• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ২৮ নভেম্বর, ২০২০ | ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০১:৫৮ অপরাহ্ন

Photo
বীমা শিল্পে এক অনন্য নারী নেতৃত্ব রাবেয়া বেগম রুনা

জনাবা রাবেয়া বেগম রুনা। বীমা শিল্পে নারী জাগরণের এক অনন্য পথিকৃৎ। জীবন সংগ্রামে তার গর্বিত পথচলাই নারীদের সংগ্রামী জীবনের অনুপ্রেরণা। কেবল নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টিই তার উদ্দেশ্য নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই যিনি নারী নেতৃত্বের অগ্রপথিক হিসেবে বীমা শিল্পে ২০১৪ সাল থেকে দেশীয় বীমা প্রতিষ্ঠান “প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড”-এ ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর পদবীতে সফলতার সহিত অদ্যবধি পর্যন্ত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ১১ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার ১১নং হাজিরপাড়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে তিনি সবার ছোট। শিক্ষা জীবনে তিনি পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় মার্স্টাস ডিগ্রি এবং ঢাকা বিজয়নগরস্থ সেন্ট্রাল ল-কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন।  

বর্তমান সমাজে নারীদের অবস্থান এবং বীমা শিল্পে নিজের উত্থান বিষয়ে জনাবা রাবেয়া বেগম রুনা জানান, বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সম-অধিকার স্বীকৃত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান নেই বলে নারীরা সমাজে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও জীবন-সংসারে প্রতিনিয়তই কোন না কোন অদৃশ্য বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে চলতে হয় অধিকাংশ নারীদের। পরিবেশ বা পরিস্থিতির কারণে পিতা বা স্বামীর সংসারে অনেক নারীকেই উপার্জনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। আর এই উপর্জনের মাধ্যম হিসেবে কোন না কোন চাকুরিকে-ই বেছে নিতে হয় নারীদের। প্রাগৈতিহাসিক সমাজ থেকে বর্তমান সভ্য সমাজে পৌঁছাবার দীর্ঘ সময়ে সকল দেশেই নারীর ভাগ্য একই রকম হয়ে এসেছে কিন্তু সমাজ বিবর্তনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নারীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আর মানবিক থাকেনি।  অধিকাংশ সেক্টরে আজও নারীকে হতে হচ্ছে হেয় প্রতিপন্ন এবং অবহেলিত। এ সকল বিষয় মাথায় রেখে এবং নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৪ ইং সালের জুন মাসে আমার আপন বড় ভাই এডভোকেট ইউনুস মিয়ার মাধ্যমে তৎকালীন কোম্পানীর ডিভসি বর্তমান সিনিয়র এ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, মান্দারী বাজার সার্ভিসিং সেল (লক্ষ্মীপুর) এর ইনচার্জ জনাব আলমগীর হোসেন স্যারের হাত ধরে একজন কর্মী হিসেবে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এ যোগদান করি এবং তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সেক্টরে সফলতার পথে অনেক দুর পর্যন্ত এগিয়ে যাই।  পর্যায়ক্রমে জেনারেল ম্যানেজার এম.এ কাদের স্যার, জেনারেল ম্যানেজার আবু তালেব হালান স্যার এবং মাঝে মাঝে বড় প্রোগ্রাম/ মিটিংগুলোতে আমার ক্যারিয়ারের আদর্শ ব্যক্তিত্ব কোম্পানীর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প প্রধান (আইপিএল-পলাশ) জনাব ফারুক মাহমুদ স্যারের বক্তব্য ও ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে বীমা শিল্পে নিজের ক্যারিয়ার গঠনে দৃঢ় মনস্থির করি। পরবর্তীতে ২০১৫ ও ২০১৬ইং সালে সরকারের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কর্তৃক পরিচালিত প্রশিক্ষণে এবং ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বেইস ট্রেনিং সেন্টারে প্রগতি ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত চার দিন ব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণে প্রগতি ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জনাব শাহরিয়ার ওমর ফারুক ও প্রধান ট্রেইনার জনাব মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ রাজা স্যার এর প্রশিক্ষণ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পেশাগত জ্ঞান অর্জন করি।  

