• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শনিবার | ১৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৬:২৮ অপরাহ্ন

Photo
জীবন বীমা কেন করবেন?

সাক্ষাতকার : সম্ভাব্য ক্রেতা / PROSPECT WITH NIKHIL KUMAR DAS, UNIT MANAGER, METLIFE.
★জীবন বীমা কেন করবেন? বলেছেন মেটলাইফ-এর ইউনিট ম্যানেজার নিখিল কুমার দাস।

জীবন বীমা মূলত একটি চুক্তি, যেটি বীমা প্রতিষ্ঠান এবং বীমা গ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির প্রধান দিক হচ্ছে—

বীমা প্রতিষ্ঠান এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে যে বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে, দুর্ঘটনায় পতিত হলে, অসুস্থ হলে বা পঙ্গু হলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বীমা গ্রহীতার উত্তরাধিকারীকে বা বীমা গ্রহীতাকে প্রদান করবে। অর্থাৎ বীমা করা হয় মূলত নির্ভরশীলদের বা উত্তরাধীকারদের জন্য। তবে চুক্তির শর্তানুসারে সন্তান ও স্ত্রী বা স্বামী অসুস্থ হলেও তারা অর্থ পেয়ে থাকে।

তাই জীবন বীমার বিভিন্ন দিক নিয়ে মেটলাইফের ইউনিট ম্যানেজার নিখিল কুমার দাসের সাথে কথা বলেছেন একজন সম্ভাব্য ক্রেতা।

১। কেন কেউ বীমা করবে –এক কথায় যদি বলতেন।
★নিখিল কুমার দাস: মানুষ পরিবারের ও নিজের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বীমা করবে।
২। যদি একটু ব্যাখ্যা দিতেন, মানুষ কেন বীমা করবে?

★নিখিল কুমার দাস: মূলত আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মানুষ বীমা করবে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কোনো কারণে অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনায় পতিত হলে, এমনকি মারা যেতে পারে, তখন তার পরিবারে সমস্যা দেখা দেয়। বীমা করা থাকলে বীমা কোম্পানি শর্তানুযায়ী পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়। এমনকি দুই বছর পার হলে (প্রিমিয়ামের বয়স) আত্মহত্যাজনিত ক্ষতিপূরণও গ্রাহক পেয়ে থাকেন মেটলাইফে।
৩। কি কি ধরনের বীমা আছে আপনাদের?
★নিখিল কুমার দাস: প্রধানত ৩ ধরনের বীমা আছে আমাদের। যেমন- ক) বড়দের জীবন বীমা খ) শিশুদের শিক্ষা বীমা ও গ) পেনশন বীমা।

৪। কতটুকু নিরাপত্তা দেয় কোম্পানি?

★নিখিল কুমার দাস: ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকার বীমা করা যায় মেটলাইফে। যিনি যতটুকু বীমা নিতে সমর্থ তিনি ততটুকু সহায়তা পাবেন। কেউ ১০ লক্ষ টাকার বীমা করলে মেয়াদের মধ্যে মারা গেলে ১০/২০/৩০ লক্ষ টাকা পাবেন। অসুস্থতার জন্য নিয়মানুযায়ী সহায়তা পাবেন। ২৫ টি কঠিন রোগের জন্য ১,৫০,০০০/= থেকে ৫,০০,০০০/= টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ পাবেন।

৫। কারো সামার্থ বেশি থাকলে সে বীমা করবে কেন?

★নিখিল কুমার দাস: আমরা মানুষের আয় দেখে সামার্থ বিবেচনা করি। আসলে যার আয় বেশি সে ব্যয়ও করে বেশি। ফলে বেশি আয় যে করে তারও নীরাপত্তাহীনতা আছে, তিনি মারা গেলে বা অসুস্থ হলে বা পঙ্গু হলে তার পরিবার বিশাল আয় থেকে বঞ্চিত হবে, ফলে পরিবার আর্থিক অনটনে পড়বে, তাই তার বীমা করা থাকলে তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে। তাই তারও বীমা করার দরকার আছে।

৬। মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেলে কী সুবিধা পায় বীমা গ্রহীতা?

