• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

বিপদের সময় বীমা মায়ের মতো

বিপদের সময় বীমা মায়ের মতো

বিপদের সময় মায়ের মতো বীমা। বীমার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এই বীমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কিন্তু আমরা বুঝি না্ বিধায় বীমা থেকে অনেক দুরে আছি। কিন্তু বীমার গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা যদি আমরা বুঝতে পারতাম তাহলে আর দুরে থাকতাম না। ছোট বেলা থেকে অনেক কাজ করেছি জেনে না জেনে। অনেক অপরাধ করেছে মায়ের কাছে। মায়ের মনে অনেক কষ্ট দিয়েছি অন্যায় অপরাধ করেছি বিভিন্ন আবদার করেছি না বুঝে। যত বড় অন্যায় করে থাকি না কেন মা মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না। আমরা যদি কোন বিপদে পরি মা কিন্তু সেই বিপদের দিনেও আমাদের পাশে থাকে। তেমনি বীমাও আপনার জীবনে বিপদের সময় একজন মায়ের মতো ভূমিকা পালন করবে। আপনি হয়তো আমার কথা নাও মেনে নিতে পারেন। হয়তো ভাবছেন আমি এসব কি কথা বলি।

একটু চিন্তা করেন আমরা যখন অসুস্থ্য হয়ে যায় বা কোন দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয় তখন আমারা কি ধরনের সমস্যায় পরি। তখন কিন্তু আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পরে যায়, তখন সেই বিপদের দিনে কারা আমাদের পাশে থাকে? আমাদের জীবনে কিন্তু বিভিন্ন ধরনের বাধা আসে। আপনি একজন সম্পদশালী, ব্যবসায়ী হতে পারেন, একজন চাকরীজীজী হতে পারেন। আপনার জীবনে কোন ধরনের সমস্যা হবে না তার কি কোন গ্যারান্টি দিতে পারবেন কখনোই পারবেন না? জীবন মুহূর্তের জন্য থেকে যেতে পারে যদি কোন দূর্ঘটনা বা পঙ্গুত্ব বা মৃত্যু নেমে আসে। আপনার জীবনটা থেকে যাবে, তখন আপনার পরিবার কিভাবে চলবে?

সেই সময় কাজ করবে এই বীমা। আপনি যখন অসুস্থ হয়ে যাবেন বা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হবেন তখন যদি স্বাস্থ্য বীমা না থাকে তাহলে আপনি কিভাবে চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করবেন। এ্ক্ষেত্রে আপনার যদি স্বাস্থ্য বীমা করা থাকে, আবার অঙ্গহানির জন্য পঙ্গুত্ব বীমা করা থাকে তাহলে আপনি এই বীমা থেকে সুবিধা পাবেন। আপনার একটি গাড়ী রয়েছে সেই গাড়ীটি যদি চুরি হয়ে যায় বা দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয় তাহলে বীমা থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরন নিয়ে আবার নতুনভাবে চলতে পারবেন। আপনার মিল ফ্যাক্টরী, কল-কারখানায় যদি অগ্নীকান্ড হয়, বীমা থেকে আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরন নিয়ে আবার পুনরায় চালু করতে পারবেন। বড় যে ব্যাপারটি আপনার যদি জীবন বীমা পলিসি গ্রহণ করা থাকে। যদি প্রতি মাসে 1,00,000/- (এক লক্ষ) টাকার প্রিমিয়াম প্রদান করে থাকেন।

আপনি যদি ভাল ব্যবসা করে থাকেন। আপনি ঋণ সুবিধা পাবেন। পৃথিবীতে যিনি স্বচ্ছল থাকেন আর ঋণ পরিশোধ করবার মতো সামর্থ থাকে তাকেই কিন্তু ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। জীবন বীমাতে টাকা রাখছেন সঞ্চয় করার জন্য এই বীমা থেকেও কিন্তু আপনি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। যেখানে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান আপনাকে লোন দিবে না, আবার ভাববে আপনার লোন পরিশোধ করবার ক্ষমতা নেই। আর বীমাতে আপনার জমাকৃত টাকার উপর ঋণ সুবিধা এবং আপদকালীন সময়ে আর্থিক সুবিধা পাবেন। শুধু তাই নয় আপনার উন্নত জীবনযাপনের জন্য, আপনার সন্তানের উচ্চ শিক্ষার জন্য, তাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলবার জন্য আপনার সন্তানের পিছনে প্রচুর টাকা খরচ হবে, আপনার জীবিত থাকা অবস্তায় তা সম্ভব।

Photo

কিন্তু আপনার অবর্তমানে বা মৃত্যুতে আপনার সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনি কি চাইবেন আপনার সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক, ভবিষ্যত থেমে থাকুক তা নিশ্চয় চাইবেন না।

