• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ২৭ মে, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

Photo
সফল নেতৃত্বের উদাহরণ

এ বিশ্বের সবচেয়ে সফল নেতৃত্বের উদাহরণ হচ্ছেন ইসলামের শেষ নবী মোহাম্মদ (স:)। নেতৃত্বের ইতিহাসে তাঁর সমান অবস্থায় পৌঁছতে পেরেছেন এমন অন্য কোন ব্যক্তি মানবজাতির ইতিহাসে পাওয়া যায় না। কিভাবে মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হয় এবং নেতৃত্ব বিষয়ক আধুনিক বিশ্বের লেখকদের সকল বই পুস্তক পড়লে দেখা যায় সেগুলাতে নবীজির নেতৃত্বের গুণাবলীর কথাই বলা হয়েছে। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় নেতা এবং মানবতার জন্য মডেল। একটি জাহেলী সমাজের মানুষকে তিনি পরিচালিত করেছেন,অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সর্বোত্তম ডিসিপ্লিন শিখিয়েছেন। আর সে সমাজের অবস্থা এমন ছিল যখন মেয়েদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হত, অধিকাংশ মানুষেরা ছিল নিরক্ষর,অশিক্ষিত, যারা একে অন্যকে হত্যা করত তুচ্ছ কারণে। সেই বর্বর চরিত্রের জন গুষ্টিকে কিভাবে মোহাম্মদ (স:) সক্ষম হন ইসলামের পথে অনুপ্রাণিত করতে। তিনি সম্পূর্ণ নেতিবাচক একটি সমাজকে ইতিবাচক সমাজে পরিবর্তন করে একটি সভ্যতার সৃষ্টি করেন যা অর্ধেক পৃথিবীকে দীর্ঘদিন শাসন করেছে।

ইসলামী নেতৃত্বের মডেল বোঝার জন্য আমাদের প্রিয় নবীর জীবন, বিশেষ করে নেতা হিসেবে তাঁর নিজের ও তাঁর সহচারী তথা সাহাবীদের নেতৃত্বের গুণাবলী পরীক্ষা করলে দেখা যায় তাঁরা:

১) মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করেছেন।
২) অনুগামীদের প্রতি ছিল তাদের অফুরন্ত ভালবাসা ও উদারতা এবং প্রচুর দরদ।
৩) পরস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সর্বদা ছিল অটুট।
৪ তাঁরা ছিলেন একে অন্যের বিশ্বাসী ও আস্থা ভাজন।
৫) পরামর্শের দরজা ছিল সর্বদা উন্মুক্ত তাদের কাছে ।
৬) অন্যের স্বার্থে তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করেছেন।
৭) তাদের ছিল দায়িত্ব বোধ এবং আল্লাহর উপর অটল বিশ্বাস।
৮) তাঁদের ছিল খোলা মন
৯) তাঁদের ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা
১০) মানুষের সমস্যা বুঝার ক্ষমতা
১১) যোগাযোগ দক্ষতা (Communication skills )
১২) সু-দূরদর্শী ও পরিকল্পনাকারী (Farsighted and Planning )
১৩) প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ও আমানতের খেয়ানত না করা।
১৪) জবাবদিহিতার নেতৃত্ব।
১৫) কখনও তাঁরা প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিলেন না।

নেতা হিসাবে বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সময়ে প্রিয় নবী মোহাম্মদ (স:) এর নিকট ওহির মধ্যামে আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিন কিভাবে নির্দিশ দিয়েছেন তার এক অসাধারন র্ব্ননা পাবেন নিম্নের ভিডিও আলোচনায়।

অপর দিকে ধর্মনিরপেক্ষ বা সেকুলার নেতৃত্বের উদ্দেশ্য নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা. নিজের স্বার্থ রক্ষা,খ্যাতি অর্জন (রিয়া) ও বস্তুবাদ। সেকুলারদের কাছে দুনিয়ার জীবনের স্বার্থটাই বড়। ইসলামি নেতৃত্ব এর লক্ষ্য সমাজের সবার স্বার্থে কাজ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান লাভ করা।

ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে সেকুলার নেতৃত্ব মানুষকে ধোকা ও মিথ্যা ওয়াদা বা কৃত্রিম সমস্যার ভয় দেখিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন করলেও মানুষের কোন কল্যাণ আসেনা তখন মুষ্টিমেয় কিছু লোক লাভবান হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন আসে না। তাই দেখা যায় এমন নেতৃত্বের পিছনে ছুটে গিয়ে অনেক জনগুষ্টি উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় পড়ে।

অতএব, উপরুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে মুসলিম বিশ্বে ইসলামী নেতৃত্ব গড়তে পারলে মুসলিম বিশ্বে শান্তি ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , মোটিভেশন

-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
9 9 9 9
আজকের প্রিয় পাঠক
2 2 9 7 4 9 7 5
মোট পাঠক