• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী, ২০২০ | ৭ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

Photo
বীমা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় কথাঃ

*বীমাঃ মানুষের জীবন ও সম্পদ সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ও সম্ভাব্য বিপদ মোকাবেলা করার হাতিয়ার হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমানের অর্থ (প্রিমিয়াম) প্রদানের বিনিময়ে অপরপক্ষ কর্তৃক উক্ত নিশ্চয়তা ও ঝুঁকি গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকারকেই বীমা বলে।

 

*বীমা বিবর্তনের ইতিহাসঃ

• বীমা ক্রমবিকাশ লাভ করে ১৪০০ সাল থেকে

• বীমার অগ্রযাত্রা শুরু হয় নৌ বীমার মাধ্যমে

• পৃথিবীতে সর্বপ্রথম নৌ-বীমা ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয়, এরপর আসে অগ্নিবীমা ও সবার পরে জীবন বীমা

• ইউরোপীয় বণিকরা প্রথম দিকে সমবায় সংস্থার মাধ্যমে বীমা ব্যবস্থার প্রচলন করেন

• ভারত উপমহাদেশে ১৯২৮ সালে The Indian Insurance Companies Act নামে সর্বপ্রথম বীমা আইন প্রণীত হয় (সংশোধিত ও পরিমার্জিত হয় ১৯৩৮ সালে)


• ১ম সুনির্দিষ্ট ও সুসংবদ্ধ বীমা সংগঠন- ASPA (Amicable Society for Perpetual Assurance)

 

*বীমার প্রকারভেদঃ

• লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী (জীবন বীমা কো:)

• নন-লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী (সাধারণ বীমা কো:)

*বাংলাদেশে বীমা বিবর্তনের ইতিহাসঃ

• বাংলাদেশে প্রচলিত বর্তমান বীমা আইন- ২০০৯ সালের (পূর্বে ১৯৩৮ সালের বীমা আইন প্রচলিত ছিল)

• বর্তমানে বীমা কোম্পানি- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে (পূর্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল)

• বাংলাদেশে বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ পাস করা হয়- ২০০৮ সালে

• নবম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০০৯’ পাস হয়

• বর্তমানে এই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) - (যার পূর্ব নাম ‘বীমা অধিদপ্তর’) দ্বারা দেশের সকল বীমা কোম্পানী পরিচালিত হচ্ছে

• বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৭৮ টি বীমা কোম্পানি রয়েছে যার মধ্যে ২টি সরকারি (জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা); ৭৬ টি বেসরকারি (২টি বিদেশি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী) বীমা কোম্পানী রয়েছে যার মধ্যে ৩২ টি "লাইফ ইন্সুরেন্স" ও বাকী ৪৬ টি "নন লাইফ ইন্সুরেন্স" কোম্পানী রয়েছে

• বাংলাদেশে জীবন বীমার জন্য শুধু জীবন বীমা কোম্পানি কাজ করে বাকি অন্য সব ধরনের বীমা (অগ্নিবীমা, নৌবীমা, মটরযান বীমা, দুর্ঘটনা বীমা ইত্যাদি)-এর জন্য সাধারণ বীমা কোম্পানি কাজ করে থাকে

• সাধারণ বীমা (জেনারেল ইন্স্যুরেন্স)-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে- "নন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড"

• বেসরকারি খাতে বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়- ১৯৮৪ সাল থেকে

* নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে জীবন বীমার গুরুত্বঃ

“Life” জীবনের সাথে “IF’’ যদির সম্পর্ক। আর জীবনের চরম তিন সত্য Death, Disability, Indemnity নিয়ে ভাবা এবং তার জন্য সুযোগ থাকলে সুরক্ষাবলয় তৈরি করা। IPS যেমন বিদ্যুতের আলো চলে গেলে Instant Power Supply দেওয়ার মাধ্যমে ঘর আলোকিত করে ঠিক তেমনি জীবনের আলো নিভে গেলে জীবন বীমা পরিবারকে Financial Power Supply দেওয়ার মাধ্যমে আলোকিত করতে সাহায্য করবে।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে IPS কি আগে থেকে বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দিতে হয়। তাহলে প্রয়োজনের সময় পরিমান মত আলো পাওয়া যায়। ঠিক এমনি পলিসিরি কাজ হলে বীমাকারীর অবর্তমানে তার উত্তরসূরিকে কোম্পানির তাগিদে পরিকল্পিত সম্পদ বুঝিয়ে দিয়ে সন্তুষ্ট করা। অপরদিকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে রেখে যাওয়া বা অন্যান্য সম্পদ তার উত্তরসূরিদের নিজ তাগিদে বুঝে নিতে হয় তার অবর্তমানে কখনো কখনো হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই পরিবারের জাহাজ। সেই জাহাজের উপর ভরসা করে (অন্য) সদস্যরা সফলতার গন্তব্যে পৌঁছার স্বপ্ন দেখে। “জীবন” নামক জাহাজে যদি চিন্তা করে ‘’LIFE BOAT” এবং “Life Jacket” হিসাবে Insurance Support নিশ্চিত করা গেলে বীমাকারীর অবর্তমানে পরিবারের যাত্রীদের কিছুটা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মেলে।

