• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ২১ অক্টোবর, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০২:১০ পূর্বাহ্ন

Photo
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী বীমা প্রবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ সমূহে ইসলামি বীমা কোম্পানী সমূহ সফলতার সাথে কাজ করছে। বর্তমান বিশ্বে অন্তত ৬০ টি ইসলামি বীমা কোম্পানী কাজ করছে। আরও অনেক গুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। বলা যায় গত তিন দশকে ইসলামি বীমার ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি বীমা অনুমোদন যোগ্য কিনা তা প্রাসঙ্গিক বিষয় নয়। বর্তমানে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ইসলামি বীমা ইসলামি সমাজ ও ইসলামি অর্থনিতি বিকাশের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত অর্থনিতি সাফল্যমন্ডিত করা। প্রথমে আমরা চেষ্টা করবো বিষয়টি ভালোভাবে এবং উদার দৃষ্টিতে সূক্ষ বিশ্লেষণের। পশ্চিমা বীমা ব্যবস্থা কোন ইসলামি নীতি মালার সঙ্গে যথেষ্ট অমিল রয়েছে। এ জন্যে ইসলামি আর্থ সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক দর্শন ও নীতি মালা সম্পর্কে স¦চ্ছ ধারনা থাকা জরুরী। কারণ পুঁজিবাদি মুক্ত বাজার দর্শনে অধিকাংশ মুসলিম দেশে বিরাজমান ইসলামি আদর্শ ও নীতির আংশিক প্রয়োগ ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাঙ্খিত উদ্দেশ্য সাধন করবেনা।
ইসলামী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক দর্শন ও নীতিমালার সারমর্ম হল বিশ্বভ্রাতৃত্বের ইসলামী দর্শনের ভিক্তিতে তাকাফুল বা ইসলামী বীমা ব্যবস্থার প্রচলন করে সম্পদের ন্যায়ানুগবণ্টনের ব্যবস্থা করা যা শুধু মাত্র জাকাতের মাধ্যমে সম্ভব নয় যেটা জীবন বীমার মাধ্যমে সম্ভব।  
অর্থনীতিতে জাকাতের প্রচলন অতিবও জরুরি যার অর্থ ধনী লোকের সম্পদ ও ধনে নিঃস্বদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সমাজের অভাবি বঞ্চিত দুর্বল লোকদের কল্যাণের জন্য ইসলামে অন্যতম স্তম্ভ হল জাকাত ব্যবস্থা যা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। ইসলামী জীবন বীমা জাকাতকে প্রাতিষ্ঠনিকভাবে প্রবর্তন করে থাকে। এভাবে ইসলামী অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলো তাকাফুল ব্যবস্থায় প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটা পরিষ্কার যে পুঁজিবাদী বীমা ব্যবস্থা ইসলাম গ্রহণ করেনা তবে বীমার মূলনীতিমালা বিশেষ করে সঞ্চয়ী বীমাকারীর আকস্মিক ক্ষতি সাধন হলে তা পুষিয়ে নেয়া যায়।  
একটি শরীয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কোম্পানীর দৈনন্দিন কার্যাবলির তত্ত্বাবধানের প্রক্রিয়া অভ্যাহত থাকবে যা ইসলামী মুদারাবা নীতির ভিক্তিতে পরিচালিত হয়। আধুনিক বীমা কোম্পানীগুলো ইসলামী শরীয়াতের কোন প্রকার ধার ধারেনা কিন্তু ইসলামী বীমা কোম্পানীকে ইসলামী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বার্থ সংরক্ষণ, সামাজিক কল্যাণ সাধনের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়।  
এখন আমাদের উচিত হবে ইসলামী জীবন বীমার কল্যাণময়ী দিকগুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। ইসলামী বীমা জগতে প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজন সমাজের অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত ভালো মানুষ যারা ইসলামী জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে এবং ইসলামী বীমা বিষয়ক সম্যকজ্ঞান রাখেন। সামাজে যারা ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা যদি বীমা কার্যক্রমকে সাগত না জানিয়ে দূরে থাকেন এবং অন্যদের দূরে থাকতে উৎসাহিত করেন তাহলে ইসলামী আন্দলন সফল হবে এমনটি আশা করা সমীচীন বলে মনে হয় না।  
