• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

ব্যাংক ডিপিএস ও বীমা পলিসির মধ্য পার্থক্য

অনেকেই মনে করেন যে শুধুমাত্র ব্যাংকে আমার একটি একাউন্ট থাকলেই বুঝি হবে এবং অনেকেই বীমার চেয়ে ব্যাংককেই বেশি গুরুত্বপূর্ন মনে করেন। আলাদা আলাদা দিক থেকে দুটির গুরুত্বও ভিন্ন। ব্যাংকের অবশ্যই গুরুত্ব রয়েছে পাশাপাশি বীমার গুরুত্বও রয়েছে অনেক। আজকে আপনারা এই আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারবেন ব্যাংকের একটি ডিপিএস এবং বীমার একটি ডিপিএস আপনাকে কি কি সুবিধা দিতে পারবে। ব্যাংক ও বীমার মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে। ব্যাংক ও বীমা কি কি সুবিধা দিতে পারে এবং সুবিধার ভিত্তিতে আপনি কোনটি গ্রহন করবেন। আপনার জীবনে ব্যাংক ডিপিএস কী বেশি প্রয়োজন নাকি বীমা বেশি প্রয়োজন? প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন যে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলে যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

উদাহরন হিসেবে আমি আপনাকে বলতে পারি যে, মনে করুন একটি ব্যংকে আপনি ডিপিএস করেছেন। মাসে আপনি ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা করে জমা করছেন। এটির মেয়াদ হচ্ছে ১০ (দশ) বছর। প্রতি মাসে যদি আপনি ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা করে জমা দেন বছরে ৬০,০০০/= (ষাট হাজার) টাকা এবং ১০ (দশ) বছর শেষে আপনি টাকা জমা দিয়েছেন ৬,০০,০০০/= (ছয় লক্ষ) টাকা এবং ১০ (দশ) বছর মেয়াদ শেষে আপনি একত্রে মুনাফা উত্তোলন করবেন % (পারসেন্টেজ) অনুযায়ী বর্তমানে যে ব্যাংকের যে Interest Rate গুলো আছে সেখানে ১০,৫০,০০০ (দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা বা ১১,০০,০০০ (এগার লক্ষ) টাকার মতো আসতে পারে। ট্যাক্স বাদ দেওয়ার পরে আরো কম হবে। আচ্ছা আমি ধরে নিলাম সর্বোচ্চ মুনাফাও যদি হয় ১১,০০,০০০ (এগার লক্ষ) টাকা হতে পারে। এবং ব্যাংকে আর একটি সুবিধা হলো আপনার এই ডিপিএস চালানো অবস্থায়যদি আপনার আর্থিক প্রয়োজন হয় তবে আপনার আপনার আর্থিক Deposit এর বিপরীতে আপনি লোন নিতে পারবেন। লোন হিসেবে টাকা উত্তোলন করে আপনার প্রয়োজনটি পূরন করতে পারবেন। ব্যাংক Deposit এর সাথে আপনি আর একটি সুবিধা পাবেন যেটি হচ্ছে Tax Rebate সুবিধা। কিন্তু এই Tax Rebate এর সুবিধা হচ্ছে যে বছরে সর্বোচ্চ ৬০,০০০/= (ষাট হাজার) টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেই কিন্তু আপনি এই সুবিধাটি পাবেন। কিন্তু ৬০,০০০/= (ষাট হাজার) টাকার বেশি যখন হবে তখন কিন্তু আপনি এই Tax Rebate এর সুবিধাটি পাবেন না। কিন্তু পাশাপাশি যদি বীমার দিকে তাকান। বীমার সুবিধা বলি। আমি ধরে নিলাম আপনি একটি মাসিক লিসি গ্রহন করেছেন। মাসে আপনি ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা জমা দিচ্ছেন এবং বছরে সেটির পরিমান ৬০,০০০/= (ষাট হাজার) টাকা।  

