• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ মঙ্গলবার | ০৭ জুলাই, ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১০:৩২ অপরাহ্ন

Photo
নেতৃত্ব প্রদানে যোগ্য সমালোচক হওয়া প্রয়োজন

যে কোন মানুষের ব্যক্তি জীবনে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বা কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে যোগ্য সমালোচক হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই মনে করতে পারেন এমনিতেই প্রতিদিনের নিত্য সঙ্গী চারিপার্শের শত শত বিষয়ের সমালোচনা, নতুন করে আবার সমালোচনা শেখার দরকার কী? ঠিক এই জায়গাতেই আমার আলোচ্য বিষয়বস্তুর উদয়।

আমি অনেক সময় সমালোচনার ঘোর বিরোধী হলেও, এখন সমালোচনা করবার কথাই বলছি। কারণ একমাত্র সমালোচনাই পারে সত্য মিথ্যা, সঠিক ও ভূলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এমন অনেক সমালোচক কে দেখতে পাই যারা কথা, ঘটনা বা পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রকৃত বিশ্লেষণ না করেই নিজের জ্ঞানের পরিধি জাহির করতে তৎপর হয়ে ওঠেন। এর ভল স্বরূপ বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে।

ইসলাম কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে সমালোচনার অধিকার দেয়নি। আপনি যে অবস্থানেই থাকেন যদি সমালোচনা করতেই হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনার মাধ্যেমে নেতৃত্ব প্রদান করেন। কিন্তু কারো ব্যক্তিগত বিষয় বা যোগ্যতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য থেকে আমাদের সকলের বিরত থাকা উচিৎ।

আমার যৎকিঞ্চিৎ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, নেতৃত্ব প্রদানে যোগ্য সমালোচক হতে হলে একজন সমালোচকের কিছু জ্ঞান অপরিহার্য তা হলো—

প্রথমেই বলবো সমালোচকের সঠিক অবস্থান, বক্তব্য ও মূলনীতি নির্ণয়ের যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। যেন সে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ করে না ফেলে। এই পরিমাণ জ্ঞান না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার অনুমতি নেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান অবতীর্ণ হয়েছে, যা আপনার কাছে নেই। সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন। আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাব। ’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৩)

কোন সাধারণ ব্যক্তি, জ্ঞানী মানুষের কথায় সমালোচনা করবেন না; বরং তাঁর কাজ বোধগম্য না হলে প্রশ্ন করে বুঝে নিবেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৩)

শুধু সাধারণ মানুষই জ্ঞানী মানুষের কথায় সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে এমন নয়, বরং যেসব ব্যক্তি জ্ঞানে পারদর্শী নয় অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে না তারাও অন্যদের কাজের সমালোচনা করবেন না। জ্ঞানে, গুণে ও সততায় যারা মানুষের শ্রদ্ধাভাজন তাদের কোনো কাজ বুঝে না এলে তাদের কাছ থেকে বুঝে নিবেন। বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার কথায় অনুসরণ করবেন।

নেতৃত্ব প্রদানে সমালোচকে নিজের অর্জিত জ্ঞানের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে পুনঃ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত দলিল-প্রমাণ একত্র করার পর তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করবেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো কিছুর পেছনে লেগে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ, তোমরাই তো সেসব লোক, যে বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞান আছে সে বিষয়ে তোমরা তর্ক করেছ, তবে যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কেন তোমরা তর্ক করছ। আল্লাহই ভালো জানেন, তোমরা জানো না। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৬৬)

পরিশেষে বলতে চাই, আল্লাহ তাআলা জ্ঞানহীন ও অপর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া উভয় শ্রেণির মানুষের নিন্দা করেছেন। তাই, আমার আহব্বান রইলো আমরা আমাদের কথার প্রতি যত্নশীল হয়ে, যোগ্য সমালোচক হিসাবে ব্যক্তি জীবনে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করি।

মোঃ মাহমুদুল ইসলাম।
বীমা পরামর্শক ও প্রশিক্ষক
ইমেইল : mahmud.adviser@gmail.com
ওয়েব : www.insurancebd.news




-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 4 3 1 8
আজকের প্রিয় পাঠক
2 4 3 3 8 6 1 9
মোট পাঠক