্ছে গ্রাহকসেবা। প্রতিটা বীমা  কোম্পানিই গ্রাহক ধরে রাখতে ভালো সেবা দেয়। গ্রাহক সেবাকেই প্রাধান্য দেওয়ায় মানুষ বেসরকারি বীমা  কোম্পানিকেই বেছে নিচ্ছে। সরকারি বীমা কোম্পানিতে মানুষ বেশি ভরসা করলেও গ্রাহকসেবা বেসরকারি  কোম্পানির মতো না। সরকারি বীমা  কোম্পানির কর্মীরা মনে করেন চাকরি তো যাবে না, কিন্তু বেসরকারি  কোম্পানির কর্মীরা গ্রাহক না থাকলে চাকরি থাকবে কি না সন্দেহে থাকেন। এ জন্যই ভালো সেবা দেওয়ায় সরকারি খাতের  কোম্পানির চেয়ে বেসরকারি বীমা  কোম্পানি সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, গত চার বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ম্যাচিউরিটি ক্লেইম দিয়েছি। আমাদের বীমা গ্রাহক ২৬ লাখেরও বেশি। বীমা গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধের কারণে অন্য বীমা  কোম্পানিকে বিশ্বাস না করলেও পপুলার লাইফকে সবাই বিশ্বাস করে। বীমার টাকা গ্রাহকরা ফিরে পাওয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে। আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। বীমার টাকা দেওয়া শেষ, গ্রাহকরা এখন নতুন নতুন পলিসি করছে। যারা টাকা পেয়েছে তারা বেশি টাকায় বীমা করছে। কেউ ২০০ টাকায় করেছিল,এখন টাকা ফিরে পাওয়ার পর মাসিক ৫০০ টাকায় করছে। আবার আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় বীমা গ্রাহকরাই কর্মী হচ্ছে। এতে আমরা বীমা খাতের আরো ভালো সম্ভাবনা দেখছি।

তিনি বলেন, বীমা পণ্যের মধ্যে ডিপিএস ভালো চলছে। গ্রাহকরা মাসে মাসে দিয়ে দিতে পারে বলে বেশ জনপ্রিয়। ত্রৈমাসিক বা বছরে তিন কিস্তি বীমাতেও ভালো। এডুকেশন ও চাইল্ড পলিসি বীমাও বেশ সাড়া জাগিয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় বীমা খাত অনেক এগিয়েছে। আর এই খাতকে এগিয়ে নিতে বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। সকল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চেয়ে ইডরা এখন অনেক বেশিই শক্তিশালী। তাদের সঠিক নির্দেশনায় বীমা খাত এগিয়ে যাচ্ছে।

ইনস্যুরেন্স ফোরামের এই সভাপতি মনে করেন, প্রতিটি  কোম্পানিকেই পুঁজিবাজারে আসা উচিত। এতে স্বচ্ছতা ও মানুষের আস্থাও বাড়বে। শেয়ার মার্কেটে না গেলে বীমা  কোম্পানিটি পাবলিক লিমিটেড  কোম্পানি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে না। প্রাইভেটই থেকে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকরা প্রাইভেট  কোম্পানিকে ব্যক্তিগতই মনে করে। আর পাবলিক  কোম্পানিকে বিশ্বাস করে, সরকারি  কোম্পানির মতোই মনে করে। লাখ লাখ শেয়ারহোল্ডার থাকে। এ জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। যেসব  কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসেনি, তাদের দ্রুতই আইপিওতে আসা উচিত।

তিনি বলেন, বীমা খাতের বড় প্রতিবন্ধকতা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যেভাবে পাওয়ার কথা, আমরা সেভাবে পাই না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গণশিক্ষা প্রকল্প চালুর সময় সরকারিভাবে বিজ্ঞাপন অনেক গেছে। অনেকভাবেই সেটার প্রচারণা করা হয়েছে। এখন শিক্ষা বেড়েছে। স্যানিটেশনের ক্ষেত্রেও সেটা সরকার করেছে। ব্যাপক প্রচারেই সফল হয়েছে প্রতিটা কর্মসূচি। সরকার যখন মনে করে এটার প্রচারণা ও সফলতা প্রয়োজন সেটা করে দেখিয়েছে। বীমা খাতের পৃষ্ঠপোষকতা করলে বিদেশের উদাহরণ দিতে হবে না। দেশের মানুষের আস্থা আনতে পারলে বীমা এগিয়ে যাবে। বীমার সম্ভাবনা শতভাগের বেশি। আস্থা ফেরাতে পারলে অনেকে দুটি বীমা করবে। অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু এটার প্রচারণা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

বি এম ইউসুফ আলী
এমডি ও সিইও, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিঃ
সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরাম
 


-- ব্লগার দেলোয়ার হোসেন এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 0 9 8 9
আজকের প্রিয় পাঠক
1 0 5 6 9 8 1 6
মোট পাঠক