## সারা বিশ্বে বীমা এখন ৬ নং মৌলিক চাহিদা (অন্ন; বস্ত্র; বাসস্থান; শিক্ষা; চিকিতসা ও বীমা) হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং অনেক দেশেই সরকারী ভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ##

** বীমা নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১ টি গুজব/Myth::

“ধুর মিয়া, এই পর্যন্ত কয়েকশ বীমা কোম্পানী পালাইছে, আমাগো গ্রামেও একটা বন্ধ হইছে” !!
.
মাঠ লেভেল থেকে এরকম তথ্য পাননি সেরকম বীমা কর্মীর সংখ্যা বিরল। শুধু কি অশিক্ষিত লোকেরাই এসব বলে ? মোটেও না, বহু শিক্ষিত লোকও না জেনে না শুনে বীমা সর্ম্পকে অপবাদ দেয় এবং বাকী সবাই এটা বিশ্বাস করে !

এরকম একটি ঘটনা বললে বিষয়টি সকলের কাছে পরিষ্কার হবে বলে আশা করছি..........
.
হাই স্কুলের একজন শিক্ষককে বীমা প্রস্তাব করা হলে তিনি বললেন, এগুলো দুদিন পর পর বন্ধ হয়, কয়েকশ পলাইছে। আপনারা পালাবেন কবে ? আমরা তাকে বললাম, আপনার হাতে তো ফোন আছে, তথ্য প্রযুক্তিতে আমরা বহুদুর এগিয়ে গিয়েছি, ঘরে বাইরের যে কোন খবর, তথ্য মুহুর্তের মধ্যেই হাতের নাগালে চলে আসে, তারপরেও আপনার মতো জ্ঞানী, শিক্ষিত মানুষ যদি না জেনে না বুঝে অবুঝের মতো মন্তব্য করেন তাহলে জাতির ভবিষ্যত অন্ধকার।
.
তিনি বললেন, তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন আমি আন্দাজে কথা বলছি ? অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাকে আমরা বললাম, আমরা কিছু বলবো না, আপনাকে দেখাবো। এরপরে গুগল সার্চ করে তাকে সরকারী ওয়েব সাইট তথ্য তুলে ধরে তাকে দেখালাম বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতটি বীমা কোম্পানী অনুমোদন লাভ করেছে আর কতগুলো পালিয়েছে ! 
.
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া কোম্পানীর সংখ্যা যেখানে এখনো অর্ধশত পেরুতে পারলো না সেখানে আপনার কাছে কয়েকশ কোম্পানী পালানোর তথ্যকে আমি আন্দাজের ভিত্তিতে দেওয়া মন্তব্য না বলে কি করবো? তাছাড়া এদেশর জীবন বীমা কোম্পানী রয়েছে মাত্র বত্রিশ (৩২) টি সেখানে কয়েকশ পালানোর তথ্য নিশ্চয় গুজব বা অনুমান নির্ভর। তিনি অবশেষে স্বীকার করলেন যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালিয়ে যাওয়া সমিতি, মাল্টিপারপাসকে বীমা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।
.
আমরা বলেছি, আইনের কারনে কোন বীমা কোম্পানী বন্ধ হতে পারে না, সরকার চাইলেও কোন কোম্পানীকে বিলুপ্ত করতে পারে না যতক্ষন না গ্রাহকের দাবি সম্পুর্ণ পরিশোধের মতো ব্যবস্থা না করা হয়। এ ক্ষেত্রে দুর্বল কোম্পানীকে সবল কোন কোম্পানীর সাথে মাস্ক বা সংযুক্ত করা হয়ে থাকে। কিন্তু এটাও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটেনি। সেখানে পালিয়ে যাওয়া, টাকা মেরে খাওয়ার সুযোগ কোথায় ? নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদান করলে, নিজ হাতে অফিসে টাকা জমা দিলে বা অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করলে এবং সঠিক টাইমে খোজ খবর রাখলে বীমাই হতে পারে বিনিয়োগের একমাত্র আস্থাভাজন, নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ মাধ্যম।

