• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ মঙ্গলবার | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

Photo
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স সম্পদ ও মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়েছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জীবন বীমা খাতের কোম্পানি প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ২০৩ কোটি টাকার সম্পদ ও মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়েছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মন্দ বিনিয়োগের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ না করেই সম্পদ ও মুনাফা অতিরঞ্জিত করেছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন প্রত্যয়নকারী নিরীক্ষকের মতামতে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও পরিচালনা পর্ষদের মদদে এ মন্দ বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২০২০ সালে আর্থিক প্রতিবেদন প্রত্যয়ন করেছেন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সাইফুল সামসুল আলম অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের ম্যানেজিং পার্টনার মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদত্ত কোয়ালিফায়েড অপিনিয়নে উল্লেখ করেছেন, প্রাইম ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট (পিএফআই) সিকিউরিটিজ লিমিটেডে ১৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ রয়েছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। পাশাপাশি পিএফআই সিকিউরিটিজের কাছে কোম্পানিটির ১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ অর্থ অনাদায়ী অবস্থায় রয়েছে। আবার পিএফআই সিকিউরিটিজের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। এ অবস্থায় এই অর্থ আদায় করা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ অর্থের বিপরীতে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোনো ধরনের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেনি। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে ১৮৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার সম্পদ ও মুনাফার অতিরঞ্জিত তথ্য দেখিয়েছে। যদিও এ পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য গত বছর উচ্চ আদালতে পিএফআই সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কোম্পানিটি, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

একইভাবে স্টার্লিং গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ বিনিয়োগটিও দীর্ঘদিন ধরেই অনাদায়ী রয়েছে। এ বিনিয়োগের বিপরীতে কোনো চুক্তি নেই। যে কারণে আদৌ এ অর্থ আদায় হবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

অন্যদিকে এ বিনিয়োগের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো মুনাফা করতে পারেনি কোম্পানিটি। আবার এর বিপরীতে কোনো ধরনের সঞ্চিতিও রাখা হয়নি। এতে আর্থিক প্রতিবেদনে ১৫ কোটি টাকার সম্পদ ও মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়েছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। যদিও এ অর্থ আদায়ে উচ্চ আদালতে স্টার্লিং গ্রুপের বিরুদ্ধে গত বছর মামলা দায়ের করেছে কোম্পানিটি, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

বাংলালায়নের জিরো কুপন বন্ডে প্রায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। বাংলালায়নের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এটি অনাদায়ী রয়েছে। ফলে এ বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে নিরীক্ষক সন্দেহ পোষণ করেছেন। তাছাড়া এ বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানিটি কোনো ধরনের সঞ্চিতিও সংরক্ষণ করেনি। অবশ্য গত বছর এ অর্থ আদায়ের জন্য প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে এ বিনিয়োগগুলো করা হয়েছে। প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তত্কালীন চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও পর্ষদ সদস্যরা সে সময় তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এসব অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। পিএফআই সিকিউরিটিজে যখন বিনিয়োগ করা হয়, তখন সিকিউরিটিজটির পর্ষদের কয়েকজন পরিচালক জীবন বীমা কোম্পানিটিরও পর্ষদে ছিলেন। পিএফআই সিকিউরিটিজের জন্য ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এফডিআর করা অর্থ দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে যখন পিএফআই সিকিউরিটিজ ব্যাংকের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তখন ব্যাংক তাদের কাছে জামানত হিসেবে থাকা প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এফডিআর অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের ঋণ সমন্বয় করে নেয়া হয়। এমনকি পিএফআই সিকিউরিটিজে থাকা প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিও হিসাবের ১৫ কোটি টাকাও সিকিউরিটিজটির কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন।

জানা গেছে, স্টার্লিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ খালেকের আত্মীয়। এ কারণে চুক্তি ছাড়াই স্টার্লিং গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলালায়নের বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থই ফেরত আসেনি। এরই মধ্যে বন্ডটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।

নিরীক্ষকের মতামতের বিষয়ে কথা হয় প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ নুরুল আলমের সঙ্গে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও তত্কালীন পর্ষদ সদস্যদের সিদ্ধান্তে এসব বিনিয়োগ করা হয়েছিল। বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতে এরই মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কোম্পানির পলিসি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ বিনিয়োগের বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হয়নি। তাছাড়া কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার কারণেও সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চার বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। সঞ্চিতি সংরক্ষণ না করে মুনাফা ও সম্পদ বাড়িয়ে দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের দেয়া কোয়ালিফায়েড অপিনিয়নের বিষয়টি স্টক এক্সচেঞ্জ ও কমিশনের করপোরেট ফাইন্যান্স বিভাগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি ও নিরীক্ষামানে বিচ্যুতির কারণে সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন হলে সে বিষয়ে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায়। এ সময়ে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের পরিমাণ ছিল ৮৩৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সহযোগী কোম্পানি হচ্ছে পিএফআই সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির ৪৬ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্সের কাছে।  সূত্র: বণিক বার্তা



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ সাম্প্রতিক খবর , বীমা সংবাদ

-- ব্লগার Admin Post এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 2 9 6
আজকের প্রিয় পাঠক
3 6 1 3 4 0 9 1
মোট পাঠক