• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১১:৫৩ অপরাহ্ন

বেশি বেশি বীমা বিক্রয় করতে চান?

বেশি বেশি বীমা বিক্রয় করতে চান?

কি করলে বেশি বেশি বীমা পলিসি বিক্রয় করা যায় এধরনের প্রশ্ন কিন্তু সবার মনেই রয়েছে। মাসের একটা সময় দেখা যাচ্ছে অনেক বীমা বিক্রয় হচ্ছে আবার একটা সময় দেখা যাচ্ছে কোন বীমাই বিক্রয় হচ্ছে না। এক মাস ভাল হচ্ছে অন্য মাসে সেরকম হচ্ছে না, বিক্রয়টা ধরে রাখা যাচ্ছে না। বিক্রয় যদি ঠিকমতো ধরে রাখা না যায় তাহলে আয়ও ধরে রাখা যাবে না। বীমা প্রতিনিধীর মনে যে প্রশ্নটি বেশি থাকে তা হলো এই মাসে আমি বীমা বেশি বিক্রয় করতে পারব কিনা এ নিয়ে হতাশা কাজ করে। আপনি যখন কোন কথা শুনেন তখন আপনি ঐ কথাটি কতটুকু মনে রেখেছেন সেটি নির্ভর করে আপনার মনোযোগের উপর। আমরা অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হই কিন্তু আমাদের সকল মানুষের কথা মনে থাকে না। মনে করেন আপনি কোথাও বেড়াতে গেলেন ঐ রাস্তার সমস্ত বিষয় বা প্রকৃতির দৃশ্য বা কোন ঘটনা যদি ঘটে তার সবটাই কি মনে থাকে। এতো কিছু কিন্তু মনে থাকার কথা নয়। আবার এমন এমন দৃশ্য, বিষয় বা ঘটনার কথা মনে থাকে যা ভুলবার নয়, সারা জীবন মনে থাকে। কোন মানুষের কথা আপনার মনে ধরেছে, তার কাজ আপনার ভাল লেগেছে, তার জন্য মনে নাড়া দিয়েছে মনের মধ্যে একটি জায়গা তৈরি হয়েছে।

এর কারন কি তার জন্য আপনার মনে একটি জায়গার সৃষ্টি হয়েছে। বীমা কর্মীদেরও এমন হতে হবে গ্রাহকের মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তকে খুব গুরুত্বের সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমই শুধু করলে হবে না চেষ্ট করতে হবে খুব গোছালো ভাবে। একটা সময় প্রবাদ ছিল- কঠোর পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই, বর্তমান সময়ে কয়জনে কঠোর পরিশ্রম করে সফল হচ্ছে। সফল হচ্ছে Serious কাজের মাধ্যমে, এই Serious কাজের জন্য কাজকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। গতানুগতিকভাবে কাজ করেই জীবনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। যেনতেন ভাবে বীমা বুঝানো যাবে না। একজন গ্রাহেককে যখন বীমা বুঝানো হয় তখন তিন বলেন, এই মাসে না ঐ মাসে বীমা করব, এভাবে দেখা যায় তিনি আর বীমা করেন না। কারন পরবর্তী মাসে তার আর বীমা করার মন মানসিককতা থাকে না। দেখা যায় ঐ গ্রাহক তার প্রতিবেশী বা আত্নীয় স্বজনের কাছে গিয়ে বলে যে, আমাকে তো বীমা কর্মকর্তা বীমা করাতে এসেছিল।

তখন তার প্রতিবেশী বা আত্নীয় স্বজন বলবে যে তুমি কি বীমার টাকা দিয়ে দিছো? গ্রহাক বলবে না দেই নাই। এরপর প্রতিবেশী বা আত্নীয় স্বজনেরা বলবে তাহলে ভালোই হয়েছে তোমার টাকাটা মাইর যাই নাই। তারা বলে বীমা করলে টাকা পাওয়া যায় না, বীমার টাকা মানুষ মেরে খায় বিভিন্ন অভিযোগ করে বীমা গ্রাহকের মনটা নষ্ট করে দেয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে যে তার পরামর্শ দাতারাও কোন বীমা পলিসি গ্রহণ করে নাই, মানুষের কাছ থেকে শুনে এসব কথা বলে। তাদের থেকে খোঁজ নিলে কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তিকেও দেখাতে পারবে না যাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে। বীমা করানোর ক্ষেত্রে বীমা গ্রহীতার মনের অবস্থা লক্ষ করতে হবে, তার মনের অবস্থা কেমন, তিনি হাসিখুশি আছেন নাকি বেজার রয়েছেন।

কিছু টেকনিক বুঝতে হবে। বীমা গ্রহীতার মনের মধ্যে একটি জায়গা করে নিতে হবে। বীমা গ্রহীতাকে কোন সুযোগ দেওয়া যাবে না, খুব Serious এর সাথে নিতে হবে।

