• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বৃহস্পতিবার | ২২ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

Photo
বীমা পেশা নারীদের জন্য কতটুকু নিরাপদ ও গ্রহন যোগ্য পেশা

উপস্থাপক, মাহমুদুল ইসলাম: আজ সম্মানিত অতিথির কাছে সকলের পক্ষ হতে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইছি। যে প্রশ্নটি আমাকে অনেকেই ফোন কলে প্রশ্ন করেছেন। আসলে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বা ধর্মীয় অনুভুতি থেকে নারীদেরকে বীমা পেশায় কাজ করতে আসতে দেওয়া হয় না। আমরা এই পেশায় কাজ করতে গিয়ে দেখেছি যে,আমাদের দেশের নারীরা গ্র্যাজুয়েশন করার পরও তাদের কিন্ডার গার্ডেনে নূনতম বেতন দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে  বা টিউশন পড়ানোকে পেশা হিসেবে নিচ্ছে। অথচ বীমা পেশায় কাজ করাটাকে তারা বা তাদের পরিবার সেটাতে সায় দিচ্ছে না। আবার দেখুন আমি এমনও দেখেছি নারীরা সিগারেটের এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন কিন্তু এই ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সিগারেট কোম্পানি গুলোতে কাজ করতে গেলে কিছু আপত্তিকর বিষয় উঠে আাসে। এখানে আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার না করলেই নয়। আমি একসময় আকিজ গ্রুপে আবেদন করি এরপর আমার চাকুরিটা হয়। পরে যখন জয়েন্ট দিতে যায় তখন দেখলাম সেখানে কাজ করতে গেলে প্রথমে আমাকে যে প্রোডাক্টটি সেল দিতে হবে সেটি হলো একটি নেশার দ্রব্য। যেটির নতুন কোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে কাউকে জানাতে হলে যে ক্রেতা প্রোডাক্টটি কিনবেন তিনি পন্যের গুণগত মান বিচার করার জন্য আমাকে বললেন আপনি একটিতে টান দিন আমি একটি ট্রাই করে দেখি। তখন আমার কাছে বিষয়টি খুবই আপত্তিকর মনে হলো। যে জিনিসটা আমার কাছে ক্ষতিকর,দেশের জন্য ক্ষতিকর,সকল জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর এমন পন্য সামগ্রীই নিয়ে কাজ করতে আমার মন সায় দিল না। আর আমার পরিবারের সু শাসনের কারণে কখনো নেশার দ্রব্য গ্রহন করা হয়নি তাই বিষয়টা আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছিল। কিন্তু দেখেন এমন পেশাতেই নারীরা কাজ করছে এতে কারো কোন রকম বাঁধা বা আপত্তি কাজ করছে না। কিন্তু যদি বীমা পেশায় কাজ করতে বলা হয় তখন তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম বাঁধা ও আপত্তি আসতে থাকে। এখন আমার সকলের পক্ষ হতে প্রশ্ন হলো আসলে বীমা পেশা নারীদের জন্য কতটুকু নিরাপদ ও গ্রহন যোগ্য পেশা বলে আপনার কাছে মনে হয়। তা যদি আপনার আলোকে আমাদের কাছে তুলে ধরতেন।  

