• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ০৫ আগস্ট, ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

Photo
বীমা শিল্পে সফল ও আলোকিত ব্যক্তিত্ব

কুমিল্লা জেলার অন্তগর্ত চৌদ্দগ্রাম থানার গুনবতীর কৃতিসন্তান জামাল আবু নাসের আমাদের সময়ে অতি বন্ধুরপথ চলায় সীমাহীন সাহস ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়ে ক্লান্তিহীন গতিতে সাবলীলভাবে এগিয়ে চলেছেন পুর্বসুরীদের নিকট থেকে অহরিত জ্ঞানের আলোকিত পথ ধরে এবং উত্তরসূরীদের জন্য নির্মাণ করে যাচ্ছেন একে একে মসৃণ ভাবে চলার পথ এবং সমুদয় সব সিঁড়ি। তাঁর নির্মিত পথেই জাতীয় অর্থনীতিতে এ শিল্প রেখে চলেছে অনেকখানি অবদান। বাংলাদেশের বীমাশিল্পে অনন্য গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত জনাব জামাল মোহাম্মদ আবু নাসেরের প্রায় তিন দশকের অধিক সময় কর্মজীবন ঠিকই নন্দিত ও উজ্জ্বলতায় ভরা।

অতি নিরহংকার ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বীমা ব্যক্তিত্ব জামাল এম এ নাসেরের কাছে আমার বিবেচনায় দেশের বীমাশিল্প কিছুটা হলেও ঋণী। আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, করিতকর্মা, ক্যারিয়ারিস্ট বীমা সংগঠক হিসেবে সকলের সহানুভূতি ও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ইতোমধ্যেই সক্ষম হয়েছেন জামাল সাহেব।  
তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কনফারেন্সে অংশ নিয়ে একদিকে আধুনিক বীমার ধারণাকে বিকশিত করেছেন, সাথে সাথে বাড়িয়ে তুলেছেন দেশের পরিচিতি।  
ব্যক্তিত্ব, অধ্যবসায় এবং পেশাগত উৎকর্ষের গুণে তিনি লাভ করেছেন অসাধারণ সাফল্য, যা তাঁকে পরিণত করেছেন একজন কর্মঠ বীমা ব্যক্তিত্বে। তাঁর ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে কর্মে একাগ্রতা, শ্রম ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মপরিচালনা।

