• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

Photo
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার মধ্যে পার্থক্য

ব্যবসায়ীরা পুরাতন বা গতানুগতিক ধারায় ব্যবসা গুলো পরিচালনা করেন বিঁধায় তাদের অগ্রগতি ধীরে হয় কিন্তু উদ্যোক্তারা নতুন বা প্রচলিত ব্যবসা্কে গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে ভিন্নভাবে বাস্তবতার সাথে মিল রেখে সহজে ও কমসময়ের মধ্যে বেশী সফলতা পাওয়ার জন্য নতুন পদ্ধতি বা আইডিয়া প্রয়োগ করেন ফলে তারা প্রথমদিকে লাভের মুখ কম দেখলেও তুলনামুলক কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশী সফলতা অর্জন করতে পারেন। সবচাইতে বড় কথা হল ব্যবসায়ীদের সফলতা একমুখী ও সীমাবদ্ধ অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের সফলতার সিঁড়ি বহুমুখী ও অসীম।   
অতএব,ব্যবসায়ী থেকেও উদ্যোক্তা হওয়া শ্রেয়।  

এতক্ষণ আলোচনা করলাম ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা এই দুইটা বিষয় নিয়ে,অর্থাৎ প্রথমত সবাই আমার সাথে একমত হবেন, যেহেতু আমাদের দেশে বিনিয়োগ খুবই কম এবং বিনিয়োগ পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় তাই ব্যবসা করতে হলে কম বিনিয়োগ দিয়েই এমন ব্যবসা করতে হবে যেসব ব্যবসা দিয়ে নিজের অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। কিছু ব্যবসা আছে যা দিয়ে আপনি ভালভাবে চলতে পারবেন কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হবে না আর কিছু ব্যবসা আছে প্রথম দিকে আপনার চলতে কষ্ট হলেও সময়ের সাথে সাথে আপনার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রথম ধরণের ব্যবসায় আপনার মূলধন বেশী লাগবে এবং লোকসানের সম্ভবনা কম আর ২য় ধরণের ব্যবসায় আপনার মূলধন কম বেশী যায় হোক লোকসানের সম্ভবনা বেশী থাকবে এবং সফলতার সম্ভবনাও বেশী থাকবে। মনে রাখবেন বিশাল কিছু পেতে হলে ছোট কিছু ছাড়তে হয়। যেকোন কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বলবে ১ম ধরণের ব্যবসা করাই ভাল কারণ অনেক বেশী নিরাপদ,কিন্তু উদ্যোক্তা মনোভাবের তরুণদের জিজ্ঞেস করলেই ২য় ধরণের ব্যবসা পছন্দ করবে। মনে রাখবেন ভাল কিছু পেতে হলে লোকসান বা ক্ষতির পরিমাণ বেশী থাকে এই ক্ষতির বিষয়টি ভাষা সৈনিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মাথাই থাকলে আজ আমরা বাংলায় কথা বলতে পারতাম না এবং স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পারতাম না। যারা ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজী রেখেছিলেন তারা ক্ষতির কথা চিন্তা না করে বেশী সুফল বা সফলতা পাওয়ার জন্যই জীবন দিয়েছিলেন এবং তারা  পরিবর্তন চেয়েছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন দেশের জনগণ। যদিও বেশিরভাগ মানুষ পৃথিবীতে চিরাচরিত নিয়মকে সহজ নিয়ম মনে করে থাকে বা পরিবর্তনে ভয় পায়,কিন্তু যুগে যুগে আমরা দেখেছি তরুণ উদ্যোক্তারা পুরাতন নিয়ম ভঙ্গ করে নতুন নিয়মের মাধ্যমেই বার বার পজিটিভ পরিবর্তন বা সুফল নিয়ে এসেছে। পৃথিবী পরিবর্তনশীল তাই পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো উচিত,আপনি চিন্তা করছেন ঠিক বলছি নাকি ভুল? যদি পরিবর্তন মেনে না নিতে পারেন তাহলে পরিবর্তনের সুফল তথ্য প্রযুক্তি আপনি কেন ব্যবহার করছেন? আর পরিবর্তন না মানলে আমরা আদিম যুগেই থেকে যেতাম,বর্তমান আধুনিক যুগ আমাদের কাছে কল্পনাতীত থাকত।  

এতক্ষণের আলোচনার পর অনেকেই বলবেন ব্যবসা করতে মূলধন লাগে,আপনার কাছে মূলধন নাই তাই আপনি ব্যবসা করতে চাইলেও পারবেন না অন্যদিকে উদ্যোক্তা হতে হলে রিস্ক নিতে হয় আর আপনি রিস্ক নিতে ভয় পান তাই উদ্যোক্তা হওয়াও সম্ভব না। ঠিক আছে মেনে নিলাম আপনার কথায় যুক্তি আছে। তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন আপনি পড়ালেখা করছেন কেন? উত্তরে বলবেন চাকরি করার জন্য। আরো বলবেন সবাই উদ্যোক্তা হলে উদ্যোক্তাগণ প্রতিষ্ঠানের জন্য চাকরিজীবি কোথায় পাবেন। ঠিক আছে মেনে নিলাম আপনি চাকরি করবেন। কিন্তু সবাই যদি চাকরি করেন তাহলে উদ্যোক্তা হবেন কে? আর উদ্যোক্তাই যদি না থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠান হবে না আবার প্রতিষ্ঠান না থাকলে আপনি চাকরি করবেন কোথায়?এই পৃথিবীতে সবাই ডাক্তার,সবাই ইঞ্জিনিয়ার,সবাই উদ্যোক্তা বা সবাই চাকরিজীবি হবে না এটা সবাই জানি। কিন্তু আপনি আমি উদ্যোক্তা না হলে বর্তমান বেকার সমস্যা দূর হবে কিভাবে?বলবেন সেটা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের একার পক্ষে কখনো এত বেশী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব না। আর তাই দিন দিন বেকার সমস্যা বাড়তে থাকবে আর দেশের তরুণ সমাজ ভাল ভাল ডিগ্রী নিয়ে চাকরীর অভাবে পরিবারের কথা শুনতে শুনতে হতাশ হয়ে কোন একদিন আত্মহত্যা করে নিজের জীবন শেষ করবেন অথবা পথ ভ্রষ্ট হয়ে সন্ত্রাসী,মাদক বা কালোবাজারি হয়ে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে,হ্যাঁ আমি আবার বলছি দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনবে বেকার জনগোষ্টি। এরপরও যদি আপনার সুবুদ্ধি না হয় তাহলে বলব ঠিক আছে আপনি ডিজিটাল দাস হয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেন।  



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , ক্যারিয়ার টিপস

-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
4 2 3
আজকের প্রিয় পাঠক
1 5 3 9 8 9 6 4
মোট পাঠক