• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

Photo
বাংলাদেশের ইসলামী বীমা

আমাদের দেশের ইসলামী বীমা কোম্পানিগুলো দুই ধরনের বীমাপত্র দেয়।

১. পারিবারিক বীমা : এতে পলিসি হোল্ডার তার পরিবারের ভবিষ্যত আর্থিক নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত হারে প্রিমিয়াম জমা করে। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর তার জমাকৃত টাকা লাভসহ ফেরত পায়। মেয়াদের আগে তার মৃত্যু হলে পরিবার তার জমাকৃত টাকা লাভসহ ফেরত পায়। এবং প্রয়োজনে কোম্পানি তাকে আরো আর্থিক সাহায্য দেয়।

২. সাধারণ বীমা : এটাও পারিবারিক বীমার মতোই। তবে এটি সম্পত্তি ও দায় বীমার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আমাদের দেশের ইসলামী বীমাগুলোর মৌলিক কিছু কার্যক্রম নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

সঞ্চয় : ক. ইসলামী বীমায় শেয়ার হোল্ডার ও পলিসি হোল্ডার সকলেই কোম্পানির অংশীদার। কাজেই শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ ও গ্রাহকদের সমুদয় সঞ্চয়কে মূলধন হিসেবে গণ্য করা হয়।

খ. রিজার্ভ বা ওয়াকফ ফান্ডে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সরকারি, বেসরকারি সাহায্য ও লভ্যাংশের একটি অংশ জমা হবে।

বিনিয়োগ : ক. কোম্পানির সংগৃহীত তহবিল শরিয়ত সম্মত উপায়ে বিনিয়োগ করা হবে। যেমন : মুদারাবা, শিরকত ইত্যাদি।

খ. ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা যাবে না। কেননা এতে ওরফ বা প্রচলনের বিরুদ্ধে বিনিয়োগ করা হবে। যা শরিয়ত সিদ্ধ নয়।

বন্টন : ক. কোনো পলিসি গ্রহীতা যদি মেয়াদ পূর্ণ করেন, তাহলে তিনি তার সঞ্চয়কৃত সমুদয় অর্থ লাভসহ ফেরত পাবেন।

খ. মেয়াদ পূর্ণ করার পূর্বে মারা গেলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে সে বা তার নমিনী জমাকৃত অর্থ লাভসহ পেয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাহায্যও পাবে।

প্রচলিত ইসলামী বীমার সমস্যাগুলো :
প্রচলিত ইসলামী বীমাগুলো তাদের প্রস্পেকটাসে যা উল্লেখ করে, তা শরিয়তসম্মত মনে হলেও তাদের কার্যে তার বাস্তবায়ন খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। নিম্নে কিছু সমস্যা তুলে ধরা হলো :

ক. পারিবারিক বীমা বলে উল্লেখ করলেও মানুষ সেটাকে জীবন বীমা হিসেবেই ধরে নেয়। কাজেই পূর্বে জীবন বীমার বিধানে উল্লিখিত সমস্যাটি এতেও এসে যায়। (গ. মানুষের প্রাণ বা অঙ্গ শরীয়তের দৃষ্টিতে মূল্যমান সমৃদ্ধ কোনো পণ্য নয়। কাজেই তার মূল্য নির্ধারণ শরিয়ত সম্মত নয়। )

কারণ, মানুষের জীবনের বিপরীতে প্রিমিয়াম জমা করা জীবনের মূল্যমান নির্ধারনেরই নাম।

খ. মুদারাবা স্কিমের আওতায় মুনাফাভিত্তিক বিনিয়োগের কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে মুদারাবার শর্তগুলো মানা হয় না। ফলে নামে ভিন্ন হলে কাজে গতানুগতিক বীমাগুলোর মতোই হয়ে থাকে প্রচলিত ইসলামী বীমাগুলো।

গ. ইসলামী বীমায় পলিসি হোল্ডার রাব্বুল মাল (মুদারাবার ক্ষেত্রে) হোক বা মুয়াক্কেল হোক (ওয়াকালার ক্ষেত্রে), তিনি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মতোই কোম্পানির মালিক ধর্তব্য হন। অথচ, শেয়ারহোল্ডারদের মতো তার অভিযোগ, পরামর্শ বা নির্দেশ আমলে আনা হয় না।