শিক্ষাজীবনঃ 
ছোটবেলা থেকে জামাল আবু নাসের ছিলেন মেধাবী এবং যে কোন কাজে প্রবল উৎসাহী ও গোছানো স্বভাবের। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে জামাল আবু নাসের ভর্তি হন গুণবতীবহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে। সেই কিশোর বয়সেই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পাকিিস্তান দেশ ও কৃষ্টি বাতিল করার মিছিলে অন্যসব বন্ধুদের সাথে সম্পৃক্ত হন। ছয় দফার আন্দোলনে তখন পুরো পুর্ব পাকিস্তান উত্তাল উম্মাতাল। আন্দোলনের পাশাপাশি পড়াশুনায় মনোনিবেশ করেন আজকের এ কৃতী বীমা ব্যক্তিত্ব। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবান্বিত অধ্যায়। জামাল এম এ নাসের জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় যুদ্ধে অবতীর্ণ মুক্তি বাহিনীর কর্মিদের খাদ্য সরবরাহ ও রাস্তা দেখিয়ে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে। সঙ্কুল এ দায়িত্বে অহর্নিশ নিজকে জড়িত রেখে সেই সময়েই বড়দের নজর কাড়তে সক্ষম হন। তখনকার গুনবতি ছিলেন এক অগ্নিগর্ভ এক জনপদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম করিডোর। স্থানটি ভারতের নিকটবর্তী হওয়ায় হানাদার বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর জন্য সমগুরুত্বপুর্ণ ছিল।  
জনাব জামাল নাসেরের জন্মভিটা ততকালীন তপোবন ছিল সম্ভবত একমাত্র ইউনিয়ন যেখানে পাকিদের নাপাক পা পড়েনি। বলা যায় তপোবন বাংলদেশের একমাত্র স্থান যা সবসময়ই স্বাধীন ছিল। মনে পড়ে আজো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। একাত্তরের এপ্রিলের প্রথম দিকগুলোতে মানুষের দিশেহারা হয়ে ছুটোছুটি এবং নিরাপদে নিজের স্থায়ী আবাসস্থলে পৌঁছার জন্য পায়ে হেটে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। নিজের ঘর থেকে খাদ্যসামগ্রী পানীয় জল শরবতসহ রেললাইনের পাশে বসে বিনি পয়সায় বিতরণ করা যেমন ছিল আনন্দের ঠিক তেমনই বেদনা।
মুক্তিযুদ্ধের সেইসব স্মৃতির ভেতর সাঁতার কাটতে গেলেই মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। পীরে কামেল প্রখ্যাত আউলিয়া কাদের মামুর শহীদ হওয়ার ঘটনা মনে হলে মন কাঁদে আজো।  
দেশ স্বাধীনের কয়েক বছরের মাথায় ১৯৭৪ ইং সনে তিনি কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সদ্য স্বাধীন দেশ। চারদিকে অভাবের তাড়নায় মানুষের দিগ্বিদিক ছুটে চলা, গুনবতী বাজারে স্থাপিত লঙ্গরখানা সহ অনাকাঙ্খিত অনেক কিছু দেখে তার মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। মনে পড়ে মনতু মিয়াদের লালঘরে রেশন নিতে আসা মানুষের অসহনীয় জট। চারিদিকে হাহাকার আর দ্রæতবেগে ধেয়ে আসা অভাবের লেলিহান শিখা। স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান হলেও ঐসব দূর্বিষহ ঘটনা প্রবাহ জামালের মনে গভীর রেখাপাত সৃষ্টি করে। দেশের মানুষের জন্যকিছু করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮২ ইং সনে জামাল এম এ নাসের বাংলাদেশের গৌরব বলে স্বীকৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনঃ 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.সি পাসের পরপরই কর্মজীবন সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেন জামাল এম এ নাসের। আশৈশব যার দুচোখে খেলা করতো স্বপ্ন আর স্বপ্নের বা¯Íবায়ন নিয়ে ভাবনা। বন্ধুদের প্রায় সময় এ কথা শেয়ার করতেন যে অসহায় মানুষদের পাশে কি করে দাঁড়ানো যায়।  
কিছুদিন এদিক সেদিক অতিবাহিত করে জামাল এম এ নাসের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ১৯৮৬ ইং সনে ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে যোগ দেন। সে সময়ে ডেল্টা লাইফে বীমা বৃক্ষখ্যাত জনাব শাফাত আহমেদ একচুয়ারি হিসেবে সারাবিশ্বে নন্দিত হতে শুরু করেন।
জনাব শাফাত সাহেবকে বাংলদেশে বীমার গুরুজন বলে সকলেই মান্য করে থাকেন। উল্লেখিত বীমাবিদের হাত ধরেই বাংলদেশ তথা গোটা বিশ্ব মাইক্রো ইন্সুরেন্সের ধারণা লাভ করে এবং তার প্রসার প্রচলন শুরু হয়। বীমাজগতের প্রারম্ভিক কালেই জামাল এম এ নাসের একচুরিয়াল প্রোডাক্ট ডিজাইন সহ একচুরিয়ালের যাবতীয় কাজকর্মে দীক্ষিত হন। সে সময়েই তিনি নিজকে মেলে ধরেন জীবন বীমা বিষয়ক পেনশন ও গ্র্যচুইটির উন্নয়নে। প্রায় দশ বছর অবধি তিনি ডেল্টা লাইফে কাজ করেন। এর পরের ইতিহাস বহু বর্ণিল আর বহুবিম্বিতচিত্রকল্পের সমাহারে সাজানো এক অবিনশ্বর অধ্যায়। প্রায় তিরিশ বছর ধরে বাংলদেশের নন্দিত সব বীমা কোম্পানি তথা প্রগ্রেসিভ, গোল্ডেন, পপুলার হয়ে আজকের সর্বোচ্চ এ শিখরে তার অবস্থান। দেশের এক নম্বরে স্থান পাওয়া ন্যশানাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী। গত ডিসেম্বরে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তৃতীয় মেয়াদের জন্য জনাব জামাল আবু নাসের কে কোম্পানির পরিচালনা বোর্ড মনোনয়ন দিলে বাংলদেশ বীমা উন্নয়নঃ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মুখ্য নির্বাহী হিসেবে পুনরায় অনুমোদন দেন।

পেশাগত জীবনের দীক্ষা 
পেশাগত জীবনের শিক্ষা, অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগানোর নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনে সিদ্ধ হস্ত। কর্মজীবনের প্রায় শুরুতেই সরকার বেসরকারি খাতে বীমাশিল্প পরিচালনা আইন-’৮৫ পাস করে।
জামাল এম এ নাসের খুব কাছে থেকেই দেখেন সহকর্মীদের বিকশিত মেধার সমন্বয়ে কী করে জীবনকে গড়ে নিতে হয়। তারই ফলশ্রæতিতে সুদীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মময় জীবন যেন আজ নানা শাখা-প্রশাখায় পল্লবিত আর ফলে-ফুলে সুশোভিত হয়ে একটা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা নিসন্দেহে তার প্রজ্ঞা, অটল নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং পরিচালন যোগ্যতার কারণে বর্তমান ন্যশানাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি নামক বীমা প্রতিষ্ঠানটি একুশ শতকের উপযোগী একটি আধুনিক বীমা শিল্পের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অসাধারণ সাফল্যের বরমাল্য শোভিত এ বীমা প্রতিষ্ঠানের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময় শ্রদ্ধাভরে।
 


-- ব্লগার মোঃ মাসুদ রানা এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
5 2 9 2
আজকের প্রিয় পাঠক
2 5 2 2 4 8 8 5
মোট পাঠক