• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ২১ অক্টোবর, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

Photo
ইমোশনাল সেলস এ পাঞ্জাব সিং এর একেবারে একটি উচুমানের সেলস আইডিয়া

এমন একটি ঘটনা আজ তুলে ধরতে যাচ্ছি যা ১৭/১৮ বছরের পুরনো গল্প। পাঞ্জাব সিং বলেন এই গল্পটি আমার জীবনে সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শি একটি ঘটনা। একদিন আমার এক বন্ধু আমাকে বললো আমাকে কিছু কাস্টমারের সাথে সাক্ষাৎ করে দাও। আমি তাকে বললাম তোমার বাজেট কত? সে আমাকে বললো কেন? আমি বললাম আমাকে পরামর্শ ফি দিতে বলছি না। কিন্তু তুমি যে লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছো তাদের জন্য কত খরচ করতে পারবে? সে আমাকে বললো আমি ১০০/২০০ জন লোককে ফাইভ ষ্টার হোটেলে আয়োজন করতে চাইছি। কথা মতো সে বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন পরিবারের লোকজনদের নিমন্ত্রিত করলো। এবং ওখানে ১০০/২০০ জন লোক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করলো। আমি সেই অনুষ্ঠানের চীফ গেস্ট হিসেবে নিমন্ত্রিত ছিলাম। অনুষ্ঠানে শুরুতে আমার বন্ধু আমাকে অনুষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে বললো। আর তখন আমার দৃষ্টি ছিল সেখানে নিমন্ত্রিত অতিথিদের দিকে। ওখানে হঠাৎ একটি পরিবারের দিকে আমার চোখ পড়লো। অনুষ্ঠানে অনেকগুলো গোল টেবিল দিয়ে সাজানো হয়েছিলো তার একটিতে ঘিরে বসে ছিলো। এবং ওখানে ঐ পরিবারের এক বৃদ্ধ মহিলাও বসা ছিলো। উনাকে দেখে আমি সোজা মঞ্চ থেকে নেমে উনার কাছে গিয়ে পায়ে ধরে প্রনাম করলাম এবং উনাকে বললাম "মা "মা" আসুন আমার সাথে মঞ্চে আসুন এই দেখে ওনার পরিবারের সকলে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

এই ভেবে যে অনুষ্ঠানের চিপ গেস্ট মঞ্চ থেকে নেমে এসে একি বলছেন। সবাই হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। তারপর বৃদ্ধা মহিলাকে ও উনার পরিবারকে মঞ্চে ডেকে নিলাম। এরপর বৃদ্ধা মহিলাকে বললাম "মা "বাতি জ্বালিয়ে দিন। তারপর টানা দুই ঘন্টা অনুষ্ঠান চলার পর ডিনারের ব্যবস্থা ছিল তাই সবাই ডিনারের জন্য গেল। আমি সবাইকে একটু দেখছিলাম সবাই ডিনারে অংশ গ্রহন করতে পারলো কিনা। এমন সময় আমি লক্ষ্য করলাম সকলে ডিনার করেছে কিন্তু ঐ বৃদ্ধা মহিলা কিছুই খাচ্ছেন না এবং অন্য পাশে বসে আছে। এটা দেখে আমি মহিলার কাছে গেলাম আর জিজ্ঞেস  করলাম আপনি খাচ্ছেন না কেন? তখন বৃদ্ধা মহিলার পুত্র বধু আমাকে বললো, হিন্দু ধর্মের প্রথা অনুযায়ী ওনি আজ শুধু মাত্র জুস ছাড়া কিছুই খেতে পারবেন না। তাই তিনি বাসায় ফিরে জুস খাবেন।  

এই কথা শুনে আমি তারাতাড়ি হোটেল বয়কে ডাকলাম বললাম আমার জন্য দুই গ্লাস জুস নিয়ে আসো। এনে টেবিলে রাখবে না আমার হাতে দিবে। হোটেল বয় কথা মতো জুস এনে আমার হাতে দিল। তারপর আমি জুস নিয়ে হোটেল বয়ের মতো উনার কাছে গেলাম এবং বললাম "মা "মা" এই নিন আপনার জুস। এই দেখে উনার পরিবারের সকলে কাছে আসলেন এবং উনার ছেলে কান্নায় চোখ ভিজিয়ে ফেললো। বৃদ্ধা মহিলার ছেলে আমাকে বললো আপনি আমার মার জন্য যা করলেন আসলে আমরা কৃতজ্ঞ। আপনাকে সাহেব একটা অনুরোধ করবো আমার অনুরোধটি রাখবেন প্লিজ। আমি বললাম অবশ্যই রাখবো বলেন। বৃদ্ধার ছেলে আমাকে বললো আপনি যদি কাল সকালের নাস্তাটা আমাদের বাসায় করেন কৃতজ্ঞ হব।  