নীচের ছোট্ট ১ টি পরিসংখ্যান (যা আমরা হয়ত অনেকেই জানি না !) দেখলেই এই ভূল গুজব সমন্ধে আমাদের ধারণা পাল্টে যাবেঃ

## সরকারকে ১,৬৯২ কোটি টাকা রাজস্ব দিলো বীমাকারী কোম্পানীগুলো:---

দেশের সরকারি-বেসরকারি ৭৮টি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর এবং স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ সরকারকে ১,৬৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে।

এরমধ্যে লাইফ খাতের রয়েছে ৩৭০ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং নন-লাইফের ১ হাজার ৩২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। লাইফ ও নন-লাইফ বীমাকারীর ব্যবসার দক্ষতার মূল্যায়ন শীর্ষক তৃতীয় প্রান্তিকের পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে "বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)" ।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩২টি লাইফ বীমা কোম্পানি ৩৭০ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব প্রদান করেছে। এর মধ্যে করপোরেট ট্যাক্স ১৪৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা, ভ্যাট ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, উৎসে কর ১৮৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং উৎসে ভ্যাট ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি ৯৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা করপোরেট ট্যাক্স, ৬৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি, ১৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ভ্যাট, ৫৯ কোটি ১২ লাখ টাকা উৎসে কর এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা উৎসে ভ্যাট প্রদান করেছে।

** জীবন বীমা সম্পর্কে প্রচলিত যত ভুল ধারণাঃ

জীবন বীমা এমন একটি চুক্তি, যার মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ একপক্ষ নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম প্রদান করে এবং অন্য পক্ষ ওই প্রিমিয়ামের বিনিময়ে জীবনহানি বা মৃত্যু ঘটলে ক্ষতিপূরণস্বরূপ বীমাকৃত অর্থ পরিশোধ করে বীমা গ্রহীতার চাহিদার কথা বিবেচনা করে কোম্পানি গুলো বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। বীমা গ্রহীতা চুক্তি মোতাবেক সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বীমা কোম্পানি গুলোর দায়িত্ব হলো, চুক্তি মোতাবেক গ্রহীতাকে সেবা প্রদান করা।

জীবন বীমা সাধারণ কোনো পণ্য নয়। জীবন বীমা নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেক সময় ভুল ধারণা জন্ম নিতে দেখা যায়, যেমন—

১) আমার জীবন বীমা পলিসি ক্রয়ের প্রয়োজন নেইঃ- কথাটি সত্যি নয়। জীবনের প্রধান সত্য হলো মৃত্যু বা অনাকাংখিত দূর্ঘটনা যা যেকোন মানুষের ক্ষেত্রে যেকোন সময়েই ঘটতে পারে। যে মানুষটির রোজগারে পুরো পরিবার চলে, সে মানুষটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার এক চরম অনিশ্চয়তায় পতিত হয়, থেমে যেতে চায় জীবনের চাকা। অনেক সময় অর্থাভাবে সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বিয়েসহ নানা সংকটে দৈনন্দিন জীবনযাপন দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। জীবন বীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতা এক বা একাধিক মনোনীতক নিয়োগ করেন, যাতে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে তার মৃত্যু হলে মনোনীতককে পূর্বনির্ধারিত বীমা অঙ্ক প্রদান করা যায়। তাই জীবন বীমা পত্র ক্রয় করা থাকলে ব্যক্তির অভাব সম্পূর্ণ পূরণ সম্ভব না হলেও আর্থিক সমস্যা কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

২) বীমা কোম্পানিগুলো ব্যাংকের চেয়ে কম লাভ দেয়ঃ- বীমা পলিসি ক্রয় না করে টাকা এফডিআর বা অন্য কোনো নামে ব্যাংকে জমা রাখলে ব্যাংক জমাকৃত টাকা ও নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদসমেত হিসাব গ্রহীতাকে অথবা তার মনোনীতককে ফেরত দেয়। কিন্তু জীবনের কোনো ঝুঁকি নেয় না। সবসময় ব্যাংকের লাভের সঙ্গে জীবন বীমা পলিসির তুলনা করা সঠিক নয়। কেননা দুটির উদ্দেশ্য আলাদা। ব্যাংক শুধু জমাকৃত টাকার হেফাজত করে, অন্যদিকে জীবন বীমা কোম্পানি গ্রহীতার জমাকৃত টাকার হেফাজতের পাশাপাশি তাঁর জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও কাজ করে যা আর্থিক লাভের চেয়েও অনেক বেশী মূল্যবান !

