• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

Photo
একটি শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলার এখনই সময়

বাংলাদেশে মাথাপিছু বীমা ব্যয় এখনো ১০ মার্কিন ডলারের নিচে। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার তুলনায় যা খুবই নগণ্য, আবার একই সঙ্গে অনেক সম্ভাবনার। কারণ এখনো বৃহৎ জনগোষ্ঠী বীমা আওতার বাইরে।

টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলার এখনই সময়। এজন্য বীমা খাতের সংস্কার, আমূল পরিবর্তন ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া খুবই প্রয়োজন।  

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সম্প্রতি বীমা প্রতিনিধির জন্য কমিশন শূন্য শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যা কার্যকর হবে ১ মার্চ, ২০২১, নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কমিশনের প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে বীমা কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা বাড়বে।

সব বীমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে হবে, যা বীমা কোম্পানিগুলোকে বৈদেশিক বীমা বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সহায়তা করবে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের অনেক মেগা প্রজেক্ট চলমান। ওই মেগা প্রজেক্টগুলোর বীমার জন্য অনেক সময়ই বৈদেশিক বীমা কোম্পানির শরণাপন্ন হতে হয়। যানবাহনের জন্য সম্প্রতি সর্বাঙ্গীণ বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এখনো জীবন বীমার আওতার বাইরে থাকছেন যাত্রী বা চালক। তবে সর্বাঙ্গীণ বীমার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ বীমা কোম্পানির আয় বৃদ্ধি পাবে। কারণ সর্বাঙ্গীণ বীমার প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে বেশি।

বীমার আওতা বাড়াতে হবে, যেমন উৎপাদন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের ঝুঁকি বীমা, সম্পদ বীমা, কৃষি ও পশুসম্পদ বীমা এবং দেশের সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্য বীমা। বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রতিনিয়ত নতুন বীমা সেবা উদ্ভাবনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া বিটিআরসির তালিকাভুক্ত মোবাইল সেটগুলো বীমার আওতাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

একক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রম যাতে পরিচালনা করে এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে, যা বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

ব্যাংক অ্যাসিউরেন্স চালু করতে হবে। এতে ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বীমা সেবা বিক্রি করতে পারবে। এতে সহজে সর্বসাধারণের মধ্যে বীমা সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে বীমা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং বীমা দাবি পূরণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভব হবে। বীমা শিল্পের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা আস্থার সংকট। আশা করা যায় ব্যাংক অ্যাসিউরেন্স এটা বহুলাংশে দূর করবে।

বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। বীমা কোম্পানিগুলো এ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের যে লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে তা একটি শক্তিশালী বীমা শিল্প প্রতিষ্ঠায় অনেকটাই সহজতর করবে। উন্নত বিশ্বে বীমা সরকারের আয় অর্জনের অন্যতম বৃহৎ খাত। এর জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রস্তুত হতে হবে এবং দেশের জিডিপিতে অবদান বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমেই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধামুক্ত ও স্থিতিশীল অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সহযোগী অধ্যাপক, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম , বীমা সচেতনতা

-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 7 2 8 9
আজকের প্রিয় পাঠক
3 2 8 9 0 1 6 7
মোট পাঠক