মোশাররফ হোসেন: ধন্যবাদ মাহমুদ, আমি যদি আসলে নারীদের নিয়ে কথা বলতে চাই তাহলে প্রথমে বলতে হয়,কবির ভাষায়ঃ "পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর" কাজেই আমাদের দেশের পেক্ষাপটে নারী পুরুষ প্রায় সমান তাই এখানে আমরা যদি আমাদের একটা পার্টকে পিছিয়ে রাখি তাহলে কিন্তু  আমাদের সেক্টরের যে কাঙ্খিত  উদ্দেশ্য তা সাধিত হবে না। কাজেই আমি যদি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি। তবে বলতে হয় নারীদের জন্য অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবিধা থেকে বীমা পেশায় কাজ করাটা অনেক বেশি নিরাপদ ও ক্যারিয়ার সম্ভাব্য। আমি এই ক্ষেত্রে উদাহরণ স্বরুপ দু'জন নারী ব্যাক্তিত্বের কথা তুলে ধরতে পারি। আমি বর্তমানে যে কোম্পানিতে আছি  এই কোম্পানির খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে উনি কাজে কর্মরত আছেন। উনি হলেন আমাদের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মিসেস সুমনা পারভীন ম্যাডাম। উনি স্টুডেন্ট লেভেল থেকে অর্নাস পড়া অবস্থা থেকে উনি লেখা পড়ার পাশাপাশি বীমা পেশায় কাজ করে আসছেন। । আমি একটু উনার ব্যাকগ্রাউন্ড  সম্পর্কে বলতে চাই কারণ আমি উনার সম্পর্কে জানি। উনার বাবা ছিলেন একজন তৎকালীন সময়ে কেবিনেট ডিভিশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি। দেখেন উনি একজন সচিবের মেয়ে হয়ে ও এই পেশায় কাজ করছেন। উনি যদিওবা প্রথম দিকে উনার বন্ধুদের সাথে শখের বসে বীমা পেশায় কাজে আসেন। উনি যখন বীমা পেশায় আসলেন এবং এই পেশা সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে পারলেন তখন উনি পার্মানেটলি এই পেশায় কাজ করতে সম্মত হলেন। তখন উনার পরিবার থেকে বাঁধা আসলো উনার মাকে উনি বুঝাতে সক্ষম হলেন, যে এই পেশায় নিরাপত্তা যেমন রয়েছে তেমন ক্যারিয়ারও গঠন করা যায়। । উনার পরিবার থেকে বাঁধা আসার বিশেষ কারণ অবশ্য ছিল কারন উনি ব্যক্তিগত ভাবে খুব ব্রিলিয়েন্ট একজন স্টুডেন্ট ছিলেন। উনি বরাবরই খুব ভালো রেজাল্ট করতেন। সে সুবাদে উনি যে কলেজে পড়েছিল ঐ কলেজেই  উনার লেকচারার হিসেবে চাকুরি হয়। কিন্তু উনি বীমা পেশাটাকে এত বেশি ভালো বেসেছিলেন ও নির্ভরশীল মনে করেছিলেন শেষ পর্যন্ত বীমা পেশাকেই ক্যারিয়ার হিসাবে নিলেন। কারন উনি দেখলেন এই পেশায় থেকেও দেশ ও দেশের মানুষের উপকার করা যায়। পাশাপাশি নারীদের জন্য এটি একটি সম্মানজনক প্লাটফর্ম। যেখানে নিজের আত্ব সম্মানের নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ার গঠন করার একটি বিশাল সম্ভাবনাময় একটি প্লাটফর্ম। উনি তাই  নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে  আজ মাথা উঁচু করে সম্মানের সহিত বীমা পেশায় কাজ করছেন।  

