• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ মঙ্গলবার | ১৪ জুলাই, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

Photo
কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার উপায় ,পার্ট -৩

একজন কোম্পানি সেক্রেটারির কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে?
কোম্পানি সচিব হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে ইংরেজীতে অত্যন্ত দক্ষ হতে হবে । একাডেমিক ডিগ্রী হিসেবে ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, অর্থনীতি, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, ফাইন্যান্স অথবা গণিতের উপর স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ধারীরা এ পেশায় ভালো করে থাকেন । পৃথিবীতে অনেক দেশে কোম্পানি সচিব হিসেবে তালিকাভূক্ত কোম্পানীতে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ‘চার্টার্ড সেক্রেটারি’ ডিগ্রী অর্জন করতে হয়।

একজন কোম্পানি সেক্রেটারির কী ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?
এন্ট্রি লেভেলের একজন কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে যেকোন কোম্পানিতে যোগদান করার পূর্বে, আপনাকে কম্পিউটার চালনা এবং ইংরেজীতে ভালো দক্ষতার পাশাপাশি অডিট, ফাইন্যান্স, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, গণিত অথবা রিপোর্ট অ্যানালাইসিসের উপর কমপক্ষে ২ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো হয়। যদিও প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিভেদে এই অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

একজন কোম্পানি সেক্রেটারির বেতন কেমন হতে পারে?
এন্ট্রি লেভেলের একজন কোম্পানি সেক্রেটারির বাৎসরিক বেতন ৭ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কোম্পানি সচিবের পাশাপাশি অন্যান্য দায়ীত্ব পালন করলে কাজের ধরণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতনের ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়।

কিভাবে ‘চার্টার্ড সেক্রেটারি’ ডিগ্রী অর্জন করব ?
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করছে। তাই চার্টার্ড সেক্রেটারি একটি সুপরিচিত ও গ্রহনযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা হিসেবে ইতোমধ্যেই কর্পোরেট হাউস গুলোতে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। বর্তমানে চাকরিরত এবং চাকরিপ্রার্থী উভয়ের জন্য এ প্রফেশনাল কোর্সটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। চার্টার্ড সেক্রেটারিশীপ আপনাকে কর্মরত প্রতিষ্ঠানে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক চাকরির সুযোগ করে দেবে। তা হতে পারে কোম্পানি সেক্রেটারি/ডেপুটি কোম্পানি সেক্রেটারি/এসিস্ট্যান্ট কোম্পানি সেক্রেটারি/কর্পোরেট ম্যানেজার বা এর সম মর্যাদাসম্পন্ন। একজন দক্ষ চার্টার্ড সেক্রেটারি উচ্চতর প্রারম্ভিক বেতনে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম।

চার্টার্ড সেক্রেটারি ডিগ্রী অর্জনের পূর্বশর্ত কী কী ?
ভর্তির যোগ্যতা: এ কোর্সটি করতে চাইলে আপনাকে বাণিজ্য শাখায় ন্যূনতম স্নাতক (বিকম/বিকম-অনার্স/ বিবিএ/এমবিএ) ডিগ্রি এবং কমপক্ষে ৬ পয়েন্টের অধিকারী হতে হবে।

ভর্তির সময়: বছরে ২ বার যথাক্রমে ডিসেম্বর ও জুন মাসে ভর্তি হওয়া যায়। বছরে ২টি সেমিস্টার; যা জানুয়ারি থেকে জুন এবং জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদি।

শিক্ষা পদ্ধতি: কমার্স গ্রেজুয়েটদের জন্য ২ বছর ৬ মাস মেয়াদি কোর্সটি মোট ৫টি সেমিস্টারে বিভক্ত। প্রথম ৩টি  সেমিস্টারকে বলা হয় এক্সিকিউটিভ লেভেল এবং শেষ ২ সেমিস্টারকে বলা হয় প্রফেশনাল। প্রতিটি সেমিস্টার ৬  মাসের। কিন্তু, নন-কমার্স গ্রেজুয়েট হলে তাদেরকে শুরুতেই ‘ফাউন্ডেশন লেভেল’ নামে অতিরিক্ত একটি সেমিস্টার পাশ করে নিজেদের দক্ষতার প্রমান দিতে হয়।