সফলতার বিষয়ে তিনি বলেন, সাফল্যের পথ কখনোই সহজ নয়। এখানে থাকে অনেক প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে মার্কেটিং সেক্টরে। যেহেতু এখানে বিক্রয় ফ্যাক্ট। একজন মেয়ের পক্ষে সফল হওয়া দুর্গম পাহাড় ডিঙ্গিয়ে উপরে উঠার মতো। কারণ আমাদের সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে একটা মেয়ে সকাল বেলা বের হয়ে সারাদিন মাঠে ও অফিসে কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর বাড়ী ফেরা খুব সহজ বোধ্য কাজ নয়। এটুকু সময়ে পরিবারের লোকজনদেরকে বিভিন্ন সমালোচনা শুনতে হয়। যার পুরোটা ঐ মেয়েটা দিন শেষে বাড়িতে আসলে তার পরিবারের লোকজন দৃষ্টিকটুভাবে তা মেয়েটিকেই শুনিয়ে দেয়। অথচ যেখানে মেয়েটির কর্মতৎপরতার বিষয়ে তার পরিবারের লোকজন যথেষ্ট বোঝার কথা। কিন্তু সেখানে পরিবারই বড় বাধা। এরপর আসে সমাজ থেকে তীব্র বাধা। মেয়েদের আবার মার্কেটিং এ কাজ ? অনেক সময় অফিসে মেয়ে কর্মী হিসেবে ছেলেদের তুলনায় বিভিন্ন রকম অবহেলার স্বীকার হওয়া। দিনের পর দিন কখনো সময়ের অভাবে আবার কখনো অর্থের অভাবে (প্রথম দিকে) কত দুপুর না খেয়ে থাকা। তার পরেও ধৈর্য ধরে থাকা কেবল এগিয়ে যাওয়া লক্ষ্যে। লক্ষ্য একটাই ছিলো সফল হব। কত রোদ, কত ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করা, কত শুনতে হয়েছে এই রমজানেও তোমাদের কাজ করতে হয় নাকি? এই শীতে ও, এই গরমে ও ! এমনকি সন্ধ্যার পর ও তোমাদের অফিসে কিসের কাজ ? এরকম অসংখ্য বাধা বীমা কর্মী হিসেবে আমার ছিল।   গেলো তো কষ্টের কথা। ২০১৪ ইং থেকে ২০১৬ ইং পর্যন্ত নিজেকে চলার মতো-ই কোনরকম আয় ছিলো। প্রিমিয়াম ছিলো কোম্পানীর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী। পরবর্তীতে ২০১৮ ইং সালে প্রিমিয়াম এক কোটি টাকার উপরে এবং ২০১৯ ইং সালে প্রিমিয়াম দেড় কোটি টাকার উপরে ছিলো। আয়ের কথা বললে গড়ে মাসিক আয় ছিল যথাক্রমে ২০১৮ সালে প্রায় পঁঞ্চাশ হাজার টাকার উপরে এবং ২০১৯ ইং সালে পঁচাত্তোর হাজার টাকার উপরে। ২০২০ সালে এই চলতি মাসেও যা এসে দাঁড়িয়েছে মাসিক গড়ে একলক্ষ টাকার উপরে।            

সাফল্যের ধারাবাকিতায় ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে কোম্পানীর বিশেষ সন্মাননা বী-স্কীম এর আওতাভুক্ত হই এবং ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ ব্যবসা বর্ষে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর সকল প্রজেক্টের মধ্যে ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ১ম বর্ষ প্রিমিয়ামে একটানা তিন বছর প্রথম স্থান অর্জন করি। এতে কোম্পানীর জাতীয় বার্ষিক সম্মেলনে প্রথম স্থান অর্জনের সার্টিফিকেট, পর পর তিন বছর তিনটি (সন্মাননা পুরষ্কার) ল্যাপটপ এবং জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাই। এছাড়াও বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিযোগীতায় পুরষ্কার, সন্মাননা ক্রেস্ট অর্জন করি। সর্বশেষ ২০২০ সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে কোম্পানী কর্তৃক নির্ধারিত প্রিমিয়াম লক্ষমাত্রা অর্জন সাপেক্ষে মালয়েশিয়া/ সিঙ্গাপুর ভ্রমণের যোগ্যতা (বিদেশ ট্যুর) অর্জন করি। আরো উল্লেখ করার মতো ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি ব্যবসা বর্ষে কোম্পানীর জাতীয় সম্মেলনে যোগদানের যোগ্যতা এবং ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ ইং সনের ব্যবসা বর্ষে ফ্যামিলি ট্যুর (যা আইপিএল পলাশ প্রজেক্টের জন্য নির্ধারিত) এর যোগ্যতা অর্জন করি এবং ট্যুর করি।            

বীমা শিল্পে ক্যারিয়ার গঠনে নারীদের প্রতি তাঁর দিক-নির্দেশনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  যারা এই পেশায় আসতে চায় এবং ভাল করতে চায় তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে কাজ করলে সমালোচনা থাকবেই। তা ঘরে অথবা বাইরে, মাঠে অথবা অফিসে। আপনি সফল হতে হলে সমালোচনা কে পাত্তা না দিয়ে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করুন। নিজেকে ধৈর্যশীল হিসেবে আবিষ্কার করুন। অবশ্যই শিখতে হবে পেশাগত জ্ঞান, সুনিদিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে আপনি কোথায় পৌঁছতে চান। সু-পরিকল্পিতভাবে সময়কে কাজে লাগাতে হবে পরিকল্পনা মাফিক। মনে রাখতে হবে আপনি কাজ করেন বা না করেন প্রতিদিন ৮৬৪০০ সেকেন্ড আপনার জীবন থেকে বিদায় নিচ্ছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই সিনিয়রদের দিক নির্দেশনা মানতে হবে।

কোম্পানী ও বীমা সম্পর্কিত বিষয়গুলো ভালো করে জানতে হবে। সাপ্তাহিক মিটিং অবশ্যই, সম্ভব হলে দৈনিক মিটিং এর মাধ্যমে কাজের পরিকল্পনা, দিন শেষে আজকের দিনের কাজের সারসংক্ষেপ বের করতে হবে। বেশি বেশি গ্রাহক প্রোগ্রাম ও এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। পলিসি সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রাহক সেবা দিতে হবে যথাসাধ্য অনুসারে। সম্ভাব্য গ্রাহক, সিনিয়র ও অধ:স্থন কর্মীদের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে হবে। কাজ করতে হবে পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে। নিজেকে পেশাদার প্রমাণ করতে হবে সবার মাঝে, দায়িত্ব নিতে হবে, তাহলে সফলতা আসবেই, ইনশাআল্লাহ।

 

 

 



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ সফল বীমা ব্যক্তিত্ব

-- ব্লগার Tawhidul Haque Chawdhury এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 8 0 9 0
আজকের প্রিয় পাঠক
2 8 7 9 4 1 5 0
মোট পাঠক