★নিখিল কুমার দাস: এক্ষেত্রে সে পুরো টাকাটা লাভ সহ ফেরত পায়। বীমা করা হয় আসলে মেয়াদকালীন সমস্যার কথা চিন্তা করে। মেয়াদটাও তাই লম্বা হয় সাধারণত।

৭। কম উপার্জনের মানুষের বীমা সুবিধা কীভাবে পাবে?

★নিখিল কুমার দাস: ছোট অংকের মাসিক কিস্তিতে বীমা করতে পারে। এতে শুধু তার পারিবারীক নিরাপত্তা যে নিশ্চিত হয় তা শুধু নয়, ব্যাংকের মত টাকাও জমে। যেহেতু এই টাকাটা সহজে কেউ ভাঙতে চায় না, তাই পরিবারের জন্য জমা থাকে, মেয়াদ পুরে গেলে নির্ধারিত লাভসহ টাকাটা পায়। কোম্পানি যে লাভের অংশ দেয় তার নাম বোনাস, মেয়াদ শেষে মুল টাকা ও বোনাস একসাথে গ্রাহক পেয়ে থাকেন।

৮। বীমা করে কারো লস হয় না?

★নিখিল কুমার দাস: বীমা মূলত নিজের জন্য না। পরিবারের নির্ভরশীলদের জন্য এটা করা হয়। স্ত্রী ও সন্তানরা উপকৃত হয়। চিকিৎসা বীমার মাধ্যমে ব্যক্তি, সন্তান ও স্ত্রী উপকৃত হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিবছর চুক্তি অনুযায়ী সামান্য টাকা (অফেরতযোগ্য) তাকে প্রদান করতে হয়। লস বলতে কারো হয়ত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন হল না, কিন্তু কেউ না কেউ তো সহায়তা পাচ্ছে। তাই বীমা করে লস হয় না, কারণ, মাঝে মধ্যে অসুস্থ কমবেশি সকলেই হয়।

৯। আপনি কীভাবে মানুষকে বীমা করতে উৎসাহিত করেন?

★নিখিল কুমার দাস: জীবনটা ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা লাঘব করার জন্য বীমা করা হয়। অনেকটা চিন্তামুক্ত থাকা যায়। তাছাড়া জীবিতকালীনও কোনো শারীরিক সমস্যা তৈরি হলে উপার্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে বীমা করা থাকলে সুবিধা পাওয়া যায়। বীমা কোম্পানি এক্ষেত্রে সহযোগিতা করে থাকে।

১০। কোন শ্রেণির মানুষ বেশি বীমা করে আপনার অভিজ্ঞতায়?

★নিখিল কুমার দাস: সাধারত বেসরকারি চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা বেশি বীমা করে থাকেন। কারন আমাদের দেশে বেসরকারি চাকুরীজীবীরা ও ব্যবসায়ীদের চাকুরী শেষে বা বৃদ্ধ হলে প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুই পাননা, তাই বৃদ্ধ বয়সের জন্য তারা বীমা করে থাকেন।

১১। আপনারা কী পরিমাণ সুবিধা দিচ্ছেন প্রতি মাসে?

★নিখিল কুমার দাস: গড়ে প্রতি মাসে ৪০০০ ক্লেইম ফয়সালা করছে মেটলাইফ এবং ক্লেমে টাকার পরমাণ ২০১৮ সালে ছিল ১৫১ কোটি টাকা!
১২। শেষ জিজ্ঞাসা, আমাদের দেশের জনগণের জন্য কিছু বলুন!

★নিখিল কুমার দাস: আসলে আর্থিক লাভ শুধু নয়, এক্ষেত্রে বীমা গ্রহীতার মানসিক প্রশান্তি একটি বড় বিষয়। বীমা করে তিনি “মানসিক প্রশান্তি” লাভ করেন; কারণ তিনি জানেন যে তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা অর্থ সমস্যায় পতিত হবে না। তাই সকল পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সকলের জীবন বীমা থাকা জরুরী দরকার!
আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও!



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ সাক্ষাৎকার

-- ব্লগার NIKHIL Kumar Das এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 8 3 8 7
আজকের প্রিয় পাঠক
3 2 8 9 1 2 6 5
মোট পাঠক