ঘ. সুদভিত্তিক বিনিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও কোম্পানির বিনিয়োগ সুদভিত্তিক ব্যাংকে হয়ে থাকে। কিংবা এমন উপায়ে হয়ে থাকে, যা নামে সুদ না হলেও কার্যত সুদই হয়ে থাকে।

ঙ. ইসলামী বীমায় শরিয়াহ বোর্ডের সার্বক্ষণিক তদারকি ও ট্রান্জেকশন বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতার কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, বহু ক্ষেত্রেই শরিয়াহ বোর্ডের কথা সম্পূর্ণ ভাবে উপেক্ষা করা হয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ যারা, তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয় ইসলামী বীমা। শরিয়াহ বোর্ডে যে কজন আলেম থাকেনও, তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

চ. বীমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে বা বড় কোনো ক্ষতি হলে তার জমাকৃত টাকা উত্তোলনে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় তাকে। যা নিছক প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।

ছ. বীমাকারী প্রতিষ্ঠান সম্ভাবনাময় ক্ষতিগুলোকে এমনভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরে যেন তা অবশ্যম্ভাবী। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই সেরকম কিছু ঘটে না। এভাবে মানুষের কাছে আশংকাকে বাস্তবরূপে তুলে ধরে মুনাফা অর্জন করা প্রতারণা বৈ কী?

সারকথা, গ্রাহক টানার জন্য ইসলামী বীমাগুলো যেসব উপায় অবলম্বন করে, সেগুলোও এই কার্যক্রমকে সন্দেহযুক্ত করে ফেলে। এ যেন নতুন বোতলে পুরনো মদ পরিবেশন।

উপসংহার : ইসলামে যে বীমা নিষিদ্ধ তা নয়। তবে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতিটা যদি অনৈসলামিক হয়, তাহলে ইসলাম তার বিরুদ্ধে কথা বলবেই। তাই সর্বসাধারণের কাছে অনুরোধ, বাস্তব অনুসন্ধানের পরই আপনারা বীমা কোম্পানির সাথে যুক্ত হবেন।

আর তা সম্ভব না হলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ফান্ড গড়ে তোলা যেতে পারে। শিল্প, ক্ষুদ্রশিল্প, কুটিরশিল্প, কৃষিকর্ম, চাকুরীজীবি ও শ্রমজীবী মানুষ পর্যন্ত পারস্পরিক সহযোগিতার ফান্ড সম্প্রসারিত করা গেলে কমার্শিয়াল বীমা দ্বারা জনগণের ও অর্থনীতির যে কল্যাণ হয় বলে মনে করা হয়, তা অবশ্যই সহজে অর্জন করা সম্ভব হবে।

প্রচলিত ইসলামী বীমার সমালোচনা আমাদের আলোচ্য প্রবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। বরং, আমাদের উদ্দেশ্য হলো, প্রকৃত ইসলামী বীমার রূপরেখা জনসম্মুখে তুলে ধরা। আল্লাহ আমাদের হিদায়াতের পথে চলার তাওফীক দিন।

তথ্যসূত্র :
১. ফতওয়ায়ে শামী – আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহ.

২. ইমদাদুল ফতওয়া – মাওলানা আশরাফ আলী থানুভী রহ.

৩. ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া – মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রহ.

৪. জাওয়াহিরুল ফিক্বহ – মুফতি শফী রহ.

৫. ইজাহুন নাওয়াদির – মুফতি শাব্বির আহমদ কাসেমী  রহ.

৬. আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল – মাও মু. ইউসুফ লুধিয়ানভী রহ.

৭. জাদীদ ফিকহী মাসায়েল – মুফতি তাকী উসমানী

৮. আহসানুল ফাতওয়া – মুফতি রশীদ সাহেব রহ.

৯. জাদীদ ফিকহী মাসায়েল – মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানী

১০. ইসলামী অর্থনীতির আধুনিক রূপায়ন – মাও. আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া

১১. ব্যাংকিং ও বীমা – মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান

১২. http://www.takaful.coop/

১৩. http://www.islam-qa.com/

১৪. http://www.islamonline.net/


-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 7 8 1
আজকের প্রিয় পাঠক
1 4 0 8 2 0 9 3
মোট পাঠক