• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ৩০ মার্চ, ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

Photo
ইসলামী বীমা মুসলিম সমাজের জন্য কিভাবে উপযোগী

ইসলামী বীমা (তাকাফুল) হলো প্রচলিত গতানুগতিক বীমার বিকল্প। ইসলামের অনুসারীদের বিশ্বাসের অনুপ্রেরণায় এই বীমা ট্রাস্টিশিপ (‘অছি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন) এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা পরস্পরকে সহায়তা করার জন্য আর্থিক দায়দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার নিজস্ব উপায় হিসেবে তাকাফুল পদ্ধতির প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন করছে। তাকাফুল এমন একটি সামাজিক পরিকল্পনা যার মূলনীতি হচ্ছে ভ্রাতৃত্ব, একত্মতা এবং পারস্পারিক সহযোগিতা। এই ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একে অন্যকে আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতে সক্ষম হন। তারা এ জন্য স্বেচ্ছায় নির্ধারিত পরিমাণে অর্থ প্রদান করতে সম্মত হন অনুদান হিসেবে। ব্যক্তি বিশেষের ক্ষতিকে সামষ্টিকভাবে ভাগ করে নেয়ার মূলনীতি থেকে এর উৎসারণ। ইসলামের শিক্ষা, তথা কুরআন ও সুন্নাহ’র ভিত্তিতে তাকাফুল পদ্ধতির উদ্ভব। আল কুরআন বলে, “সৎকর্ম ও ইবাদতের ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করো। ”। (সুরা মায়েদা ৫:২) রাসূল মুহাম্মদ সা. বলেছেন, ঈমানদার বা বিশ্বাসীরা তাদের একের জন্য অন্যের ভালোবাসা, করুণা ও সহানুভূতির কারণে এক দেহের সমতুল্য। আর এই গোটা দেহ অনিদ্রায় ও জ্বরে একইভাবে সাড়া দেয়। ” (মুসলিম)

সাধারণত তাকাফুল বলতে বুঝায় ‘যৌথ নিশ্চয়তা’। এটা একদল মানুষের (অংশীদার) পারস্পারিক সমঝোতা। কোন ঘটনা (ঝুঁকি মোকাবেলা চুক্তির শর্তানুসারে) ঘটলে অংশগ্রহণকারীরা একে অন্যকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার নিশ্চয়তা দিতে সম্মত হন। তাকাফুল চুক্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে অংশীদারদের গঠিত অভিন্ন তহবিল থেকে সাহায্য প্রদান করা। আর তাকাফুলের মূল ভিত্তি হলো- শরীয়াহ সম্মত নয়, এমন কোন কিছুতে সম্পৃক্ত না হওয়া। অর্থাৎ এটা ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের সাথে সমঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত শরীয়াহ তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড বা পরিষদ তাকাফুল কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে থাকেন স্বাধীনভাবে। শরীয়াহর মূলনীতি অনুমোদন করে না, এমন কোন কিছু তাকাফুল পরিচালনাকারীরা করছেন না- এটা নিশ্চিত করা এই বোর্ডের দায়িত্ব।

তাকাফুল ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে লাভের অংশীদারিত্ব। এছাড়া, স্বচ্ছতা তাকাফুল চুক্তিতে একান্ত অপরিহার্য। উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবসা পরিচালনাকারী ও অংশীদারদের চুক্তির নির্ধারিত হার অনুপাতে বণ্টনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তহবিল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং বণ্টন করার মতো উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, এটা নিশ্চিত করার জন্য তাকাফুল কার্যক্রম পরিচালনাকরীদেরকে বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও ন্যায়নীতির সাথে কাজ করতে হয়। এটা সুবিচার ও সুষ্ঠু বণ্টনে সহায়ক। এভাবে অংশীদারদের অধিকার সংরক্ষিত হয় সর্বাধিক।

ইসলামের উত্তরাধিকার আইন মোতাবেক লভ্যাংশ বণ্টনের জন্য তাকাফুল প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের কোন একজনকে মনোনীত করতে হয়। মনোনীত ব্যক্তি কেবল ট্রাস্টি বা অছি হিসেবে তাকাফুলের লাভটা গ্রহণ করেন। একইভাবে, তাকাফুলের বিধিবিধান ইসলামী আইনের প্রাথামিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের উৎসগুলোর ভিত্তিতেই প্রণয়ন করা উচিত। তাকাফুল পরিচালিত হয় শরীয়ার অর্থায়ন পদ্ধতির অনুসরণে। ফলে তাকাফুল রিবা (সুদ) থেকে মুক্ত।

অধিকন্তু, ইসলামী বীমার চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর তা’য়ালার সন্তুষ্টি। ইসলামী ব্যবস্থায় বীমা করার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত অসহায় মানুষকে ভবিষ্যতের অপ্রত্যাশিত ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো, কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব এবং আরামদায়ক জীবন নিশ্চিত করা। আল কুরআনে বলা হয়েছে “আল্লাহ চান তোমরা সহজ জীবন উপভোগ কর। তোমরা দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হও- এটা তিনি কামনা করেন না। ” (২:১৮৫)

দৈনন্দিন জীবনের আচরণ প্রসঙ্গে মুসলমানদের যে বিশ্বাস, তার দ্বারা উদ্ধুদ্ধ হয়ে আমানতদারী ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত সামাজিক একাত্মতা বা সংহতির একটি পদ্ধতি হিসেবে তাকাফুল ব্যবস্থার ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা যায়, হযরত রাসূলুল্লাহ সা. তার তরুণ বয়সে আম (সর্ব সাধারণ) সাহায্য তহবিল গঠন করেছিলেন। পথিমধ্যে হামলাসহ নানান ঝুঁকির কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান হতো। তাদরকে সাহায্য ও রক্ষা করাই ছিল এই তহবিলের উদ্দেশ্য। রাসূল সা. নিজে ছিলেন ইয়াতিম। প্রথমে পিতামাতা ও পরে পিতৃব্য তাকে লালন-পালন করেছেন। পারস্পারিক সহায়তায় তহবিল গড়ে তুলে তার অর্থে অসহায় ও ইয়াতিমদের সাহায্য করা যে প্রয়োজন, তা মুসলমানদের জানা আছে। এসব মূলনীতির ভিত্তিতে মুসলিম মনিষীগণ প্রাণহানি, অসুস্থতা ও অন্যান্য সম্ভাব্য ও অজানা বিপদ মোকাবেলায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক রক্ষাকবচের ইসলামী পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন। মানবজাতির কল্যাণই ইসলামের লক্ষ্য। ইসলাম চায়, মহান স্রষ্টার আকাঙ্খা অনুযায়ী মানুষ জীবন পরিচালনা করুক। সর্বদাই মানবিক সম্পর্কের মাঝে নৈতিকতা প্রবিষ্ট করতে চায় ইসলাম। ইসলামী সমাজের মহান আদর্শের সাথে তাকাফুল ব্যবস্থা তাই পুরোপুরি খাপ খেয়ে যায়।
এম,এম,ফুরকান


-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 1 0 8 8
আজকের প্রিয় পাঠক
2 0 9 2 1 3 9 1
মোট পাঠক