• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ০৬ জুলাই, ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

Photo
৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৪০টিই খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে

দেশে সরকারি, বেসরকরি, বিশেষয়াতি ও বিদেশী মিলে ৫৯টি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এ ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৪০টিই খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। ব্যাংকগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ তদারকির আওতায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আয়ের ওপর ব্যাপক হারে প্রভাব পড়েছে। কেন খেলাপি ঋণ বেড়েছে এ বিষয়ে খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে খেলাপি ঋণ কমানোর নির্দেশনা দিয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ বেশি হলে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঋণঝুঁকি বেড়ে যায়। খেলাপি ঋণ বেশি হলে, ব্যাংকগুলোর বর্ধিত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। আর বর্ধিত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর এক সাথে আয় কমে যায়। অপর দিকে আয় কুলাতে না পারলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়। আর প্রভিশন ঘাটতির পাশাপাশি মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়। আর মূলধন ঘাটতি হলে সামগ্রিক ঝুঁকির মুখে পড়ে যায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এ কারণে দেশের পেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্থাৎ ব্যাসেল ৩ অনুযায়ী কোনো ব্যাংকের খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে এটাকে সহনীয় ধরা হয়। কিন্তু ৫ শতাংশের ওপরে হলেই সেটাকে অসহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জানা গেছে, প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হিসেব সমন্বয় করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো প্রথমে তাদের খেলাপি ঋণের তথ্য প্রতি তিন মাস শেষে পরের এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর দেয়া তথ্যানুযায়ী তা সমন্বয় করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগসহ অন্য বিভাগগুলো তদারকি করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন অনুযায়ী বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাংক সরবরাহকৃত খেলাপি ঋণের তথ্যের সাথে গরমিল দেখা দেয়। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির করে খেলাপিঋণ কম দেখায়। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা বের হয়ে যায়। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বছর শেষে ব্যাংকগুলোর আর্থিক মানদণ্ড নিরূপণ করা হয়। এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় ক্যামেলস রেটিং বলা হয়। আর্থিক সূচকে ব্যাংকগুলোর অবস্থা ভালো না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রতিবেদন করা হয় গত সেপ্টেম্বর-ভিত্তিক তথ্য নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের ৫৯টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে খেলাপি ঋণের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ৪০টি ব্যাংক। এর মধ্যে সরকারি ও বিশেষায়িত ৯ ব্যাংকের মধ্যে ৯টিই খেলাপি ঋণের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। অপর দিকে ৪১টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ২৯টিই খেলাপি ঋণের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আর বিদেশী ৯টি ব্যাংকের মধ্যে দু’টি ঋণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অর্থাৎ আলোচ্য ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে। ঝুঁকির মুখে পড়া ২৯টি বেসরকারি ব্যাংকের কোনো কোনোটির খেলাপি ঋণ ৪০ থেকে ৮৫ শতাংশ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৫ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেনো খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি হলো এবং কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সেবিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হবে। এ বিষয়ে দুই তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠানো হবে। ওই সূত্র জানায়, আলোচিত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তদারকির মধ্যে আনা হয়েছে। যেকোনো উপায়ে আদায় বাড়িয়ে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হবে। একই সাথে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। সূত্র: নয়াদিগন্ত




-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
5 5 0 8
আজকের প্রিয় পাঠক
2 4 2 9 2 8 9 9
মোট পাঠক