• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শুক্রবার | ২২ নভেম্বর, ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৬:৪০ অপরাহ্ন

Photo
বীমা কেন বধ্যতামূলক হবে

আপনি উড়োজাহাজে উঠবেন, টিকেট ক্রয় করলেই বীমার আওতায় চলে আসবেন।   এক্ষেত্রে বীমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রতিটি মালিককে যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়।   নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে মালিক বীমা কোম্পানি বীমা চুক্তি করবে না ফলে তিনি ব্যবসা করতে পারবেন না।   এ কারণেই বীমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় বড় সুবিধা হচ্ছে প্রতিটি উড়োজাহাজে যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় ফ্যাক্টর।   ঠিক তেমনি আমাদের দেশে বাস, লঞ্চ এবং ট্রেনের যাত্রীদের বীমা থাকা খুবই জরুরী এবং  এগুলো বাধ্যতামূলক হওয়া দরকার।   

মটর লাইসেন্স পেতে হলে বীমা করতে আইনি খলিল  রয়েছে।   কারের ক্ষেত্রে গাড়ির ও ড্রাইভারসহ ৫ জনের এবং বাসের ক্ষেত্রে ড্রাইভার ও হেলপারের বীমা কভারেজ রয়েছে, কিন্তু বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীদের কোন বাধ্যতামূলক বীমা নেই এবং বীমা কভারেজও নেই ।   সময়ক্ষেপণ না করে আমাদের প্রচলিত আইনে বাস, লঞ্চ এবং ট্রেনের যাত্রীদের জন্য বীমা বাধ্যতামূলক বিধান করা প্রয়োজন।  

ভারতে ট্রেন যাত্রী যারা অনলাইন টিকেট ক্রয় করেন তারা বীমার আওতায় চলে আসেন। আমরা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে ট্রেনের যাত্রীর বীমার পলিসি চালুর জন্য মতামত চেয়ে এখনো কোন সাড়া পাই নি।   আমরা কখন সচেতন হব জানি না।  

সম্প্রতি ঘটে গেল বড় ধরনের দু’টি অগ্নি দুর্ঘটনা।   জান ও মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   এখানে ফায়ার ইন্স্যুরেন্স করা থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিতে পারত।   যাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে তাদের কাঁদতে হত না, কারণ বীমা করা থাকলে বীমা কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির পুনঃবীমাকারী (দেশী বা বিদেশী) যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে পারত।   আমি অবাক হয়েছি এই ভেবে যে, বাংলাদেশে অগ্নি বীমা আছে কিনা আমরা অনেকেই জানিনা অথচ বাংলাদেশের ৪৬টি কোম্পানি এ সুবিধা দিচ্ছে।   আমাদের দেশে সাধারণ বীমায় সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম আয় হয় এবং বীমা দাবি পরিশোধ হয়।   আরেকটি বিষয়, এ ধরনের বীমায় প্রিমিয়ামের হার খুব বেশী নয় এবং এগুলো এক বছরের বীমা প্রতিবছর প্রিমিয়াম দিয়ে আবার সচল করতে হয়।

যে বিষয়টি উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম সেটি হচ্ছে বীমা বাধ্যতামূলক করা হলে যাত্রীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে কোন বাহনের মালিক বীমা করতে পারবে না এবং লক্কর যক্কর ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাতে পারবে না।   যাত্রীও বীমাবিহীন গাড়িতে উঠবে না। একইভাবে দালান কোটা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বীমা বাধ্যতামূলক করা হলে সকল কমপ্লায়েন্স না থাকলে বীমা কোম্পানি বীমা চুক্তি করবে না।   ফলে বীমার সুবিধা নিতে হলে প্রতিষ্ঠানের সকল কমপ্লায়েন্স এবং জান-মালের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।   সরকারকে জনবলের অভাবে অনিয়ম দূরকরণে ব্যাপক পরিদর্শন করতে না পারার জন্য জবাবদিহি করতে হবে না।   কারণ বীমা বাধ্যতামূলক করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক অনিয়ম দূর হবে।   অনিয়ম দেখার জন্য বড় বড় পরিদর্শনকারী দল গঠনের প্রয়োজন হবে না।   এ কাজটি বীমা প্রতিষ্ঠান তার স্বার্থে করে নিবে।
  
প্রাথমিকভাবে সিটি কর্পোরেশনসমূহ তার আওতাধীন সকল স্থাপনার জন্য বীমাকরণ নিশ্চিত করতে পারলে এবং প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়নের পূর্বে বীমা করাতে পারলে একটি ইতিবাচক ফলাফল আসবে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনসমূহ বীমা প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার বিধান করতে পারলে কর্পোরেশন কমিশনের অর্থ পাবে এবং বীমার কাজটি সহজে সমাধা করা যাবে।   

আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এখনই সিটি কর্পোরেশনসমূহ জনস্বার্থে বীমা করা না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এবং নবায়ন করা থেকে বিরত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একটি পরিবর্তন দেখতে পারব।   আমরা এ প্রত্যাশা করতে পারি।

খলিল আহমেদ, নির্বহী পরিচালক (যুগ্ন সচিব) 

 


-- ব্লগার AbSobahan Hossen এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
3 5 6 6 7
আজকের প্রিয় পাঠক
1 4 5 1 3 9 0 4
মোট পাঠক