• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ মঙ্গলবার | ১৪ জুলাই, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৭:২২ অপরাহ্ন

Photo
সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে

সালেহ উদ্দিন আহমেদ: আপৎকালীন সুরক্ষার জন্যই সাধারণত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সঞ্চয় করে। করোনা সংকটের কারণে এই দুই শ্রেণির অনেকের আয়ের উৎস কমে গেছে বা একেবারে আয় নেই। তারা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য এখন সঞ্চয়ে হাত দিয়েছেন। আবার অনেকের হয়তো বেতন কমেনি, তবে খরচ বেড়েছে। বেতনের টাকায় তাদের চলছে না। সব মিলিয়ে সঞ্চয়ের ওপর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এখন মানুষের মধ্যে আরেকটা ভয় ঢুকেছে। করোনার কারণে কোনো ব্যাংক বড় ধরনের সংকটে কিনা সেই আশঙ্কা করছেন তারা। এসব কারণে অনেকে ভাবছেন সুদ দরকার নেই, মূল টাকা তুলে নিই। যে কারণে মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে তারা টাকা তুলে নিচ্ছেন।

সঞ্চয়ের এই ধাক্কা শুধু করোনার কারণে হয়েছে, তা নয়। বড় ধাক্কা এসেছে সঞ্চয়পত্রে নানা বিধিনিষেধের পর থেকে। সঞ্চয়পত্রে কেউ অপব্যবহার করলে তা বন্ধের ব্যবস্থা করা যেত। তা না করে এভাবে সব পর্যায়ে বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া ঠিক হয়নি। কেননা সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ থেকে অনেকের সংসার এবং ছেলেমেয়ের লেখাপড়া চলে। একই সঙ্গে ব্যাংকের সুদহার একেবারে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষ মনে করছে, ব্যাংকে টাকা রেখে কী লাভ। মূল্যস্টম্ফীতি বিবেচনায় নিলে ব্যাংকে টাকা রেখে প্রকৃতপক্ষে লোকসান হচ্ছে। কেননা বর্তমানে ৬ শতাংশের মতো মূল্যস্টম্ফীতি। আবার সুদ দেওয়া হচ্ছে ৬ শতাংশের কম। সেখান থেকে আবার নানান চার্জ এবং সরকারের শুল্ক্ক দিতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকে টাকা রেখে আসলে লোকসানই হয়। যে কারণে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ এবং আমানতে ৬ শতাংশ করা সরকারের মোটেও ঠিক হয়নি।

গত কয়েক বছরে একেক ব্যাংক একেক রকম কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের প্রতি এমনিতেই মানুষের আস্থা কমেছে। এর বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেকে টাকা রাখত। কয়েকটি ছাড়া অন্যরা মূল টাকা ফেরত দিতে পারবে কিনা এই অনিশ্চয়তার কারণে সেখান থেকেও অনেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

করোনার আগে থেকেই মানুষের আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। করোনাভাইরাসের কারণে এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। আয়বৈষম্য বেড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য এখন মানুষ সঞ্চয় ভাঙছে। কিছুদিন পরে হয়তো জমি বা অন্য সম্পদ বিক্রি করে বেঁচে থাকতে চাইবে। এ প্রবণতা থামাতে হলে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সহজ করতে হবে। আমানতের সুদ বাড়াতে হবে। ব্যাংকের সেবার মান বাড়াতে হবে। গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখার মানসিকতা থেকে ব্যাংকগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সামনে ব্যাংকগুলো আমানতের ব্যাপক চাপে পড়বে। ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সবাই সুবিধা পায়। আমাদের এখানে আসলে সামাজিক নিরাপত্তা বলতে তেমন কোনো কিছু নেই। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তার বড় অংশই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়। এগুলো প্রকৃত অর্থে সামাজিক নিরাপত্তা নয়। প্রকৃত অর্থে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। মানুষের কল্যাণ হয় এমন কিছু কর্মসূচি নিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

আরেকটি বিষয় বলব- আগে দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। এরপর বৈদেশিক ঋণ বা সাহায্যের দিকে যেতে হবে। তা না করলে তো বৈদেশিক দেনা বাড়তে থাকবে। আবার দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার হবে না। এতে ঋণের বোঝা তৈরি হবে।

লেখক : সালেহ উদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , অর্থনীতি

-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 0 2 4 1
আজকের প্রিয় পাঠক
2 4 5 6 5 7 7 9
মোট পাঠক