• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী, ২০২০ | ৭ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

Photo
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কাজ চলমান

বহু প্রত্যাশিত অটোমেশন প্রকল্প নিয়ে আশাবাদী বীমা খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ খাতের মানুষের আস্থা বাড়বে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর প্রথম কিস্তির টাকা ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন অফিস নেয়া, সহকারী পরিচালক এবং পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কাজ চলছে।

জানতে চাইলে আইডিআরের সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, ইতিমধ্যে নতুন অফিস নেয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক ও সহকারী পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ সংক্রান্ত পরামর্শক নিয়োগ হয়েছে। প্রকিউরমেন্ট কনসালটেন্ট নিয়োগের কাজ চলছে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগের কাজ চলছে।

বীমা খাতের উন্নয়নে ৬৩২ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে অর্থায়ন করা হচ্ছে। ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হবে। এর ৬৬ শতাংশ টাকা ব্যয় হবে আইটি খাতে। বাকি ৩৪ শতাংশ অন্যান্য খাতে। গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতির অন্যান্য খাতের তুলনায় বীমা খাত একেবারে অবহেলিত। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বীমা খাতের অবদান মাত্র দশমিক ৬০ শতাংশ।

Photo

প্রতিযোগী যে কোনো দেশের তুলনায় তা কম। মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ, শ্রীলংকায় ১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতে ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশে বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্রাহকের আস্থা সংকট। বীমা কোম্পানিগুলো দাবি পূরণ করতে চায় না। এ ছাড়া কোম্পানিগুলো এজেন্টের মাধ্যমে বীমা করে। কিন্তু অনেক সময় গ্রাহকের টাকা মূল কোম্পানিতে জমা দেয় না। বিষয়টি সামগ্রিকভাবে এ খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় বীমা খাতের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়।
জানা গেছে, প্রকল্পটি নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওই বছরের ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় অর্থায়নের বিষয়টি অনুমোদিত হয়। এরপর গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় এটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পর চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হল। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি ডলার দেয়া হবে। সহজ শর্তের নমনীয় ঋণ হবে এটি। ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এ অর্থ খরচ করতে হবে। প্রকল্পটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে আইডিআরের সামর্থ্য বাড়ানো ও বীমা একাডেমি আধুনিকায়নে কাজ করা হবে। এর মধ্যে আইডিআরের সার্বিক অটোমেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, বীমা খাতে ঝুঁকিভিত্তিক তত্ত্বাবধান পদ্ধতি প্রবর্তন, বীমা তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বীমা একাডেমির প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানো ও আধুনিকায়ন করা হবে।

Photo

আর দ্বিতীয় অংশে সরকারি মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো হবে। এতে দুই বীমা কর্পোরেশনের সার্বিক অটোমেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কোর ইন্স্যুরেন্স এপ্লিকেশন বাস্তবায়ন ও গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপনা বাড়ানো হবে। বীমা সুবিধা বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে এবং বিদ্যমান বীমা পণ্য পর্যালোচনা এবং যুগোপযোগী করা হবে।

আইডিআরএ সূত্র জানায় দেশের ৭৮টি বীমা কোম্পানির মধ্যে জীবন বীমা ৩১টি এবং সাধারণ বীমা ৪৮টি। দু’খাত মিলিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪৬টি। দেশের অর্থনীতির আকার অনুসারে কোম্পানির অনেক বেশি। কিন্তু এরপর দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বীমা খাতের অবদান ১ শতাংশেরও কম। এর সবচেয়ে বড় কারণ হল- কোম্পানিগুলোর সীমাহীন প্রতারণার কারণে বিশাল এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রাজনৈতিক বিবেচনায় বেশ কিছু বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব কোম্পানির পেছনে বড় মাপের রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদ রয়েছে। ফলে এরা কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না। ২০১০ সালে নতুন বীমা আইন হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আশার দিকও কম নয়। এক বছরে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিদিনই দাবি পরিশোধ করছে সংস্থাটি। দাবি পরিশোধ না করলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে, এ ধরনের কঠোর বার্তা দেয়া হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। আইডিআরএর জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


-- ব্লগার মোঃ মাসুদ রানা এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
8 0 6 4
আজকের প্রিয় পাঠক
1 7 4 9 1 3 2 9
মোট পাঠক