• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ সোমবার | ৩০ মার্চ, ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

Photo
বীমা পেশায় বঙ্গবন্ধু ও বীমা দিবসের গুরুত্ব

জাহাঙ্গীর হোসেনঃ প্রথমেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে বিণম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। গত ১ মার্চ, ২০২০ ইং তারিখ প্রথমবারের মতো সারাদেশব্যাপী জাতীয় বীমা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দেশের বীমা শিল্পের প্রচার ও প্রসারের জন্য জাতীয় বীমা দিবস এর প্রবর্তন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, তাই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমরা সবাই জানি, ১ মার্চ বীমা দিবস। কিন্তু ১ মার্চ কেন বীমা দিবস এবিষয়টি যদি আমরা না জানি, তবে একটি ইতিহাস আমাদের অজানা থেকে যাবে। আপনারা অনেকেই অবগত আছেন-আবার অনেকেই জানেন না যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা কোম্পানীতে কাজ করেছেন। ইতিহাসের পাতায় সোনালী হরফে লেখা আছে, বঙ্গবন্ধু ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে যোগদান করেছিলেন। এটার সঙ্গে ঐতিহাসিক দিনের একটা সংযোগ আছে। তাই বঙ্গবন্ধুর বীমা কোম্পানীতে চাকরিতে যোগদানের তারিখ, অর্থাৎ ১ মার্চকে ‘‘বীমা দিবস’’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বীমা পেশাজীবিরা আজ আনন্দিত দুটি কারনে, এক-বঙ্গবন্ধু যে পেশায় কর্মরত ছিলেন, আমরাও সেই পেশায় নিয়োজিত আছি। দুই-জাতীয়ভাবে বীমা দিবস ঘোষণা করা অর্থ বীমা পেশাকে অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। তাই এ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা এবং বীমা দিবসের গুরুত্ব জনগনের কাছে তুলে ধরা আমাদের সকলের জন্য গুরুদায়িত্ব।

বীমা এদেশের একটি সম্ভাবনাময় ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর দেশীয় বীমা শিল্প সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ন্যাশনালাইজেশন অর্ডার ১৯৭২, দ্যা ইনস্যুরেন্স কো-অপারেশন অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর মতো বীমা সংশ্লিষ্ট মৌলিক আইন প্রণীত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এখাতের ব্যপকতা বৃদ্ধি এবং জনগনের মধ্যে বীমা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে বর্তমান সরকার এর আগে বীমা মেলার আয়োজন, দেশব্যাপী বীমা সম্পর্কিত সভা, সেমিনার, শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। একার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে বীমার বিস্তৃতি, জনসম্পৃক্ততা তথা জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৪ সালে প্রণীত জাতীয় বীমা নীতিতেও জাতীয় বীমা দিবস পালনের কথা বলা হয়েছে।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বীমা খাত। বাংলাদেশে ৪৬টি সাধারণ ও ৩২টি জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে। বীমা প্রিমিয়ামের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের ৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম। এর মধ্যে জীবন বীমায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫২ এবং সাধারণ বীমায় ৮৫তম। মোট বীমা প্রিমিয়ামে বাংলাদেশের শেয়ার ০.০৪ শতাংশ। এশিয়ায় জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা দুই দিক থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছে জাপান ও চীন। বিশ্বে গড়ে মাথাপিছু বীমা প্রিমিয়াম ৬৩৮.৫০ ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু বীমা প্রিমিয়াম ২.৭০ ডলার। বৈশ্বিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বীমাশিল্পে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান ৪ শতাংশ। অথচ আমাদের দেশে জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর কারণ বাংলাদেশে বীমা খাত অত্যান্ত অবহেলিত ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী বীমার গুরুত্ব বাড়ছে। সাথে সাথে বাংলাদেশেও বাড়ছে বীমার প্রতি আগ্রহ।

ইতিপূর্বে এদেশে বীমা খাত নিয়ে সরকার কখনো তেমন কোনো গুরুত্ব দেননি। তবে বর্তমান সরকার বীমার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বীমা খাত উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বীমা শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১০ সালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়ন করে এবং ২০১১ সালে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে এবং বীমা আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছে।  

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীমা খাতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের বাস্তবায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুঁজিবাজারে বীমা খাতের অবদান বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন। বর্তমান সরকার দেশে পাইলট প্রকল্প হিসাবে স্বাস্থ্য বীমা ও শস্য বীমা চালু করেছে, ভবিষ্যতে যা সারা দেশব্যাপি বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া সম্প্রতি চালু হওয়া প্রবাসী কল্যাণ বীমা ও গার্মেন্টস কর্মীদের বীমা চালুর মত প্রকল্পগুলো অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান বাড়াচ্ছে। এছাড়া বেসরকারী চাকুরীজীবিদের জন্য সরকারের পেনশন বীমা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বীমা খাত দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দিন দিন অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান বাড়ছে। এটি সত্য যে, দেশের বেশিরভাগ মানুষের বীমা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারনা নেই। আবার অনেকের মধ্যে বীমা সম্পর্কে ভুল ধারণা আছে। বীমা শিল্পের বিকাশে এ থেকে উত্তরণ দরকার। এই নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনের জন্য আমাদের আরো কাজ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, মানুষ বীমার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হচ্ছে এবং বিভিন্ন বীমা পলিসির গুরুত্ব¡সম্পর্কে তারা জানতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি সরকারের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সকল বীমা কোম্পানীর গ্রাহক ডাটা সফটওয়্যার অটোমেশন পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সকল কোম্পানীর গ্রাহকদের কাছে এস.এম.এস প্রেরণ ও নিয়ন্ত্রণের যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে তা অবশ্যই বীমা সেক্টরের প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে। নতুন বীমা আইন প্রণয়ন এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই শিল্পে অনেক বেশি শৃঙ্খলা এসেছে এবং গতি বেড়েছে। অনুকূল পরিবেশ ও সবার সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই শিল্পের কার্যকর বিকাশ সম্ভব।

বর্তমান সরকার বীমা সেক্টরকে এতো বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে যে, এতোদিন ১ মার্চ ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হলেও বীমা দিবস পালনের জন্য তা ২ মার্চ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে আমরা যারা এ পেশার সাথে জড়িত তাদেরকেও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে সাধারন মানুষের দ্বোর- গোঁড়ায় বীমার সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। মানুষের মনে বীমার প্রতি আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। দ্রুত গ্রাহক সেবা প্রদান অর্থাৎ সঠিকভাবে দ্রুততম সময়ে গ্রাহকদের বীমা দাবী প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

বীমা মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি গ্রহণ ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে। তাই সকলে নিজের, পরিবারের ও সম্পদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বীমা করুন। অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। দেশের এই অগ্রযাত্রায় আমরাও শামিল আছি। তাই বীমা দিবসের শ্লোগান ধ্বনিত হোক আমাদের সকলের মুখে ও অন্তরে ‘‘বীমা দিবসে শপথ করি-উন্নত দেশ গড়ি’’।

জাহাঙ্গীর হোসেন
উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক
প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , বীমা সচেতনতা

-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 0 9 2 6
আজকের প্রিয় পাঠক
2 0 9 2 1 2 2 9
মোট পাঠক