একই পরিমান টাকা আপনিজমা দিচ্ছেন বীমাতে। ১০ (দশ) বছর শেষে আপনার বীমার মাধ্যমেও ৬,০০,০০০/=(ছয় লক্ষ) টাকা জমা দিয়েছেন এবং এই ৬,০০,০০০/= (ছয় লক্ষ) টাকা জমারভিত্তিতে মুনাফাটাও কিন্তু আপনার প্রায় কাছাকাছি আসবে ব্যাংকের মতো। কিন্তু এর পাশাপাশি আপনি কি পাবেন? ব্যাংকের মতো আপনি মেয়াদ চলাকালীন সময় ২/৪/৫ বছর পর যখন আপনার টাকার প্রয়োজন হবে তখন লোন হিসেবে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। অর্থাৎ বীমা পলিসির বিপরীতে আপনি কিন্তু লোন নিতে পারছেন। যেটা Tax Rebate এর কথা বললাম সেটা আপনি ১/৫ লক্ষ টাকাও যদি জমা করেন আপনার মোট আয়ের ২৫% যদি বিনিয়োগ করেন বীমা খাতে আপনি মোট বিনিয়োগের উপর আয়কর রেয়াত পাবেন ১৫% পর্যন্ত। তাহলে দেখেন এই ক্ষেত্রে কিন্তু ভিন্ন হলো। আমরা শুনেছি ব্যাংকের টাকা যখন-তখন ভাঙ্গা/তোলা যায়, কিন্তু বীমার টাকাযখন-তখন ভাঙ্গা/তোলা যায় না। Savings Account এর মানেই হলো টাকা জমা দেব এবং প্রয়োজনের সময় উত্তোলন করব। যার কারনেই কিন্তু Savings Account করা হয়।  

যখন আপনি ডিপিএস করেন তখন আপনার উদ্দেশ্যই থাকে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য টাকা জমা রাখব এবং মেয়াদ শেষে এই টাকা দিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, সাংসারিক কোন উন্নতি করা বা একত্রে টাকাটা আসলে আমার কোন কাজে আসবে। এ ধরনের একটি পরিকল্পনা নিয়েই কিন্তু আপনি ব্যাংক বা বীমা প্রতিষ্ঠানে একটি ডিপিএস করেন। কিন্তু ব্যাংকের যে ডিপিএস সেটা বাধ্যতামূলক সঞ্চয় নয়।

Photo

কিন্তু আপনি যখন ব্যাংকে টাকা জমা করতেন অল্প যে কোন ছোট-খাটো প্রয়োজনেই আপনি ডিপিএস টি ভেঙ্গে ফেলতে পারবেন এতে আপনার বড় ধরনের সঞ্চয় এর লক্ষ পূরন হচ্ছে না। আপনি বীমাতে পলিসি করলে সেটা মেয়াদের আগেই ভেঙ্গে ফেলতে পারবেন না। এতে আপনার বাধ্যতামূলক সঞ্চয় হচ্ছে। আপনার যে টার্গেটটি রয়েছে যে আমি ৬,০০,০০০/= (ছয় লক্ষ) টাকা ১০ (দশ) বছরে জমা করব। এতে ১০ (দশ) বছরে কিন্তু আপনার ৬,০০,০০০/= (ছয় লক্ষ) টাকা জমা হচ্ছে এবং এই বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের কারনেই আপনি একত্রে অনেকগুলো টাকার মালিক হচ্ছেন। আপনাকে বলব যেএকটা ব্যাংক ডিপোজিট যখন-তখন ছোট-খাটো প্রয়োজনেই ভেঙ্গে ফেলতে পারবেন, কিন্তু এর চেয়ে বড় প্রয়োজন আপনার জীবনে আসতে পারে। আপনার জীবনে দূর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব বা আপনার মৃত্যুতে ব্যাংকের ডিপিএস কোনই প্রভাব ফেলবে না। সেখান থেকে আপনি বাড়তি কোন সুবিধাও পাবেন না। কিন্তু আপনি যদি বীমাতে একটি পলিসি করেন এই বীমা পলিসির মাধ্যমে আপনি যেটা পেতে পারেন বীমা চলাকালীন যে কোন সময়ে দূর্ঘটনা, পঙ্গুত্বের কারনে আপনার জীবনে যদি নেমে আসে অর্থনৈতিক দুর্দশা, সেক্ষেত্রে আপনি বীমার টাকা থেকে বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারেন। এর সাথে যদি আপনার PDAB যুক্ত করা থাকে, দূঘটনা বীমা করা থাকে সেক্ষেত্রে আপনার অঙ্গহানির জন্য মোটা অংকের টাকা পাবেন, এবং আপনার যদি স্বাস্থ্য বীমা করা থাকে সেক্ষেত্রে আপনি কম খরচে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। এর পরেও বড় সুবিধা হচ্ছে আপনার জীবনস্বাভাবিকভাবে চলছে, কিন্তু একটি চিরন্তন সত্য সেটা হলো মৃত্যু। মৃত্যু সবার জীবনেই আসবে। মৃত্যুর কোন সময় নেই, কেও বলতে পারবে না আমি কখন মরব এবং বলতে পারবে না কতদিন বাঁচব। আল্লাহ্; না করুন আপনি যদি মারা যান বীমা চলাকালীন সময়ের মধ্যে, আপনার পরিবার বীমার বিপরীতে একটি মোটা অংকের টাকা পাবে। যেটি ব্যাংক কখনোই দিবে না।  