Photo

উদাহানস্বরুপ বলা যায় যারা হাঁস পালেন তারা দেখবেন দিনশেষে হাঁসগুলো খাঁচায় ঢোকে। কিছু হাঁস আছে সহজে খাঁচার মধ্যে আসতে চায় না, খাঁচার বাইরে ঘুরাঘুরি করে তখন জোর করে খাঁচার ভেতর ঢুকাতে হয়। ঠিক তেমনি ভাবে একজন বীমা গ্রহীতা যখন বীমা করি করব বলে বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে একপর্যায়ে জোর করে হলেও বীমা করাতে হবে। বীমা বিক্রয় এই জন্য করাবেন যা তার ভালর জন্যেই।

সে যদি টাকা জমা করে, টাকাটা তারই থাকবে, বিপদের দিনে তারই কাজে আসবে। একটি সময় পরে মুনাফাসহ টাকা ফেরত পেলে উপকারে আসবে। এবং শুধু তাই নয় যদি মারা যায়, গ্রাহকের মৃত্যুতে ঐ পরিমান টাকা পাবে যা দিয়ে তার পরিবার আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। বীমা কোম্পানী থেকে টাকা পেয়ে তাদের পরিবার আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে। আপনার পেশাই হচ্ছে একটি কল্যাণকর পেশা, নিজের ভিতরে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আপনি যে বীমার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রকৃতপক্ষে তার কল্যাণের জন্যই, তার ভালর জন্যই। তাহলে কেন জোর করে বীমা করাবেন না? আপনি যদি দেখেন একটা রাস্তার মধ্যে দিয়ে একটি শিশু হেটে যাচ্ছে এবং বিপরীত দিক থেকে একটা গাড়ী দ্রুত শিশুটির দিকে ছুটে আসছে। তাহলে আপনি কি করবেন বসে থাকবেন, দেখবেন শিশুটি রাস্তা পার হতে পারে কিনা? নাকি তাকে দৌড়ে গিয়ে বাঁচাবেন? আপনি তাকে অবশ্যই বাঁচাবেন, কারন গাড়ীর নিচে পড়ে শিশুটি মারা যেতে পারে।

সে রকম ভাবে বীমার গুরুত্ব মানুষের জীবনে কতটা ব্যাপক সেটা আপনি বুঝেন কিন্তু যিনি বীমা করে নাই তিনি এ সম্পর্কে জানে না । তাহলে আপনি তো জানেন। বীমার কল্যাণটি কি, বীমা করলে গ্রাহক কি সুবিধা পাবেন আপনার দায়িত্ব গ্রাহককে বীমা বুঝানো। আর সঠিকভাবে যদি বীমা বুঝাতে সক্ষম হন, Seriously কাজটিকে নেন তাহলে অনেক বেশি বীমা বিক্রয় করতে পারবেন এতে আপনি সফল হবেন। আপনাকে দিনের শুরুতেই টার্গেট নিতে হবে আজকে কয়টি বীমা বিক্রয় করতে পারব। আজকে একটি বীমা পলিসি বিক্রয় না করে ঘরে ঢুকবো না, আজকে একটি বীমা পলিসি বিক্রয় না ফাইল ক্লোজ করব না, আজকে একটি বীমা পলিসি বিক্রয় না করে দুপুরের খাবার খাব না।

Jhon Fuwman পৃথিবীর একজন বিখ্যাত বীমা বিক্রয় কর্মী তিনি একটি কথা বলেছেন, অনেক রাত আমি পার্কে ঘুমিয়েছে বীমা বিক্রয় না করার কারনে। তিনি তার জীবনীতে আরও বলেন, যে দিন আমি একটা বীমা পলিসিও বিক্রয় করতে পারতাম না আমি বাসায় যেতাম না, যেদিন একটি বীমা পলিসি বিক্রয় করতে পারতাম না রাতের খাবার খেতাম না। তার ভিতরে চ্যালেঞ্জ ‍ছিল কেন আমি বীমা বিক্রয় করতে পারব না, আমাকে প্রতিদিন বীমা বিক্রয় করতে হবে। আপনার ভিতরেও সেরকম জেদ নিয়ে আসেন। গতদিন আপনি যে কয়জন মানুষের সাথে কথা বলেছেন আজ তার চাইতেও বেশি মানুষের সাথে কথা বলেন, তাদেরকে বীমা বুঝান। গতদিনের টেকনিক এর চাইতে আজকের টেকনিকটি বাড়ান, গতদিনের চেয়ে আজকের চেষ্টাটা বাড়ান।

মনের ভেতরে জোর দেন আমাকে পারতেই হবে। প্রতিটি কর্ম পরিকল্পনা খুব গুরুত্বের সাথে নেন। বীমা ক্রেতার মনের মধ্যে যদি আপনি জায়গা করে নিতে পারেন, বীমার প্রকৃত কল্যাণটি যদি তাকে বুঝাতে সক্ষম হন তাহলে আপনার বীমা পলিসি দিন দিন বৃদ্ধি পাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। বীমা বিক্রয়ের কাজটি আরো গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। আর এভাবেই বীমা বিক্রয় বাড়বে এবং আরো বেশি আপনি সফলতা পাবেন।

 


-- ব্লগার Md. Masud Rana এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
9 0 1 2 6
আজকের প্রিয় পাঠক
1 4 0 7 8 6 8 2
মোট পাঠক