ইসলাম যেহেতু পরিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত সার্বজনিক দির্ঘস্থায়ী জীবন ব্যবস্থা হিসাবে সারা বিশ্বে সমাদৃত ছিলো। কালের ব্যবধানে সে সব ঐতিহ্য হারিয়ে  ফেলার কারণেই ইসলামী জাকাত ও ইসলামী বীমা ব্যবস্থাকে নতুন করে বুঝাতে হচ্ছে। জাতি যত দ্রুত এটি বুঝতে পারবে তত দ্রুতই অর্থনৈতিক সফলতা লাভ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে।  
ইসলামকে বর্তমান বিশ্বে বিজয় করার যে প্রচেষ্টা অভ্যাহত রয়েছে তার মূল শক্তি হচ্ছে ঈমান ও অর্থনীতির সমৃদ্ধি। অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় ইসলামী আন্দলন সফল হতে পারে না। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা বা কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব শর্ত হলো জাকাত ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করন। সেই সাথে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের ও প্রয়োজনে ইসলামী বীমা কার্যক্রম সঞ্চয়ী মনোভাব জাগ্রত করা। সময় এসেছে বাস্তবতা উপলদ্ধি করে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে ইসলাম প্রিয় সাধারণ মানুষকে বীমা সংক্রান্ত সঠিক ধারণা দেওয়া। আশা করি অল্প দিনেই তা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রযন্ত্র চায় দেশের মানুষ অর্থে, খাদ্যে, বস্ত্রে, শিক্ষায়, বিনোদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করে কিন্তু তা যে বড় কঠিন ও বাস্তব এ বিষয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন পাঠকদের সদয় অবগতির জন্য পেশ করছি। গত ১৭ মার্চ ২০১১ খ্রিঃ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায়  দেশের প্রথিতযশা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত এর লেখা “বৈদেশিক সাহয্যে অবাধ লুটপাট প্রক্রিয়া” শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে উল্লেক করা হয়েছে যে, ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ খ্রিঃ মোট ৩০ বছরে বাংলাদেশে মোট বৈদেশিক ঋণ সাহায্য এসেছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ সাহায্য মানব উন্নয়ন কাঠামো সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অজর্নে ঐ ঋণ সাহায্যের ভূমিকা নেই।
বাংলাদেশে ইসলামী বীমা প্রবর্তন : অত্যন্ত আশার কথা এইযে অনেক পরে হলেও অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের বাংলাদেশেও ইসলামী বীমা (তাকাফুল) প্রকল্প চালু হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ১১ আগস্ট দেশের কতিপয় সনামধন্য ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়“হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড” নামক একটি বীমা কোম্পানী বাংলাদেশে প্রথম বারের মত ইসলামী শরীয়াহ ও আধুনিক বীমার অপূর্ব সমন্বয়ে ইসলামী বীমা বা তাকাফুল প্রকল্পকে সংযোজন করে বীমা ব্যবস্থা চালুর পথকে সুগম করে। পূরণ হয় দেশের মুসলমানদের বহুদিনে লালিত স্বপ্ন। বাংলাদেশে এই প্রকল্পে স্বপ্নদ্রষ্টা ও সফল রূপকার হলেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব এসএম আব্দুল হাই। তিনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলিম।  
বাংলাদেশে বীমা বিষয়ক ইসলামী শরীয়াহ বোর্ড গঠন : বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বীমা প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম ইসলামী শরিয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। খ্যাতনামা মুফতি, বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন ও ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব এর সমন্বয়ে গঠিত এই শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব মরহুম মাওলানা উবায়দুল কাদের। মাওলানা কবি রুহুল আমীন, মাওলানা মহিউদ্দিন খান ও মাওলানা যাইনুল আবেদীন অন্যতম।  