মনে করেন, আপনি যখন একটি ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকার Deposit করেছেন, মাসে ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা জমা দিয়েই যদি আপনি মারা যান তাহলে আপনার পরিবার পুরো ৬,০০,০০০/= (ছয় লক্ষ) টাকা পাবে। তাহলে যেখানে ব্যাংকে ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা দিয়ে আল্লাহ্ধসঢ়; না করুক আপনি যদি মারা যান তাহলে ব্যাংক কি করবে? এই ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা থেকে সার্ভিস চার্জ কেটে রেখে আপনার মনোনীতককে টাকা ফেরত দিবে। কিন্তু বীমা কি করছে, বীমা আপনাকে ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা জমার বিপরীতে শুধুমাত্র ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা নয় পুরো ৬,০০,০০০/= (ছয় লক্ষ) টাকা আপনার পরিবারকে দিবেন। তাহলে দেখেন এখানে কিন্তু আপনার পরিবার লাভবান হচ্ছে। এবং এই বীমার সঞ্চয় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন। আর একটি কথা বলব আমরা যখন কোথাও টাকা রাখি বা টাকা যখন লেনদেন করি, তখন কিন্তু টাকার নিশ্চয়তা চাই। যখন কারো সাথে কোন লেনদেন করি তখন কিন্তু দলিল করি।  

আপনি যখন ব্যাংকে Deposit করেন তখন Deposit রাখার কারনে আপনাকে একটা রিসিপ্ট দেবে, যেখানে কোন স্ট্যাম্প থাকবে না সেখানে আপনি কত টাকার ডিপিএস করেছেন সেটা থাকবে এবং একটা কাগজ মাত্রই। আপনি যখন একটি বীমা পলিসি করবেন তখন আপনাকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বীমা স্ট্যাম্প সম্বলিত একটি দলিল দেওয়া হবে। আর এই দলিলের মধ্যে উল্লেখ থাকবে আপনি কত টাকা জমা দিচ্ছেন এবং বীমার সকল সুযোগ-সুবিধার কথা। কোনো কারনে বীমা প্রতিষ্ঠান টাকা দিতে কৃতি জানালে বা গড়িমসি করিলে এই দলিলে বিপরীতে আইনী আশ্রয় নিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি যে টাকা জমা রাখছেন, টাকা জমা রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বীমা দলিলের মাধ্যমে আপনি নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। ব্যাংক আপনার Deposit টাকা জমা রাখার কারনে কোনই দলিল দিচ্ছে না এটাই কিন্তু ভাববার বিষয়। এই জন্য আমি আপনাকে বলব ব্যাংক একাউন্টের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। ব্যাংকে অবশ্যই Savings Account দরকার যখন-তখন টাকা উত্তোলন করবেন, আপনার চাকুরীর প্রয়োজনে, ব্যবসার প্রয়োজনে। কিন্তু বীমা প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস এর কোনই বিকল্প নাই। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাংক এর ডিপিএস থেকে বীমার ডিপিএস অনেক ভালো। আশা করি আমার আলোচনা থেকে আপনারা বীমার গুরুত্ব অনুাধাবন করতে পেরেছেন। পরবর্তীতে আবার কোন আলোচনা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো সে পর্যন্ত সকলেই সুস্থ্য থাকুন, ভালো থাকুন।          
 


-- ব্লগার Md. Masud Rana এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 1 4 3
আজকের প্রিয় পাঠক
1 4 0 8 0 4 5 5
মোট পাঠক