৩) জীবন বীমা পলিসি ক্রয় অর্থ অপচয়ের শামিলঃ- জীবন বীমা পলিসি ক্রয় একটি বিনিয়োগ। কোনোক্রমেই অর্থ অপচয় নয়। পলিসি কিনলে বীমাগ্রহীতা কোম্পানির কাছ থেকে বীমা দাবি পান। এ বীমা দাবি দিয়ে গ্রহীতা সাময়িক আর্থিক সমস্যা মেটাতে পারেন, উন্নয়নমূলক কোনো কাজ এবং অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে ও পরিবারকে মুক্ত রাখতে পারেন। পাশাপাশি সরকারী ত্যাক্সের থেকেও ছাড় পান।

৪) আমার অনেক সম্পদ রয়েছে সুতরাং বীমা পলিসির প্রয়োজন নেইঃ প্রচুর সম্পদ অনেক সময় দায় সৃষ্টি করে। দেখা দরকার যে, মোট সম্পদের তুলনায় মোট দায় (চলতি দায় ও দীর্ঘমেয়াদি দায়) কম না বেশি। যদি মোট দায় বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত দায়ের সমপরিমাণ বীমা পলিসি ক্রয় করে ঘাটতি মেটানো যেতে পারে। জীবন বীমা পলিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লাভের একটি অংশ টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায়, অন্য অংশটি পরিমাপযোগ্য নয়। পাশাপাশি স্থাবর সম্পদ চাইলেই যেকোন সময় বিক্রয় করে নগদ অর্থে পরিবর্তন করা যায় না এবং কখনো কখনো এই সম্পদ বেদখল হবারও চান্স থাকে !

৫) একাকী জীবনে বীমা পলিসির প্রয়োজন নেইঃ এটাও আরেকটি বড় ভূল ধারনা; জীবনমাত্রই ঝুঁকি। ঝুঁকি বিদ্যমানও হতে পারে কিংবা ভবিষ্যতে আসতে পারে। কেননা ভবিষ্যৎ অজানা। সুতরাং একাকী জীবন হলেও বীমা পলিসি ক্রয় করা উচিত।

৬) প্রতিষ্ঠান আমার জন্য গ্রুপ পলিসির ব্যবস্থা করেছেনঃ অনেক সময় চাকুরিদাতা তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য গ্রুপ বীমার ব্যবস্থা করেন, যেখানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজের জীবন বীমাকৃত থাকলেও, পরিবারের অন্য সদস্যরা জীবন বীমার বাইরে থেকে যায়। আমাদের বেড়ে ওঠার এবং সফলতার পেছনে যেমন পরিবারের অন্য সদস্যদের অবদান রয়েছে, তেমনি তাদের প্রতিও আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সুতরাং নিজের জীবন ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন ঝুঁকিগ্রস্ত হলে মনে শান্তি আসবে না।

৭) আমার অলরেডি একটিি পলিসি রয়েছে, সুতরাং আর নতুন কোন পলিসির দরকার নেইঃ এটিও মানুষের মনের মাঝে আরেকটি ভ্রান্ত ধারনা-জীবনের মূল্য টাকার অঙ্কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। জীবন বীমা পলিসি ক্রয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই। যেহেতু একটি একটি সঞ্চয়যুক্ত বিনিয়োগ যার নিশ্চিত রিটার্ণ রয়েছে, সেহেতু সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সম্পদ অনুযায়ী যত খুশি তত জীবন বীমা পলিসি ক্রয় করতে পারেন।

৮) বেশি অঙ্কের বীমা পলিসির প্রয়োজন নেইঃ একজন ব্যক্তির কী পরিমাণ বীমা অঙ্ক দরকার তা নির্ভর করে ওই ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর। মাসিক ফিক্সড খরচ, চিকিৎসা সেবা, দায় পরিশোধ, সন্তানের ভরণ-পোষণ ইত্যাদি মেটানোর জন্য যথাযথ অর্থের সংস্থান করা প্রয়োজন।

৯) জীবন বীমা পলিসি ক্রয় না করে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করবঃ সব বিনিয়োগের মধ্যেই ঝুঁকি বিদ্যমান। একমাত্র জীবন বীমা পলিসি ঝুঁকি কমানো/নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। জীবন বীমা পলিসি ক্রয় করলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর মূলধনের সাথে বোনাস/মুনাফা নিসচিত ফেরত পাওয়া যায় যা অনেক সময় অন্য কোন বিনিয়োগ প্রকল্পে নিশ্চিত ভাবে ফেরত পাওয়া যায় না ! পাশাপাশি পলিসির অর্থ থেকে একটি নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত কর রেয়াত পাওয়া যায়। যা ব্যাংক বা অন্য যেকোন প্রকল্পে পাওয়া যায় না।