বাংলাদেশ সরকার আইন অনুযায়ী এবং বীমা আইনের নিরিখে ইসলামী শরিয়াহ বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ইসলামী শরিয়তে বৈধ লাভজনক প্রকল্পেই এই প্রকল্পের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন: রিয়েল এস্টেট, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষালয় ইত্যাদি।  
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত বীমা প্রকল্পের আকর্ষণীয় তাকাফুল (যৌথ নিশ্চয়তা ) বীমা পলিসি সমূহ হলো ১) তাকাফুল বীমা পলিসি। ২) পারিবারিক তাকাফুল বীমা পলিসি। ৩) তিন কিস্তি প্রত্যাশিত মেয়াদি তাকাফুল বীমা পলিসি। ৪) শিশু ও শিক্ষা নিরাপত্তা তাকাফুল বীমা পলিসি।  
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানীতে সম্মানিত বীমা গ্রাহকবৃন্দের বিপুল আগ্রহ উৎসাহ উদ্দীপনায় ও সহযোগিতায় ইসলামী বীমা তাকাফুল বাংলাদেশ প্রকল্পটি ধাপে ধাপে দেশের বীমা অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব জনকল্যাণমূলক বৈপ্লবিক অবদান রেখে অচিরেই সার্বজনীন আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।  
আগামী একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলয় বাংলাদেশের ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক একটি স্বতন্ত্র জীবন বীমা কোম্পানি ও সাধারণ বীমা কোম্পানি চালু এখন সময়ের একান্ত দাবতে পরিণত হয়েছে। কারণ দেশের শষিত বঞ্চিত সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যে পরিমাণ ইসলামের ভক্ত, দরদি ও অনুসারী তা আর অন্য কোন  দেশে খুঁজে পাওয়া বিরল। তারা চায় শরিয়াহ ভিত্তিক সঞ্চয়ই প্রতিষ্ঠান তাকাফুল তার স্বমহিমায় এগিয়ে যাক। এই দরদ ও চাহিদাকে কেন্দ্র করেই আমাদের অনতিবিলম্বে দেশের নীতি নির্ধারক ও ওলামা সমাজ এবং অর্থনীতিবিদ এর সমন্বিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বাংলাদেশে ইসলামী জীবন-বীমা ও সাধারণ বীমা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের পার্লামেন্টে অনুমোদনের উপযোগী করে একটি তাকাফুল এর প্রবিধান প্রণয়ন করা।  
ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানব জীবনে একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার  বুনিয়াদ হলো মাবন জাতির সার্বিক কল্যাণ সাধন করা ও প্রয়োজনীয়তা এক্ষেত্রে মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবন জীবিকার নিরাপত্তার প্রতীক হলো তাকাফুল। আল কোরআন ও হাদিসের নীতি আদর্শকে বুলন্দ করতে যেহেতু ইসলামিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও সমুন্নত রাখা প্রয়োজন তেমনি তারই একটি বাহন তাকাফুলকে সমুন্নত রাখা আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।
কারণ ইসলামী বীমার সেবা এ পর্যন্ত দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের মতো ইসলামী বীমাকে সাগত জানিয়ে ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা ঝুঁকে পড়েছে তাকাফুলের দিকে।  শুধু তাই নয়, এক জরিপে দেখা গেছে ২২% অমুসলিম নাগরিকগণও এই বীমা গ্রহণ করেছে ইতোমধ্যে।  
