• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৭:৪২ অপরাহ্ন

Photo
বীমা শিল্পর উন্নয়নে প্রস্তাবনা

বাংলাদেশ প্রধানত একটি কৃষি নির্ভর দেশ, বিধায় শিল্প ও ব্যবসা বানিজ্যে এর অতীত ইতিহাস সমৃদ্ধ নয়। নানাবিধ কারনে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও এদেশে কাংখিত হাওে শিল্প উন্নয়ন হয়নি। ফলে বীমা শিল্পেও আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। বিলম্বে হলেও বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ পোষাক শিল্পে বিশ্বেও একিটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে। আরও কয়েকটি খাতকে অত্যন্ত সম্ভবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দূর্বল ভিত্তির উপরে দাড়িয়ে শুরু হওয়া এই খাত ক্রমশ বিকশিত হয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দূভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এদেশে বীমা গ্রহনের হার অত্যন্ত কম। বাংলাদেশে বীমা শিল্প বেকল কয়েকটি খাতে সমাবদ্ধ রয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতির সচলতা এবং এর গভীরতা বৃদ্ধিও জন্যে বীমা শিল্পে বিরাজমান পন্যেও বাইরেও আরও নতুন নতুন সম্ভাবনাময় পন্য বা প্রাডাক্ট এর অনুসন্ধন প্রয়োজন।

যেহেতু বীমা সম্ভাব্য ক্ষতির বিপক্ষে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে বীমাকৃত জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হলে তার প্রতিরক্ষা বিধান বা আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরন করে, মানুষের মাঝে হতাশা ও অনিশ্চিয়তা দূর কওে ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা বোধ সৃষ্টি কওে, দেশে আর্থিক ব্যবস্থায় মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ করে, যেহেুতু বীমা শিল্পের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এদেশে এখনও বীমা শিল্পকে অনেকে সন্দেহের চোখে দেখে। কিন্তু সদাশয় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প আরও ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। আমরা নিম্নে কয়েকটি খাতকে চিহ্নিত করেছি। তা হলঃ

(১) ড্যাপে এর আওতাধীন নির্মানাধীন সকল আবাসিক ভবনকে নিম্নরুপে বীমার আওতায় আনা –

(ক) যেহেতু ঢাকা বাংলাদেশ মেট্রোলজিক্যাল বিভাগ এর মানচিত্র মতে ২নং সিসমিক জোনে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনবসতি পূর্ণ মহানগর তাই এখানে ভ’মিকম্প হলে এর তৎপরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি হয়ে ভয়াবহ। ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হলেও এটি পরিকল্পিত ভাবে নির্মিত হয়নি। পূর্ত প্রকৌশলীগন ঐতিমধ্যে নানাবিধ গবেষণা পত্রে এই অভিমত প্রদান করেছেন যে, ঢাকার অধিকাংশ ভবন ভ’মিকম্প সহনীয় নয়। ভ’মিকম্পে ধবংসপ্রাপ্ত ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়। এই ক্ষতি জাতীয় ক্ষতি। তাই প্রস্তাব হলো যে, এখন থেকে যে কোন নির্মানাধীন বহুতল বাড়ী/ভবনকে বাধ্যতামূলক ভাবে বীমার আওতায় নিােয় আসতে হবে। নির্মানধীন ভবনের কাজ শেষ হলে এবঙ এর মালিকানা ফ্ল্যাট হোল্ডারদেও কাছে হস্তারিত হলেও প্রতি বছর অন্তে হোল্ডিং ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় সে সকল ভবনের বীমা পলিসি নবায়ন করা।

(খ) বহুতল ভবন নির্মানের সময় ভবনের নকশা অনুমোধনের সময় নিযুক্ত ঠিকাদারকে শ্রমিকদেও জীবন বাধ্যতামূলক ভাবে বীমা করা। এ বিষয়ে সদাশয় সরকার রিহ্যাবকে প্রজ্ঞাপন জারি করে সকল ডেভেলপার কোম্পানীকে তাদের নিযুক্তীয় শ্রমিকদের জীবন বীমা করার আদেশ দিতে পারেন। ধারণা করা হয় যে, ঢাকায় বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক নির্মান শ্রমিক কর্মরত আছে। এতে তাদেও পরিবারের একটি নিরাপত্তা বোধ আসবে।

(গ) কৃষি বীমার আওতা বাড়ানোর বর্তমানে কয়েকটি বীমা কোম্পানী শস্য বীমা চালু করেছে। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে চিংড়ি ঘেড়, মৎস খামাড়, পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্মগুলোকে এর আওতায় আনা উচিত। আমরা জানি যে, কয়েক বছর আগে এভিয়ন ইনফ্লুয়েঞ্জা নামক একটি ভাইরাস দেশের পোল্ট্রি খাতকে প্রায় ধবংস করে দিয়েছে। সদাশয় সরকার যদি এ ক্ষেত্রে দেশের বীমা কোম্পানীগুলোকে সাথে নিয়ে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয় তহবে এই খাতে অভ’তপূর্ব সাফল্য আসবে। বাড়বে দেশজ উৎপাদন, দূও হবে বেকারত্ব। দেশে আমিষের ঘাটতি থাকলে একটি সবল জাতীর পরিবর্তে আমার একটি দূর্বল, রুগ্ন জাতি পাব যা কারও কাম্য হতে পাওে না।

