• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

Photo
জীবনে বড় হতে হলে স্বপ্নবাজ হওয়া খুবই জরুরী

অনেকে আমার মতের সাথে ভিন্নমত পোষন করতেই পারেন। তারপরও বলি জীবনে বড় হতে হলে স্বপ্নবাজ হওয়া খুবই জরুরী, বাবার টাকায় বড় হওয়া আর শুন্য হাতে স্বপ্ন লালন করে বড় হওয়া ভিন্ন ব্যাপার।

সমাজের শ্রেনী বিভক্তির জায়গা থেকে একটি নিন্মবিত্ত বা মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানকে কতটা বেশী ভাল থাকার অভিনয় করতে হয় তা একমাত্র সেই জানে। আবার সবচেয়ে হতাশার মধ্যে তারাই ডুবে থাকে। সোনার চামচ মুখে নিয়ে যাদের জন্ম নয় তারা যে জীবনে বড় কিছু করবে না তাও কিন্তু নয়। যারা জীবনে বড় হয়েছে তারা তাদের স্বপ্নকে লক্ষ ধরে নিয়েই কাজ করেছে। সেই সাথে পরিশ্রম আর লেগে থাকার বিনিময়ে সফলতাও পেয়েছে। জীবনে বড় হতে হতে হলে অনেক শিক্ষিত হতে হবে এমন কথাও নেই। অনেক সল্প শিক্ষিত ঝরে পড়া ষ্টুডেন্টও জীবনে বড় কিছু করেছে। কারন তাদের স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশের ওপারে।

বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ, স্টিভ জবস – এই তিনজনের মধ্যে দারুন একটা মিল আছে। কোথায় জানেন? তারা তিনজনই ইউনিভার্সিটি ড্রপ আউট স্টুডেন্ট। জাকারবার্গের তাও ব্যাচেলর ডিগ্রি আছে, অন্য ২ জনের তাও নেই। এদের প্রত্যেকের সফলতার পেছনে ছিল জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন।

আন্ড্রু কার্নেগী গরীব ঘরের ছেলে ছিলেন। তিনি একটি খামারে কাজ করতেন। এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে তিনি আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন। হলিউড অভিনেতা ব্রাড পিট প্রথম জীবনে ‘এল পল্লো লোসো’ নামের এক রেস্টুরেন্টে মোরগের ড্রেস পরে হোটেলবয় এর কাজ করতো। টমাস এলভা এডিসনকে ছোটবেলায় সবাই বোকা এবং সেই সাথে গাধাও বলত। তিনি পড়াশোনায় একদমই ভালো ছিলেন না। তবুও তিনি একজন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন। বিস্ময়কর ফুটবলার “মেসি” যে কিনা একসময় নিজের ফুটবলের ট্রেনিং এর খরচ যোগাতে চায়ের  দোকানে কাজ করতেন। অনেকেই জানেন এইসব মানুষের সফল হওয়ার ইতিহাস কিন্তু সবাই মনে করেন এগুলো শুধুই অনুপ্রেরণার গল্প। যা শুধু পড়তেই ভালো লাগে কিন্তু নিজের জীবনে কাজে লাগানো সম্ভব না। অনেকেই বলবেন তখন সুযোগ ছিল এবং প্রতিযোগিতা কম ছিল তাই তারা সফল হয়েছিলেন কিন্তু আজকালতো সেই ধরনের সফলতা দেখা যায় না। আপনি আমি সবাই যদি একই কথা বলতে থাকি তাহলে বর্তমানে সফল হবে কে? আজকে আপনি শুরু করুন দেখবেন ১০-১৫ বছর পর আপনার সফলতার গল্প অন্যরা পড়ছে। যেমনটি শুরু করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ ২০০৪ সালে,মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি আজ বিশ্বের সফল একজন উদ্যোক্তা।  

যখন মোবাইল আবিষ্কার হয় নাই তখন যদি আপনি বলতেন তারবিহীন টেলিফোন অর্থাৎ মোবাইল পকেটে নিয়ে ঘোরে বেড়াবেন তখন আপনি পাগল আর এখন আপনি মোবাইল ব্যবহার না করলে পাগল। আজ থেকে ২০ বছর আগে আপনি কাউকে যদি বলতেন সামাজিক একটা যোগাযোগ মাধ্যম থাকলে সবাই ব্যবহার করত তখন তিনি আপনাকে পাগল ডাকত কিন্তু এখন যদি বলেন আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না তাহলে আপনাকে পাগল ডাকবে। অর্থাৎ আজকে আপনি কোন ভিন্নধর্মী আইডিয়া কারো কাছে বললে আপনাকে পাগল ডাকবে কিন্তু ৪-৫ বছর পর সেই আইডিয়া অন্যকেউ সফল করবে এবং আপনি তা ব্যবহার করবেন আর ব্যবহার না করলে আপনি হবেন পাগল।

এমন অনেকেই যারা ঠিক মত তিন বেলা খেতে পারেন নাই, খুব বেশী পড়াশুনা করতে পারেননি কিন্তু জীবনে স্বপ্ন লালন করতে ভুল করেন নাই এমন উদাহরন আমাদের সমাজেও কম নয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। কিন্তু সেই স্বপ্ন কি শুধু দেখলেই হবে? স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে লেগে পড়ে কাজ করতে হবে। কাজকে ভালবাসতে হবে। ব্যর্থ হলেও থেমে না থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করতে হবে।


-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
3 0 6 9
আজকের প্রিয় পাঠক
1 5 4 0 1 6 1 0
মোট পাঠক