যাকাত যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইবাদাত তেমনি তাকাফুলও ইবাদাতকারীদের জীবন ও জীবিকা নিশ্চয়তা বিধান করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ হিকমত। মানব সম্পদ একটি দেশের উন্নতির চাবিকাঠি অথচ আমরা এব্যাপারে এখনও অকেনটা উদাসীন। তেমনি আমাদের বুঝতে হবে মানুষের জীবনের ও জীবিকার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে বীমা পদ্ধতি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী বীমার প্রয়োজনীয়তা : বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অশিক্ষিত। অর্ধশিক্ষিত বা শিক্ষিতদের মধ্যে বেকার সংখ্যা তিন ভাগের এক ভাগ তথা ছয় কোটি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরির্বতন, বন্যা, নদীভাঙ্গন, খড়া, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, দুর্ঘটনা, অকালমৃত্যু ইত্যাদি সমস্যা আমাদেরকে হতাশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশের এক শ্রেণীর শিক্ষিত বেকার যুবকেরা  উপার্জনের জন্য অবৈধ্য পন্থায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করছে এ সংখ্যাও কম নয়। এমতাবস্থায় অনাগত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য এক নতুন বারতা নিয়ে এসেছে তাকাফুল যা শুধু মুসলমানদেরই নয় অমুসলিমদের জন্যও আশীর্বাদ। মোট কথা ইসলামী বীমা তাকাফুল আর্তমানবতা জন্য খিদমতে খাল্ক স্বরূপ। সেজন্য ইসলামী বীমা শিল্প বিশ্বের দরবারে ইসলামী অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাইলফলক ও যুগান্তকারী মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়ে গেছে।
সার্বজনীন আধুনিক ইসলামী অর্থনীতির লক্ষ হচ্ছে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণে শতকরা ১০০% নিশ্চয়তা বিধান  করে সুবিচার প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য নিরসন, নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা । আমরা জানি পৃথিবীর জীবন ব্যবস্থায় একটি অপরিহার্য অঙ্গ অর্থ ব্যবস্থা। মানুষের জীবদ্দশায় যে সমস্ত ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় তার বেশির ভাগই অর্থের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামী অর্থনীতি ভিত মজবুত না করে কোন ক্রমেই সামগ্রিক কর্মকা- সুচারুভাবে পরিচালিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি হলো তাকাফুল। ইসলামী  বীমা ব্যবস্থা আজ একটি বাস্তব সত্য এটি দেশে দেশে বেশ জনপ্রিয়তা ও নিরাময়ক হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে।
দুঃখ-দারিদ্র্য, অভাব-অনটন, বিপদ-আপদ, অসুখ-বিসুখ, প্রকৃতিক দুর্যোগ, পরিবারের সদস্যদের আর্থিক  জোগান এমনকি নিজেরই মৃত্যু হতে পারে। এটি নিত্যদিনের ঝুঁকি, ভোগবাদিতা, লোভ, সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা, পেশী শক্তির নিপীড়ন, নির্মমতা, অসমপ্রতিযোগিতা, আদর্শিকদ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আস্থাহীন তা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-, প্রহসন,অবিচার, অনাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্য, নৈরাজ্য, প্রযুক্তির নোংরা ব্যবহারম, অপসংস্কৃতি, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, লুণ্ঠন, ঘাত-প্রতিঘাত, অপহরণ, মুক্তিপণ, হাইজাক, চুরি, ডাকাতি, যৌতুক, মাদ্ক, বিবেকবর্জিত কর্মকাণ্ড, অমানবিক অত্যাচার, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, কৃত্রিমতা, লৌকিকতা, অশিক্ষা ইত্যাদি চলমান কর্মকা- মূলত জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বৈষ্ণিক বিষয়। এসব ঝুঁকি  থেকে বাঁচার জন্য আমাদের এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এটি সম্ভব শুধু মাত্র সঞ্চয় মনোভাব ও তাকাফুলের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী বীমা : ইসলামী বীমা শিল্পের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে বীমা গ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষণ ও লভ্যাংশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। যে সব মানুষ ইসলাম প্রিয় তারা সুদী প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করতে চায়না। তারা ইসলামী ভাব ধারার প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করতে বেশি আগ্রহী। সেই দৃষ্টিকোণে দেশে ইসলামী বীমার আবির্র্ভাব ঘটে। ফলে কিছু সংখ্যক ইসলামী জেনারেল ও ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর মধ্যে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ অন্যতম। ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা সর্বাধিক কুরআন ও হাদিসের নিকট বর্তি হবে সে প্রতিষ্ঠানটিই মূলত মর্যাদার শীর্ষে পৌছাবে। এখেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলমান ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ নানা কারণেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যোগ্যতা, নেতৃত্ব, অবিজ্ঞতা, প্রজ্ঞাপন, বীমা বিষয়ের প্রচার, প্রসার, পদক্ষেপ, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওরিয়েন্টেশন, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার এবং প্রিন্ট মিডিয়া পেশার মানুষের সাথে ইসলামী জীবন বীমা বিষয়ক অভিহিত করণ বহুমুখী কর্মসূচি ও পদক্ষেপ ইতোমধ্যে অসাধারণ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে জামালপুর জেলায় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ১০ বছর পূর্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বীমা বিষয়ক কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করে আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়েছিলো। তখন থেকেই তাকাফুল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে কিছু লেখার প্রয়াস থেকেই আজকের এ লেখা।
সারা বিশ্বে ক্রমাগতভাবে ইসলামী বীমার প্রশার ঘটে চলেছে। কিন্তু একমাত্র মালয়েশিয়া ব্যতীত আর কোন দেশেই এই নতুন বা ব্যতিক্রমী বীমার জন্যে আইন তৈরি বা পাশ হয়নি। বরং দেশের বিধিবদ্ধ আইনের আওতাতেই এ সব ইসলামী বীমা কোম্পানী কাজ করছে। মালয়েশিয়ায় ১৯৮৪ সালে বীমা কোম্পানীর প্রতিষ্ঠানকে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত সুদী বীমার বিপরিতে ইসলামী শরীয়াহ পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্ভূত সম্ভাব্য সমস্যার প্রতিবিধানের জন্যে বিশেষ আইন পাশ করা হয়েছে সে দেশের পার্লামেন্টে। সেই আইনের বুনিয়াদেই ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেদেশের “শিরকাত তাকাফুল আল-ইসলামীয়াহ সেনদিরিন বেরহাদ” নামাক বীমা কোম্পানী।  
বিধিবদ্ধ আইন পাশ না হলে ইসলামী বীমা কোম্পানীগুলো কোন ক্রমেই ইসলামী শরীয়াহ পালন করতে পারনো ফলে অন্যান্য বীমা কোম্পানীর সাথে আইনী লড়াইয়ে এবং পলিসিতে বিশেষ কোন সুবিধা পাবেনা, ফলে পরোক্ষভাবে ইসলামী বীমার যথেষ্ট ক্ষতি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই ইসলামী বীমা যেহেতু সুদ নির্ভর নয় সেহেতু এই বীমা ব্যবস্থার  বাস্তব প্রয়োগিক দিক সম্পর্কে হাতে কলমে এবং তথ্যগত ও গবেষণা মাধ্যমে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করে একদল প্রশিক্ষিত দক্ষ বীমা লিডার তৈরি করে জেলা ও উজেলা ভিত্তিক কার্যালয় স্থাপন করে তাদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেহেতু বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের নেয় ইসলামী জীবন বীমার রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা এই সম্ভাবানকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী বীমার কার্যক্রম শহর নগর থেকে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি মহল্লায় প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে যাবে অল্পদিনেই ইনশাআল্লাহ। এই জন্য বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ইসলামী বীমা বৈশিষ্ট্য সুফল সম্পর্কে সচ্ছ ধারণা প্রদানের জন্য পরিশ্রমি ঈমানী চেতনায় বলিষ্ঠ নিবেদিত প্রাণ একদল উন্নয়ন কর্মীর মাধ্যমে সাধারণ জনতার নিকট ইসলামী বীমা দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। সন্দেহ নেই যে ইসলামী ব্যাংকের ন্যায় ইসলামী বীমা একদিন এদেশের পার্লামেন্টে অনুমোদান ও জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করবে। তখন জনগন বলবে তাকাফুল বীমা আমার বীমা।  