১০) আমার অবর্তমানে নমিনি বীমার টাকা নাও পেতে পারেঃ সম্পূর্ণ ভুল একটি ধারনা এটি কারণ বীমা ব্যবসা সরকারের একটি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় যা সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে; আর এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুইটি বিভাগ কাজ করে, একটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক যারা কাজ করে দেশের সকল ব্যাংক নিয়ে আর আরেকটি হচ্ছে ইডরা যারা কাজ করে দেশের সকল বীমা কোম্পানী নিয়ে, সুতরাং বীমা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকেই নীতিগুলো মেনে চলতে হয়। বীমার ক্ষেত্রে বীমাযোগ্য স্বার্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। যে জীবনের বীমাযোগ্য স্বার্থ নেই, তা বীমা করা সম্ভব নয়। যেমন— মানুষের নিজের জীবনের ওপর তার বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জীবনের ওপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে। তবে দেনাদার তার পাওনাদারের জীবনের ওপর কোনো বীমাযোগ্য স্বার্থ বহন করে না। বীমাযোগ্য স্বার্থসহ অন্য সব তথ্য সঠিক থাকলে বীমাগ্রহীতার অবর্তমানে নমিনি বীমার দাবিকৃত অর্থ পেতে কোনো বাধা নেই।

১১) মারা গেলে লাভ বেশী বেচে থাকলে বীমার টাকা পাওয়া যায় না বা গেলেও আসলের চেয়ে কম পাওয়া যায়ঃ সবচেয়ে বড় ভূল ধারনা হচ্ছে এটি। সাধারণ ভাবে বুঝার চেষ্টা করুন যেহেতু বীমা একটি বৈধ দ্বী-পাক্ষিক চুক্তিপত্র যেখানইধাপনি আপনার জীবনের ঝুঁকির দায়িত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানী সেহেতু যখনি আপনার জীবনে ঝুঁকি আসবে ঠিক তখনি বীমা কোম্পানী ঝুঁকির জন্য যা পাবার কথা সেটা দিয়ে দিবে তাতক্ষ্ণিক; আর যদি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আপনার জীবনঙ্নকো ধরনের ঝুঁকি না আসে তাহলেও আপনি আপনার প্রাপ্য পাবেনই বোনাস/মুনাফা সহ।

উপরের উদাহরণগুলো ব্যতীত আরো অনেক ধারণা/মন্তব্য থাকতে পারে। সারা বিশ্বে বীমা ব্যবস্থা ঝুঁকি হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এটা একটি সমবায়ের মতোও বটে। যেখানে একজনের বিপদে অন্য সদস্যরাও ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে অবদান রাখে। সুতরাং বীমাকে অবজ্ঞা না করে সামর্থ্য অনুযায়ী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ন্যূনতম একটি করে পলিসি ক্রয় করে আর্থিক ঝুঁকি যেমন হ্রাস করা সম্ভব, তেমনি এটি একটি ভালো বিনিয়োগও বটে।

** মূল সমস্যা ও এর সম্ভাব্য সমাধানঃ

জীবন বীমা পলিসি লোকে ক্রয় করতে উৎসাহ দেখায় না, এটা বিক্রয় করতে হয়। বাংলাদেশে বিক্রীত প্রায় সব জীবন বীমা পলিসি বীমা এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে থাকে বিধায় এখানে বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে কিছু তথ্যগত ভূল হয় যেমন- আপনি যেকোন সময়ই পলিসি ভেঙ্গে ফেলতে পারবেন; প্রিমিয়ামের টাকা জমে গেলেও সমস্যা নেই পরে একবারে দিয়ে দিলেই পলিসি সচল হয়ে যাবে, এজেন্ট কর্তৃক পলিসি হোল্ডারের প্রিমিয়ামের টাকা সঠিক সময়ে কোম্পানী অফিসে জমা না হওয়া, অল্প কিছু প্রিমিয়াম জমা দিয়ে বাকীগুলো জমা না দিয়ে পুরো বীমা অংকের টাকা দাবী করা...... এ জাতীয় বেশ কিছু সমস্যার কারণে এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারোনা আছে। সঠিক ও আপ টু ডেট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপণার মাধ্যমে ব্যাপক গণ সচেতনটা তৈরি করে এই ইন্ডাস্ট্রিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে সবাই উপকৃত হই।



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ বীমা সচেতনতা

-- ব্লগার DI MS এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
9 2 2 5
আজকের প্রিয় পাঠক
1 7 4 9 2 4 9 0
মোট পাঠক