এরপর সকলে আমার বন্ধুকে বললাম আমাকে বৃদ্ধা মহিলার বাড়িতে নিয়ে যাও। সেখানে আমি যাওয়ার সময় কিছু মিষ্টি নিয়ে গেলাম। সেখানে যাওয়ার পর বৃদ্ধা মহিলা তার ছোট ছেলের বউকে বললো অতিথির পায়ে ধরে প্রনাম করতে। উনার কথা মতো বউটি প্রনাম করলো তখন তার হাতে আমি প্রনামি হিসাবে ২৫০০ হাজার টাকা দিলাম আর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। এই দেখে পরিবার কর্তা বলেন আপনি কেন এত কিছু করতে গেলেন। তখন আমি বললাম আপনার ছেলের বউ আমার ছোট বোনের মতো। সাথে সাথে বৃদ্ধা মহিলা বললেন আপনার জন্য কি করতে পারি বলেন। তখন কোন ধরনে চিন্তা ভাবনা ছাড়াই পরিবারের কর্তা আমাকে বললেন কত প্রিমিয়াম দিতে হবে? আমি বললাম মাসিক ১ লক্ষ করে। তিনি বললেন প্রতি মাসে দেয়াটা অনেক ঝামেলা তার চেয়ে ছয় মাসের একসাথে দিয়ে দেই। তারপর তিনি বৃদ্ধা মহিলাকে চেক বুক নিয়ে আসতে বললেন। তিনি কোন প্ল্যান-প্রোগ্রাম কিছুই বুঝে নিলেন না। তিনি আমাকে ছয় লক্ষ  টাকার চেক লিখে দিলেন।  

তারপর তিনি আরো বললেন আমার ছোট ছেলের বউকেও একটা পলিসি দিয়ে দিন। প্রতি মাসে ৫০ হাজার করে। আমি ওখান থেকে মোট ছয় মাসের প্রিমিয়াম  ৯ লক্ষ এবং  প্রতিবছরে প্রমিয়াম ১৮ লক্ষ টাকা বীমা প্রিমিয়াম কালেক্ট করি। বিশ্বাস করুন উনারা আমার কাছ থেকে কোন ধরনের কমিশন ছাড় চাইনি। এরপর আমি আমার বন্ধুকে ডেকে বললাম আগামী কাল এসে উনাদের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ করে নিও। বৃদ্ধা মহিলার পরিবারের কেউ আমার কাছ থেকে পলিসি নিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলো না, সম্পূর্ণ আমার উপর ছেড়ে দিল। এই ভাবে আমি ইমোশনাল সেলস করতে সফল হয়েছিলাম।

তো বন্ধুরা এই গল্প থেকে আমরা যারা বীমা পেশাজীবি তারা একটি বিষয় বুঝতে পারলাম, আমরা যদি মন থেকে কারো আপন হতে পারি তাহলে আমাদের জন্য কোন ধরনের কাজেই কঠিন না। বীমা পেশায় সফল হাওয়ার জন্য শুধু খুব ভালো একটা মনমানসিকতা প্রয়োজন মাত্র। আসুন আমরা আন্তরিক হই সব ক্ষেত্রে।
(একজন ইন্সুইরেন্স এডভাইজার এর সফলতার গল্প অবলম্বনে) 

সংকলনে,
রাহিমা আক্তার রুমা
জোন ইনচার্জ -বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম 
লোকবীমা ডিভিশন- মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।  

 Moderator , Insurance BD Group

[ আপনিও পারেন  “Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী)” এর একজন গর্বিত সদস্য হয়ে নিজের জ্ঞানচর্চা ও বীমা শিল্পের ইতিবাচক পরিবর্ত‍নে ভূমিকা রাখতে।  আগ্রহী ব্যক্তিগন Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী) এ যুক্ত হতে এই লিংকে ক্লিক করুন- https://www.facebook.com/groups/533586794169725/ ]



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , বীমা পরামর্শ

-- ব্লগার Insurance BD Group এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
3 3 7 5
আজকের প্রিয় পাঠক
2 7 6 2 7 1 4 7
মোট পাঠক