কোর্সের বিষয়: কমার্স গ্রেজুয়েট হলে ৫টি লেভেলে মোট ১৮০০ মার্কের পরীক্ষা দিতে হয় ।
একজিকিউটিভ লেভেল–I অর্থাৎ ১ম সেমিস্টারের বিষয়গুলো হল- HRM & Industrial Relations, General & Commercial Laws, Corporate Accounting।
একজিকিউটিভ লেভেল-II অর্থাৎ দ্বিতীয় সেমিস্টারের সাবজেক্ট: Corporate Communication and Report Writing, Direct & Indirect Tax Laws, Economic Laws & WTO।
একজিকিউটিভ লেভেল-III অর্থাৎ তৃতীয় সেমিস্টারের বিষয়গু: Company Law and Practice, Company Secretarial Practice, Information Technology & Management Accounting, Bankling, NBFI and Insurance Laws & Practice।

প্রফেশনাল সেমিস্টার্-I&II: প্রফেশনাল ২ সেমিস্টার বা গ্রুপে ৪টি করে মোট ৮টি কোর্স। এ ৮টি বিষয় হচ্ছে – Advanced Company Law and Practice, Corporate Financial Management, Corporate Governance, Corporate Administration & Corporate Tax, Corporate Secretaryship, Strategic and Operations Management, Securities Laws & Capital Marke, Secretarial, Management and Systems Audit।

ইন্টার্নশিপ: আড়াই বছরের চার্টার্ড সেক্রেটারিশিপ কোর্স সম্পন্নকারীদের ৩ মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ করতে হয়। এ ইন্টার্নশিপের ব্যাপারে ইনস্টিটিউট থেকে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হয়।

শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বহুজাতিক কোম্পানির পরিচালক, সিনিয়র কোম্পানি সেক্রেটারি, সিনিয়র ম্যানেজার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, বিভিন্ন ইনস্টিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ।

শিক্ষা ব্যয়: ভর্তির সময় রেজিষ্ট্রেশন, সেশন চার্জ, লাইব্রেরি কার্ড, কোচিং ফি সব মিলিয়ে ২০,৬৫০/= টাকা লাগবে। ভর্তির আবেদন পত্র ও স্টুডেন্টস হ্যান্ড বুকের মূল্য ১০০০.০০ টাকা। একজিকিউটিভ লেভেল পর্যায়ের ১০টি সাবজেক্টের জন্যে মোট ৯১,৪৫৫/- (একানব্বই হাজার চার শত পঞ্চান্ন টাকা) এবং প্রফেশনাল পর্যায়ে ৮টি সাবজেক্টের জন্যে মোট ৮০,২৫০/- (আশি হাজার দুই শত পঞ্চাশ টাকা)। বছরে ২ বার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, জানুয়ারি ও জুলাই মাসে।

কোচিং ক্লাস: ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ক্লাস রুমে সান্ধ্যকালীন কোচিং ক্লাস সপ্তাহে ৩/৪ দিন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬.৩০টা থেকে রাত ৯.৩০টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। দিবা শাখায় সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার সকাল ৮.০০ থেকে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত কোচিং অনুষ্ঠিত হয়।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ ১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, পদ্মা লাইফ টাওয়ার (অষ্টম তলা), বাংলা মটর, ঢাকা-১০০০।  ফোন- ৮৮০-২-৯৩৩ ৬৯০১, ৯৩৪ ৯৫৭৮/১০২ও ১০৫, মোবাইলঃ- ০১৭০৮ ০৩০৮০৪


-- ব্লগার Md.Noor- Ul -Alam ACS, এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 9 5 1 2
আজকের প্রিয় পাঠক
2 4 5 6 5 0 5 0
মোট পাঠক