• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ৩০ মার্চ, ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

Photo
জীবন বীমা ক্রয় করার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার প্রয়োজন সম্পর্কে

আপনার বয়স কত কিংবা জীবনের কোন পর্যায়ে আপনি রয়েছেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আপনি জীবনে যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে আপনি কতটুকু ভেবে দেখেছেন? জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে এই জানাটা অত্যন্ত জরুরি। যেমন ধরুন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাকে জানতে হয়েছে কিভাবে ব্যস্ত রাস্তা পার হতে হয় কিংবা ব্যবসা শুরু করার আগে জানতে হয়েছে কোথায় আপনি বিনিয়োগ করবেন, বিনিয়োগটা কিভাবে উঠে আসবে। ঠিক এভাবে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বেশ কিছু বিষয়ে আপনাকে ভালোভাবে জেনে নিতে হয়েছে। জীবন বীমাও ঠিক তেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই জীবন বীমা কেনার আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই আপনার জানা ও ভেবে দেখা প্রয়োজন।

জীবন বীমা আপনার ভবিষ্যতের বন্ধু, যার ওপর আপনি বিপদের সময়ে আস্থা রাখতে পারবেন, অন্য কথায় এটি হতে পারে একই সঙ্গে সাশ্রয়, সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। তাই দুনিয়াজুড়ে দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে জীবন বীমার চাহিদা। আমাদের সবারই লক্ষ্য রয়েছে নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা আর এ ক্ষেত্রে এটি হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। জীবন বীমা অনেক ধরনেরই হতে পারে। জীবনের অন্যান্য বিষয়ের মতো বিভিন্ন ধরনের জীবন বীমা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। যেমন—দুর্ঘটনা ও চিকিৎসাজনিত বীমা, সন্তানের শিক্ষার জন্য বীমা, অবসরগ্রহণজনিত বীমা ইত্যাদি। আবার রয়েছে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদিসহ নির্দিষ্ট নানা মেয়াদের জীবন বীমা। কোন ধরনের জীবন বীমা আপনার চাহিদা আর সাধ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা শুধু না জানার কারণেই বেশির ভাগ মানুষ তার প্রয়োজন অনুযায়ী জীবন বীমা করতে পারে না বা ভুল বীমা কেনে। ফলে অনেকেরই প্রয়োজনীয় বা সঠিক পলিসি গ্রহণ না করার কারণে একপর্যায়ে জীবন বীমা সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। তাই জীবন বীমার সম্পূর্ণ সুবিধা পেতে যে বিষয়গুলো জেনে নেওয়া জরুরি তা হলো—

নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার প্রয়োজন সম্পর্কে : জীবন বীমা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করুন কী উদ্দেশ্যে বীমাটি আপনি কিনতে চাচ্ছেন। বীমা করার আগে আপনাকে জানতে হবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এবং আপনি আপনার বীমার অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতে কী করতে চাচ্ছেন সে সম্পর্কে। আপনি মাসিক ভিত্তিতে কত টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে প্রদান করতে পারবেন তার ওপর ভিত্তি করে আপনার বীমা পলিসি গ্রহণ করা উচিত। যেমন—কেউ যদি তাঁর সন্তানের শিক্ষাজীবন সুনিশ্চিত করতে চান, তবে তাঁকে শিক্ষাজনিত বীমা নিতে হবে। ঠিক এভাবেই প্রয়োজন অনুযায়ী বীমা পলিসি প্রহণ করা উচিত।

যে বীমাটি নিতে চাচ্ছেন সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন : যদি আপনি এরই মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে কোনো বীমা পলিসি গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেটি যথাযথভাবে পরিচালনা করুন। যদি নতুন পলিসি কিনতে চান, তবে আপনার নির্বাচিত কম্পানির ফিন্যানশিয়াল অ্যাসোসিয়েটের কাছ থেকে পলিসিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। এমনও হতে পারে, যে নতুন পলিসিটি আপনি নিতে চাচ্ছেন তা হয়তো আপনার জন্য উপযুক্ত নয় কিংবা আপনার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কোনো পলিসি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে। কিংবা আপনার বর্তমান পলিসির সঙ্গে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা যোগ করেই পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত সমাধান।

নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার প্রিমিয়াম প্রদান সম্পর্কে : যেকোনো ধরনের বীমা কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি নিয়মিত সময়ে প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন কি না। প্রিমিয়াম পরিশোধের সময়ান্তর হতে পারে মাসিক,  ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক কিংবা বার্ষিক। এটা জেনে নেওয়া দরকার, যাতে আপনি বাধাহীনভাবে নিয়মিত এবং সময়মতো প্রিমিয়াম প্রদান সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা করতে পারেন। প্রিমিয়াম প্রদান করার পন্থাগুলো সম্পর্কেও ভালোভাবে জেনে নিতে হবে, দেখতে হবে যেন প্রিমিয়াম প্রদান করার প্রক্রিয়াটি আপনার জন্য সহজ ও সাবলীল হয়।

কেনার আগে সুবিধা ও বোনাস সম্পর্কে জেনে নিন : আগেই বলেছি, যে জীবন বীমাটি কিনতে চাচ্ছেন তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। সেই সঙ্গে ভালোভাবে জেনে নিন এর সুবিধা ও বোনাস সম্পর্কে। আপনার জন্য কোন পলিসিটি সুবিধাজনক হবে, প্রিমিয়াম হিসেবে আপনাকে কত টাকা দিতে হবে, ওই নির্দিষ্ট পলিসি থেকে আপনি কী কী সুবিধা পাবেন, অতিরিক্ত কোনো সুবিধা যোগ করা সম্ভব কি না, লোন পাওয়া যাবে কি না, কী রকম বোনাস পাবেন, কয়টি বোনাস পাবেন, কত বছর মেয়াদি করলে ভালো হয় (যেমন—সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে যে কম বয়সে দীর্ঘ মেয়াদে বীমা করলে এবং নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদান করলে তা থেকে মেয়াদান্তে অপেক্ষাকৃত বেশি রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে) এবং কত দিনের মাথায় আপনি বীমা সুবিধা পাওয়া শুরু করবেন, বীমা পলিসি পরিবর্তন করতে হলে করণীয় এবং বীমা না চালাতে চাইলে কী করবেন ইত্যাদি। কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রিমিয়াম পরিশোধ করা বন্ধ করে দেন, তবে আপনি নির্দিষ্ট কী পরিমাণ অর্থ পাবেন ইত্যাদি। তাই বীমা পলিসি কেনার আগে এ বিষয়গুলোতে আপনার স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। ভালোভাবে জানার জন্য প্রয়োজনে দু-একটি কম্পানির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেও দেখতে পারেন কোন বীমাটি আপনার জন্য সুবিধাজনক।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপনার পলিসি সম্পর্কে জানুন : আপনার বীমাটি সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জানুন। আপনার পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়ে গেলে কিংবা আপনার আয় পরিবর্তন হলে আপনি কি আপনার বর্তমানের বীমা পলিসিটির সঙ্গে আরো কোনো বীমা (শিক্ষা বীমা, অসুস্থতা সম্পর্কিত বীমা ইত্যাদি) কিনতে চান কি না অথবা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা যোগ করতে চান কি না তা ভেবে দেখুন। এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে আপনার বীমা প্রতিনিধির সহায়তা নিন এবং নিয়মিতভাবে আপনার পলিসি পর্যবেক্ষণ করুন।

বীমা পলিসি কেনার আগে আপনি কথা বলে নিতে পারেন জীবন বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধির সঙ্গে। আমাদের দেশে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা সুবিধা দিচ্ছে। তবে কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন ওই বীমা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে, সেই সঙ্গে বিস্তারিত জেনে নিন আপনার পলিসি, প্রিমিয়াম ও বীমা সুবিধা সম্পর্কেও।


-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 1 8 8 9
আজকের প্রিয় পাঠক
2 0 9 2 2 1 9 2
মোট পাঠক