তেমনি আমি আরো একজন নারী ব্যাক্তিত্বের কথা বলতে চাই  তিনি হচ্ছেন আলিয়া ম্যাডাম। যিনি বর্তমানে উনার প্রতিষ্ঠানে মেধা ও সম্মানের সহিত বীমা পেশায় কাজ করে যাচ্ছেন। এবং নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। আমি উদাহরণ গুলো এই জন্য দিলাম। আমাদের অনেক বোনেরা ও মেয়েরা আছেন যারা লেখা পড়ার পাশাপাশি বীমা পেশায় কাজ করতে পারেন। আমরা জানি বীমা পেশা হচ্ছে এমন একটি পেশা যেখানে রিলেশন বিল্ডাপ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের বোনেরা অনেক সহজে কাজটি করতে পারেন। কারণ যেহেতু ছেলেরা চাইলো কোন অপরিচিত বাড়িতে যেতে পারে না  কারণ বাড়ির ভেতর নারীদের বসবাস থাকে। যেখানে অপরিচিত পুরুষ মানুষ প্রবেশ আপত্তিকর। কিন্তু সেক্ষেত্রে মেয়েদের বেলায় তার উল্টো  মেয়েরা চাইলেই যেকোনো বাড়িতে মহিলাদের সাথে দেখা করতে পারে। কোন ধরনের আপত্তি ছাড়াই। বাড়ির মহিলাদের সাথে খোস আলাপ করতে পারে। কাজেই মেয়ে বা মহিলাদের জন্য বীমার কাজটি সহজে করা সম্ভব। অন্য দিকে নারীরা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি সঞ্চয় মনা হয়ে থাকে। একটি প্রবাদ আছে " নারী হচ্ছে সংসারের সকল সুখের মূল " তাই সংসারের সব ভালো দিক গুলো দেখভাল করে নারীরা যেটা পুরুষদের দ্বারা খুব বেশি হয়ে উঠে না। তাই যখন বীমা কর্মিরা তাদের সঞ্চয় বিষয়ে ভালো ভাবে বুঝাতে সক্ষম হয় তখন খুব সহজে বীমা বা সঞ্চয় করতে আগ্রহী করে তুলতে পারে। আর অন্য দিকে নারী বীমা কর্মীদের যেহেতু নারীদের সাথে কাজ করার সুযোগ থাকে সেহেতু এতে নিজের কোন ধরনের মানহানিকর বিপর্যয় ঘটার সম্ভবনা থাকে না। এই ভাবে নারীরা ইচ্ছে করলে লেখা পড়ার পাশাপাশি বলেন আর গ্র্যাজুয়েশশেষেশে যেকোন সময় বীমা পেশায় কাজ করতে পারেন। অন্য কোন পেশায় কাজ করতে গেলে যে সব বিব্রতকর বিষয়ের সম্মুখীন হতে বা যে সকল পারিপার্শ্বিক ঝামেলায় পড়তে হয় তা থেকে দূরে রেখেই বীমা পেশায় কাজ করা সম্ভব। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বীমা পেশায় ক্যারিয়ার গঠন করা খুব সহজ। তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে বলবো আপনারা যারা ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছেন  তারা এখুনি বীমা পেশাকে ক্যারিয়ারের সহায়ক হিসাবে বেছে নিন। ধন্যবাদ সবাইকে।  

উপস্থাপক,মাহমুদুল ইসলামঃ মোশাররফ হোসেন স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, উনার আলোচনা থেকে অনেক সফলতার কথা জানতে পারলাম। এবং জানতে পারলাম নারীদের জন্য বীমা পেশা একটি নোভেল পেশা যেখানে কাজ করে খুব সহজে ক্যারিয়ার তৈরি করা যায়। এবং নিরাপদ বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে কাজ করা সম্ভব। বীমা পেশা নারীদের জন্য একটি সম্মানী পেশা। অবশেষে এইটুকু বলতে চাই পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বীমা পেশা কোন অংশে পিছিয়ে নেই। আর দেরি না করে আজই চাইলে অংশ গ্রহন করতে পারেন। আবারও বলতে হয় বীমা পেশা একটি নোভেল পেশা। ।

স্ক্রিপ্ট রাইটারঃ
রহিমা আক্তার রুমা
মডারেটর 
ইন্স্যুরেন্স বিডি গ্রুপ 
এবং 
জোন ইনচার্জ -বোয়ালখালী
লোকবীমা ডিভিশন -মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।  
সম্পাদনার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছেনঃ
ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ 
চীফ মডারেটর 
ইন্স্যুরেন্স বিডি গ্রুপ।

Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী)

[ আপনিও পারেন  “Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী)” এর একজন গর্বিত সদস্য হয়ে নিজের জ্ঞানচর্চা ও বীমা শিল্পের ইতিবাচক পরিবর্ত‍নে ভূমিকা রাখতে।  আগ্রহী ব্যক্তিগন Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী) এ যুক্ত হতে এই লিংকে ক্লিক করুন- https://www.facebook.com/groups/533586794169725/ ]


-- ব্লগার Insurance BD Group এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
6 3 3 6
আজকের প্রিয় পাঠক
2 7 6 6 1 2 8 4
মোট পাঠক