(ঘ) দুঃস্থ মহিলা ভাতা বীমাঃ সদাশয় সরকারের চাকুরী বিধানের কারনে দেশে বিশাল সংখক মহিলা বর্তমানে চাকুরীরত আছে যারা পেনশনের আওতাধীন। কিন্তু তা সত্বেও এখনও দেশে লাখ লাখ মহিলা গৃহিনী হিসেবে জীবন যাপন করেন। অর্থনীতির ভাষায় এদের বলা হয় বেতনহীন শ্রমিক। এ সকল মহিলার অধিকাংশই কোন পেনশন পলিসির আওতায় আসেন না। যদিও সরকার দুঃস্থ মহিলা ভাতা নামে একটি ভাতা কয়েক লাখ মহিলাকে প্রদান করে আসেছে। এই উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু আমরা মনে করি এই ভাতাকে আরও পরিকল্পিত ও অধিকতর ফলপ্রসু করতে সরকার ও বীমা শিল্পগুলো একযোগে কাজ করতে পারে। এতে দেশের সকল দুঃস্থ মহিলাকে সামাজিক নিরাপত্তা জালে আনা যাবে।

(ঙ) জলবায়ু উদ্বাস্তু বীমাঃ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে অনেক উদ্বাস্ততে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে একদিকে মরুকরনের হার বাড়ছে এবং একই সাথে দক্ষিণাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারনে অনেক লোকজন উদ্বাস্তু হয়ে অন্যত্র দেশান্তরী হচ্ছে। বৈশ্বিক উঞ্চায়নের কারনে খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, সাইক্লোন, জলোচ্ছাস নবনাক্ততা ইতাদিও কারনে জান মালের প্রভ’ত ক্ষয়ক্ষতি সার্ধিত হচ্ছে। এটি আশংকা করা হচ্ছে যে, বৈশ্বিক উঞ্চায়নের কারনে সমুদ্রেও উচ্চতা বৃদ্ধিও ফলে দেশের এক দশাংশ জমি সমুদ্রে তলিয়ে যাবে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকারী পৃষ্ঠপোষতায় বীমা শিল্প এগিয়ে এলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

(চ) ক্ষুদ্র দোকান বীমাঃ দেশে লক্ষাধিক ক্ষুদ্র দোকান দেশে বিদেশে উৎপাদিত পন্য বিপনন কওে আসছে। অর্থনীতিতে এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে। অথচ দূভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এদেও অধিকাংশ কোন দোকানদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি/সমূহ বীমা করা হয় না। ইদানিং দেশে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট বা নানা দাহ্য পদার্থ থেকে সৃষ্ঠ অগ্নিকান্ড পুরো একটি ব্যবসাঞ্চল ধবংস দেয়। প্রতিবছর দেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি সাধিত হয়। এ সকল দোকানদারকে যদি একাধিক ধাপ ভিত্তিক প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বাধতামূলকভাবে বীমার আওতায় নিয়ে আসা যায়, তবে অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হবে। এ সকল দোকানদারের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় বীমা বাধতামূলক করা হলে তা ব্যবসায়ী সরকার এবং বীমা কোম্পানী সমূহের জন্য কল্যান বয়ে নিয়ে আসবে।

(ছ) বৃহৎ পরিকাঠামো বীমারঃ দেশে বর্তমানে কয়েকটি বহৎ পরিকাঠামো সরকারী মালিকানায় তৈরী করা হয়েছে। যেমন মেঘনা গামতী সেতু যমুনা সেতু, ভৈরব সেতু ইত্যাদি। দেশের অর্থনীতিতে এ সব বহৎ পরিকাঠামোর গুরুত্ব ও ভ’মিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূভাগ্যজনকভাবে হলেও সত্য যে, এসব বৃহৎ অবকাঠামোগুলো কোনটি বীমা পলিসির আওতায় নেই। বাংলাদেশের গুরুত্বফ’র্ণ অবকাঠামোর একটি যথা যমুনা ব্রীজ রক্ষার্থে একটি সেনাবাহিনীর কম্পোজিট ব্রিগেড নিয়োজিত করা হয়েছে। অথচ এই ব্রীজটি বীমার আওতায় নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখ জনক। আমরা মনে করি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এবং এলজিইডি বিভাগের আওতাধীন সকল আধা কিলোমিটার এবং তার চেয়ে লম্বা সকল ব্রীজকে বীমার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

সীমিত সম্পদ ও আর্থিক দৈন্যতার কারনে বাংলাদেশ এখনও উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আছে। ফলে এই সীমিত সম্পদের সুরক্ষা কল্পে বীমা শিল্পে অধিকরত মনোনিবেশ প্রয়োজন।
লেখক: মোঃ এ এইচ ছিদ্দিকী



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , বীমা সচেতনতা

-- ব্লগার Rajib Khan এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
3 4 8 4 8
আজকের প্রিয় পাঠক
1 1 8 3 1 3 6 4
মোট পাঠক