• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ১৯ জুন, ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

Photo
জীবন বীমা ব্যবসা থেকে পৃথক হচ্ছে ইসলামী বীমা

প্রথাগত ও ইসলামী বীমা ব্যবসাকে পৃথক করার উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এজন্য তাকাফুল তহবিল ও বিনিয়োগ তহবিল পৃথকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের বিধান রেখে জীবন বীমা কোম্পানির হিসাব ও স্থিতিপত্র প্রবিধানমালা-২০১৯ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আইডিআরএ বলছে, বর্তমানে দেশে ইসলামী বীমা ব্যবসা নেই। যা হচ্ছে তা হলো ইসলামের নামে প্রথাগত ব্যবসা। প্রকৃত অর্থে ইসলামী বীমা ব্যবসায় গ্রাহক ও মালিকের অংশগ্রহণ সমান। এতে গ্রাহকরা কখনই তাদের সঞ্চয় থেকে বঞ্চিত হন না।

খসড়া প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, প্রথাগত বীমা ব্যবসা ও ইসলামী বীমা ব্যবসার হিসাবও নির্ধারিত ফরমে পৃথকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। একই কোম্পানি যদি প্রথাগত ও ইসলামী উভয় ব্যবসা পরিচালনা করে, তাহলে তাও পৃথকভাবে দেখানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্তের জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও আইডিআরএ সদস্য বোরহান উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে খসড়া প্রবিধানমালটি সব জীবন বীমা কোম্পানিতে পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই এটা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর সদস্য বোরহান উদ্দীন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা ইসলামী ব্যবসাকে পৃথক করার চেষ্টা করছি। এজন্য আইনেও কিছু পরিবর্তন, সংযোজন বা সংশোধন আনা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের বক্তব্য হলো, কোনো কোম্পানি যদি ইসলামী বীমা ব্যবসা করে, তাহলে তাকে শতভাগ শরিয়াহ আইন মেনে তা করতে হবে।

জানা যায়, বীমা আইনে প্রথাগত ও ইসলামী বীমা ব্যবসা একই সঙ্গে করার ক্ষেত্রে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর বাধা রয়েছে। কিন্তু লাইফ কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কী হবে তা বলা হয়নি।

বীমা আইন-২০১০-এর ৭ ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে ইন্স্যুরেন্স অ্যাক্ট ১৯৩৮-এর অধীন নিবন্ধিত যেসব বীমা প্রতিষ্ঠান ইসলামী বীমা ব্যবসা পরিচালনা করত, সেসব কোম্পানি ও ইসলামী বীমা ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী যেকোনো ব্যক্তি বা কোম্পানিকে আইডিআরএর কাছে যেকোনো শ্রেণীর বা উপশ্রেণীর বীমা ব্যবসা করার অনুমতি নিয়ে তা করতে হবে। তবে শর্ত থাকে, যেকোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি একই সঙ্গে প্রচলিত নন-লাইফ বীমা ব্যবসা ও ইসলামী বীমা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লা বলেন, প্রথাগত ও ইসলামী বীমা ব্যবসা পৃথকভাবেই পরিচালনা করা উচিত। তবে আইনে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য নেই। তাই নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যদি প্রথাগত ও ইসলামী ব্যবসা আলাদা করতে চায়, তাহলে তাদের আইন সংশোধন বা সংযোজনের মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন আহমদ বলেন, অন্যান্য পলিসির ক্ষেত্রে দেখা যায়, মেয়াদ পূর্ণ না হলে বা অন্য কোনো কারণে পলিসিহোল্ডারদের জমানো সঞ্চয় তামাদি হয়ে যায়। কিন্তু খসড়া বিধিটি চূড়ান্ত হলে ইসলামী পলিসির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এমন হবে না। মেয়াদ পূর্ণ না করলেও জমানো সঞ্চয় থেকে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কেটে রেখে অবশিষ্ট অংশ তাকাফুল বা ইসলামী পলিসির গ্রাহকদের পরিশোধ করা হবে।

জানা যায়, দেশে মোট ১১টি ইসলামী বীমা কোম্পানি ব্যবসা করছে। এরই মধ্যে জীবন বীমা আটটি ও সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে দুটি। ইসলামী জীবন বীমা কোম্পানিগুলো হলো ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, জেনিথ ইসলামী লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, আলফা ইসলামী লাইফ ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ইসলামী সাধারণ বীমা কোম্পানি তিনটি হলো ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ও ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া নন-ইসলামিক কোম্পানিগুলোও আলাদা উইং খুলে ব্যবসা করে আসছে। দেশের একমাত্র বিদেশী কোম্পানি মেট লাইফ খুলেছে ইসলামী উইং।

জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম নুরুজ্জামান বলেন, ইসলামী বীমা ব্যবসার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা হয়নি। তাই এ-সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বীমা ব্যবসায় স্বচ্ছতা আসবে।

খাসড়া প্রবিধানমালার বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিশেষ কাজে লাগবে, এমন তহবিল আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে হবে। বিনিয়োগকৃত সম্পত্তির মূল্য প্রতি তিন বছরে একবার পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে করা বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকৃতি ও ঋণপত্রগুলো পৃথকভাবে প্রকাশ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সুদ, লভ্যাংশ, ভাড়া গ্রস মূল্য হিসেবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

প্রবিধানমালায় অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন সম্পর্কে বলা হয়েছে, জীবন বীমা পলিসির বিপরীতে দায়ের হিসাব কোম্পানির নিয়োগকৃত অ্যাকচুয়ারি দ্বারা নির্ধারিত হবে। দায়গুলো এমনভাবে নিরূপণ করতে হবে, তা যেন বীমা কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রিমিয়াম ব্যয় ও বিনিয়োগ আয়সহ সব ভবিষ্যৎ দাবি এবং ব্যয় সংকুলানে সমর্থ হয়।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা এখনো নিয়ম অনুযায়ী আমাদের হিসাব ও স্থিতিপত্র তৈরি করি। তাই সমস্যা না হলে নতুন কোনো প্রবিধানমালার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু এর পরও যদি করতে হয়, তাহলে কোনো কোম্পানি যেন সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মাথায় রাখা উচিত।
 




-- ব্লগার M. Mahbubur Rahman এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
8 1 3 6
আজকের প্রিয় পাঠক
7 3 8 1 1 5 2
মোট পাঠক