ইসলামের আলোকে জীবন বীমা ব্যবস্থা এখন অনেকটা বিতর্কের ঊর্ধে¦ চলে এসেছে। অর্থনীতিবিদ, আলিম সমাজ, বীমা চিন্তাবিদ, ইসলামী বীমা বৈধ না অবৈধ তা নিয়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তারা মনে করেন বীমা ব্যবস্থা শুধু বৈধই নয় বরং সময়ের চাহিদা ও বাস্তবতাকে ওভারকাম করতে তাকাফুলের গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়টি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ সমূহে শরিয়ার আলোকে “মুদারাবা” ওয়াকালা ওয়াক্ফ ও তাউযুনী পদ্ধতিসহ বিভিন্ন আদলে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে যথেষ্ট সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে ।
এখন ইসলামী বীমা ভালোভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা প্রবিধান প্রণয়ন করা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি বিষয়। এ জন্য সম্মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা চালানো সংশ্লিষ্ট সকলের একান্ত প্রায়োজন। এক্ষেত্রে পরস্পর প্রতি হিংসা ও সমালোচনা পরিত্যাজ্য।  
মালয়েশিয়া যদি আজ থেকে তিন দশক আগে এধরনের পদক্ষেপ নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন পেয়ে সফল হতে পারে তাহলে আমরা সেধরনের সমন্বিত  উদ্যোগ নিতে কালক্ষেপণ না করে লক্ষ্রে পৌঁছাবার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। প্রকৃত পক্ষে এদেশের সকল বীমা কোম্পানী ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রবর্তিত ১৯৩৮ সালে বীমা আইনের দ্বারা নিবন্ধিত ও নিয়ন্ত্রিত। এতে ইসলামী শরীয়াহ সম্মত বীমা কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে বীমা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরকে বাস্তবতা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করছি।
প্রচলিত বীমা কোম্পানীর বিদ্যমান আইন বলবৎ রেখে প্রিমিয়াম সূত্রে সংগৃহীত অর্থ বিনিয়োগের জন্য ব্যাংগুলোর উপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে উচিত হবে দেশের ইসলামী ব্যাংক ও বীমা কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে প্রচলিত আইনের কিছুটা পরিবর্তন ও সংযোজন করার বিষয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতিনির্ধারকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সুরাহা করা।  
আমাদের এ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে হবে যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড় বা প্রধান বীমা নিয়ন্ত্রকের আশ্বাস বা কোম্পানী পরিচালনা জন্য প্রদত্ত অনুমতি পত্র কোন নির্ভরযোগ্য দলিল নয়। দেশের আদালতে তা গ্রহণ নাও হতে পারে, এজন্যই অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে বীমা আইন সংশোধিত আকারে পার্লামেন্টে আইন পাশ করানোর বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এ বিষয়ে সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারে এবং ইসলামী বীমা বা তাকাফুল সংক্রান্ত প্রবিধান প্রণয়নে একটি উপযোক্ত বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। যে বোর্ড তাকাফুল বা ইসলামী বীমা সংক্রান্ত একটি উপযুক্ত মানের সহজতর প্রবিধান প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে উপস্থাপন এর মাধ্যমে পার্লামেন্টে পাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ইসলামী বীমা প্রবিধান প্রণয়নের সময় যে সব দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন :
১। সমাজ জীবনে সম্ভাব্য যত সমস্যা বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতে আবর্তিত হবে তা সমাধানের সবটাই সমাধানের পূর্বাভাস ইসলামে রয়েছে।  
২। ইসলামে মানব জীবনের যে সকল বিষয় সরাসরি আলোচিত হয়নি তা ইজমা-কিয়াস এর মাধ্যমে সে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।      
৩। মানব জীবনে ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা ছাড়া গতি নেই। যারা এই ঝুঁকি মোকাবেলায় কৌশলের অবলম্বন করেছে তারাই সফলকাম।
৪। ইসলাম সর্বদা একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও অর্থব্যবস্থা কামনা করে। এক্ষেত্রে ইসলামী বীমা একটি ব্যতিক্রমধর্মী মাধ্যম।
৫। ইসলামী বীমা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আল্লাহর নির্দেশিত হালাল উপার্জন বৃদ্ধি করে সমাজ থেকে শোষন চিরতরে নির্মূল করা।  
৬। আমাদের একথা এড়িয়ে গেলে চলবেনা যে, একটি কল্যাণকর ঐশীবিধান বিশ্লেষণ করে সুদি কারবার হ্রাস কল্পে ইসলামী বীমার সম্প্রসারণ করা।  
৭। আজ সময় এসেছে কল্যাণমুখী ইসলামী বীমা প্রবর্তনের জন্য সকল স্তরের উলামায়েকিরামদের ঐক্যবদ্ধ উপলব্ধি ও নেতৃত্ব প্রদানের।
৮। বিত্তশীলদের সম্পদের বঞ্চিতদের অধিকার বিদ্যমান যাতে সম্পদ শুধুমাত্র ধনীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়।
উসংহার : দেশের ১৫ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্য বৈদেশিক ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে ইসলামী বীমা প্রবর্তন করে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে।  
দেশে জনগোষ্ঠী প্রায় শত করা ৮০% মানুষ গ্রামে বাস করে। এদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ বেকার, ভূমিহীন, নদীসিকস্তি, কৃষক, শ্রমিক ও 
মেহনতি মানুষ। এদের আর্থিক নিরাপত্তা পাশাপাশি দুঃসময়ে আশার আলো দেখাবার জন্য ইসলামী বীমা প্রবর্তন অত্যাবশ্যক।  
উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তার মৃত্যুকূপে ফেলে দিতে পারে। এমতাবস্থায় শরিয়াহ ভিত্তিক জীবন 
বীমা, স্বাস্থ্য বীমা ও সাধারণ বীমা গ্রহণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন জরুরি।
জাতি আজ তিন ভাগে বিভক্ত- শাসক, শোষক, শাসিত। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বিত্তশালীরা অসম প্রতিযোগিতায় রাতারাতি আরও বিত্তশালী হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ গণমানুষ দরিদ্র থেকে হতদরিদ্রে নেমে আসছে। সে জন্য গরিবদের দৈনন্দিন আয় থেকে একটি ক্ষুদ্র অংশ নিরাপদ স্থানে সঞ্চয় করা উত্তম। যদি সেই সঞ্চয় কোন ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠানে জমা করা হয় হবে তা হবে জমাকারীর জন্য এমনকি জমাকারীর ওয়ারিশগণের জন্যেও সোনায় সোহাগা। এখন থেকেই গরিব শ্রেণির মানুষ সঞ্চয়ী না হলে ধনীদের জাঁতাকলে ১০০ বছরের ব্যবধানে খাদ্যাভাবে পুষ্টিহীনতায় রোগে- শোকে কংকালসার হতে থাকবে। ফলে মুষ্টিমেয় স্বাস্থ্যবান মানুষের সুন্দর গালের গোশ্ত খাবলে খাবে, চলমান অর্থব্যবস্থা ও বীমা ব্যবস্থা সে ধরনের ভয়াবহ ইঙ্গিত ও চিত্রের আগাম সংকেত বহন করে। মহান আল্লাহ মানব জীতিকে সে ধরনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন। আ-মিন.......। (সমাপ্ত)
লেখক :ডা.মিজানুর রহমান। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী ।
ইমেইল: dr.mizanur470@gmail.com 
mobail no-01716-200470



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ জীবন বীমার জানা-অজানা

-- ব্লগার Admin Post এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 8 5 3
আজকের প্রিয় পাঠক
2 7 6 2 6 6 2 5
মোট পাঠক