আপনি যদি আপনার সন্তানের জন্য শিক্ষা বীমা নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার সন্তানের জন্য কোন চিন্তাই করতে হবে না। আপনার যদি মেয়ে সন্তান হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে বড় হলে তাকে বিয়ে দিতে হবে বিয়ের জন্য প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। সেই মেয়ের জন্য আপনি যদি কণ্যা বিবাহ বীমা প্লান নিয়ে থাকেন তাহলে বীমা থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে আপনি আপনার মেয়ের বিবাহে টাকা খরচ করতে পারবেন। সুখের দিনে অনেকেই আপনার বন্ধু হতে আসবে, তখন আপনার আত্মীয়র অভাব হবে না। কিন্তু দুঃখের দিনে, যখন আপনি কোন সমস্যার মধ্যে থাকবেন তখন কিন্তু আপনার নিকট আত্মীয়ও যোগাযোগ বন্ধ করে দিবে। সুখের দিনের বন্ধু বিপদের দিনে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরকম উদাহারন সমাজে অনেক আছে। এই বীমা কিন্তু বিপদের দিনে আপনার পাশে থাকবে। যখন একজন ব্যক্তি মারা যান তখন তার আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কান্নাকাটি করে অনেকেই সমবেদনা জানায়। কিন্তু অর্থনৈতিক ভাবে কেউ সেই পরিবারের জন্য সাহায্য করে না। আপনি নিজের পরিবারের জন্য কি রেখে যাচ্ছেন?

আপনি হয়তো চাকরী করছেন, ব্যবসা করছেন, আপনার পরিবার স্বচ্ছল জীবনযাপন করছে। দৈনন্দিন প্রয়োজন পুরন করতে আপনি সক্ষম হচ্ছেন। আপনি একবার চিন্তা করে দেখুন আপনার অবর্তমানে, আপনি যদি পৃথিবীতে না থাকেন আপনার পরিবার, আপনার সন্তানের জীবন কি একই ভাবে চলবে? তাদের আর্থিক অবস্থা কি একই রকম থাকবে? আপনি একটু চিন্তা করে দেখুন। আপনার অবর্তমানে আপনার পরিবারের জন্য আপনি কোন ব্যবস্থাটি গ্রহণ করেছেন? আপনি সুস্থ্য থাকলে কর্মঠ থাকলে হয়তো তাদের জীবন সুন্দরভাবে চলবে কিন্তু আপনি যদি না থাকেন তাদের জীবন কিভাবে চলবে।

আপনার পরিবারকে আপনার অবর্তমানে আর্থিকভাবে নিরাপত্তা দিতে পারে একমাত্র বীমা। বীমা গ্রহীতারা/গ্রহনকারীরা মারা গেলে বীমা কর্মীরা তাদের পরিবারের কাছে গিয়ে হাজির হয় এবং সেই পরিবারকে নতুন করে বাঁচবার স্বপ্ন দেখায়। একটি পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিটি মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের কান্না পরবর্তীতে স্থায়ী কান্নার রুপ নেয়, কারন অর্থনৈতিকভাবে সেই পরিবারটি ভেঙ্গে পরে। তখন সেই পরিবারের স্ত্রী, সন্তানদের অনেক স্বপ্ন আর পূরণ হয় না। আর যদি তার নামে বীমা থাকে তাহলে তার পরিবারটি সেই অর্থ দিয়ে পরিবারটি সঠিকভাবে চলতে পারে। আপনার সন্তান বলবে আমার বাবা মারা গেছে কিন্তু আমার জন্য ভবিষ্যত গড়ে গেছেন, টাকার জন্য তার পড়ালেখা আর থেমে থাকবে না।

গোটা পরিবারের জন্য, সন্তানদের জন্য সর্বপরি আপনার নিজের জন্য বীমা গ্রহণ করতে হবে। আপনি সারা জীবন কিন্তু একই রকম সামর্থবান, কর্মঠ এবং সুস্থ্য থাকবেন না, আপনাকে বার্ধক্য বরন করতেই হবে। তখন আপনি বার্ধক্য জীবনের জন্য কি করেছেন? বার্ধক্য জীবনের জন্য আপনি একটি পেনশন বীমা গ্রহণ করতে পারেন। পেনশন বীমার মাধ্যমে বার্ধক্য জীবন খুব সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারবেন। এরকম ভাবে বীমার অনেক কল্যাণ রয়েছে। এক একটি বীমার এক এক রকম কল্যাণ রয়েছে। বীমা সম্পর্কে আপনি জানুন বুঝুন, জেনে বুঝে বীমা পলিসি গ্রহণ করুণ। তবেই এই বীমা পলিসি আপনার জীবনে পাশে থাকবে এবং মায়ের ভূমিকা পালন করবে।


-- ব্লগার Md. Masud Rana এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 0 6 2
আজকের প্রিয় পাঠক
1 4 0 8 0 3 7 4
মোট পাঠক