• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৪:২৯ অপরাহ্ন

Photo
প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশের বীমা শিল্প

বাংলাদেশের বীমা শিল্প অপার সম্ভাবনাময়ী একটি কাঠামো গত ব্যবস্থা।  বীমা হল নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কোন প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর করা। ভিন্ন কথায়, বীমা একজন বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, একই সঙ্গে তার ঝুঁকিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাগাভাগি করে নেয়া হয়। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বীমা হয়--জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা।   জীবন বীমায় একজন ব্যক্তি নিজের বা পরিবারের কোন সদস্যের জীবন বীমা করাতে পারেন। এতে বীমাকারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিবার অথবা নমিনি করা ব্যক্তিকে বীমাকৃত অর্থের পুরোটাই প্রদান করা হবে।  আর সাধারণ বীমার মধ্যে স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, যানবাহনসহ যত ধরনের বীমা হয় তার সব কিছুই পড়ে।  

বীমা মানুষের জন্য বিপদের বন্ধু হিসেবে কাজ করে। দেশের প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের বীমার আওতায় রয়েছেন, যদিও অনেকেই বীমা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন না। আর সে জন্য তাদের বাস্তব তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্থাৎ বীমা কোম্পানী গুলোর কোন ক্ষেত্রে অবহেলা, সীমাবদ্ধতা, তথ্য গোপন করা, কিছু বীমা কর্মীদের ছলচাতুরী, জনসাধারণের অজ্ঞতা বা অতিবিশ্বাসের কারণে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ না করা ইত্যাদি নানা কিছুই আমাদের বীমা জগতকে মানুষের কাঙ্খিত আস্থা অর্জনে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।   তবে সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সঠিক ও যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক পরিচালনা পদ্ধতি ইত্যাদির মাধ্যমে বীমা শিল্প এগিয়ে যেতে পারে বহুদূর। ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং অন্যান্য বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের সব শ্রেণীর মানুষের মাঝে বীমা সেবা পৌঁছে  দেয়াও সম্ভব। কৃষি ও গবাদি পশু বীমা কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে তৈরি করতে পারে অপার সম্ভাবনার। বীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির  জন্য একযোগে সবার কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব বীমা শিল্পের উন্নয়ন, তথা দেশের উন্নয়ন।

গত কয়েক বছরে যদিও বীমা কোম্পানির সংখ্যা বেড়েছে, তবে অধিকাংশ কোম্পানিই এখনো টিকে থাকার লড়াই করছে। কিছু জীবন বীমা কোম্পানি পল্লী বা মফস্বল এলাকায় নিজেদের অনেক শাখা বন্ধ করে দিয়েছে এবং নতুন প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ শাখা এখন প্রায় নিবু নিবু। এটা নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বীমা কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অধিকাংশ ছোট ও অসংগঠিত কোম্পানির পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হবে। বহির্বিশ্ব বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ কিংবা অন্য একই ধরনের দেশে যা ঘটছে, তা বিবেচনায় নিলে আমাদের বীমা খাতের আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রিমিয়াম সংগ্রহ, পুনর্বীমা, দাবি নিষ্পত্তিসহ কিছু বিষয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ আছে। অনেক মালিকই মিথ্যা দাবি সাজিয়ে পূর্বতন তারিখে কাভার নোট ইস্যু এবং অন্য অন্যায্য প্রভাবের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বীমা গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করছে। সেখানে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, পরিচালক কর্তৃক ম্যানিপুলেশন এবং নিয়ন্ত্রণহীনতার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। বীমা শিল্পে জনশক্তির মান খুবই দুর্বল এবং তাদের উন্নয়নে তেমন বিনিয়োগ কিংবা সংশ্লিষ্ট মহলের নজর দৃশ্যমান নয়। এমনকি কিছু কোম্পানির কর্তারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ না করায় রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশে নিয়ন্ত্রকদের হয়রানি বা বিব্রত করারও চেষ্টা করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কোম্পানির পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। প্রবাসী শ্রমিক-রেমিট্যান্স প্রেরণকারী থেকে কৃষিজীবীসহ বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী এখনো বীমার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

তাই দেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নে তথা দেশ ও জাতির উন্নয়নে দেশের সরকার, বীমা সংশ্লিষ্ট সকল কর্ম কর্তা- কর্মচারি ও দেশের আপামর জনসাধারণ সকলকেই আজ ঘুরে দাঁড়াতে হবে। অপার সম্ভাবনাময়ী এ শিল্পকে দেশের এক নম্বর শিল্পে পরিনত করতে হবে।


-- ব্লগার Md. Shoriful Islam Sayed এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 5 9 7 5
আজকের প্রিয় পাঠক
3 2 8 8 8 8 5 3
মোট পাঠক