• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

Photo
‘ ডাক জীবন বিমায় সর্বোচ্চ বোনাস’

দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য বিমা কোম্পানির ভিড়ে অনেকেই হয়তো ডাক জীবন বিমার নাম ভুলে গেছেন। অথচ পাক-ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিমা সংস্থা হলো ডাক জীবন বিমা। ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শুরুতে কেবল ডাক বিভাগের রানারদের বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পলিসি চালু করা হয়। তবে পরবর্তীতে এটি ডাক বিভাগের কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্যও উন্মুক্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে দেশের যেকোনো নাগরিক এ বিমা প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারে।

ডাক জীবন বিমা সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি জনকল্যাণমূলক বিমা প্রকল্প। এটি অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ডাক বিভাগের একটি এজেন্সি সার্ভিস। ডাক বিভাগ সেবাটির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন এবং মার্কেটিংয়ের কাজ করে।

ছবিটি সংগৃহীত 
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে কথা হয় আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আরিফুল হকের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, ডাক জীবন বিমার প্রধান আকর্ষণ হলো নিম্ন হার প্রিমিয়াম ও উচ্চ হার বোনাস। কারণ মুনাফা অর্জন করা এ বিমার উদ্দেশ্য নয়। ফলে এর প্রিমিয়ামের পরিমাণ খুব কম। প্রিমিয়ামের পরিমাণ সাধারণত বিমাকারীর বয়স ও পলিসির মেয়াদের উপর নির্ভর করে।

বর্তমানে ডাক জীবন বিমার পলিসিগুলোর মধ্যে আজীবন বিমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের সর্বনিম্ন পরিমাণ ১ টাকা ৮০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ১৫ পয়সা। ডাক জীবন বিমার সঙ্গে অন্য যে কোনো বিমার কোম্পানির মূল পার্থক্য হলো এখানে, জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য থাকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা করতে হবে। তবে সরকার এখাত থেকে কোনো লাভ করে না। বরং এটি পরিচালিত হয় না লাভ, না লোকসান ভিত্তিতে। ফলে উদ্বৃত্ত অর্থের সবটুকু বোনাস হিসেবে পলিসি হোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এখানে গ্রাহকরা সর্বনিম্ন প্রিমিয়ামে সর্বোচ্চ মুনাফা পাবে।

তিনি আরও বলেন, স্বল্প মূল্যের বিমা প্রদানের সুবিধা, পরিচালন মিতব্যয়িতা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ডাক জীবন বিমা ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম্য একটি জনকল্যাণমূলক বিমা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে গত প্রায় ১৩০ বছরে দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এ বিমার কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৪টি আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর অধীনে রয়েছে সহকারি জেনারেল ম্যানেজারের (এজিএম) অফিস। রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারের মতো গ্রাহক।

পলিসি সমূহ:

বিমা পলিসি গুলো হলো-আজীবন বিমা, মেয়াদী বিমা, শিক্ষা বিমা, বিবাহ বিমা, দুর্ঘটনা মৃত্যু এবং দুর্ঘটনা চির অক্ষমতা জনিত অতিরিক্ত চুক্তি, ডাক্তারি পরীক্ষাবিহীন বিমা, পোস্ট অফিস অ্যানুইটি ও যৌথ বিমা প্রকল্প।

ডাক জীবন বিমার বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

# প্রিমিয়ামের হার অন্য যেকোনো বিমা কোম্পানি থেকে কম।
# বোনাসের হার বেশি।
# পলিসির কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। অর্থাৎ যে কোনো অংকের পলিসি গ্রহণ করা যায়।
# বাতিল বিমা পুনরুজ্জীবনের সুবিধা আছে।
# পলিসি থেকে ঋণ নেওয়া যায়।
# কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন থেকে কর্তনের মাধ্যমে প্রিমিয়াম পরিশোধ করা যায়।
# যে কোনো ডাক ঘরে প্রিমিয়াম জমা ও টাকা উত্তোলন করা যায়।

কোথায় পাওয়া যায়:

সারাদেশের ডাক জীবন বিমার কার্যক্রম দুটি সার্কেলের জেনারেল ম্যানেজারের অধীনে সম্পন্ন হয়; যথা- পূর্বাঞ্চল (ঢাকা) ও পশ্চিমাঞ্চল (রংপুর)। দেশের সব ডাক ঘরে বিমা পলিসি গ্রহণ করা যায়।

প্রিমিয়ার বা কিস্তির হার:

এ বিমার প্রিমিয়াম নগদ টাকা বা বেতন বিল হতে সরাসরি দেওয়া যায়। প্রিমিয়ামের পরিমাণ সাধারণত বিমাকারীর বয়স ও পলিসির মেয়াদভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন- আজীবন বিমার ক্ষেত্রে ১৯ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সের গ্রাহকরা বিমা পলিসি গ্রহণ করতে পারবে। আর বিমার পূর্ণতা পাবে ৫০, ৫৫, ৬০ এবং ৭০ বছর মেয়াদে। বিমাকারীর মৃত্যুর পর শুধু নমিনি টাকা পাবেন। বিমাকারীর বয়স ও পলিসির মেয়াদ ভেদে এ বিমার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ প্রিমিয়ামের পরিমাণ ১ টাকা ৮০ পয়সা ও ১৫ টাকা ১৫ পয়সা।

অর্থাৎ যদি ৫০ বছরের জন্য বিমা করা হয়, তবে ১৯ বছর বয়সের একজন গ্রাহককে মাসে প্রতি হাজারের বিপরীতে মাত্র ২ টাকা ১০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম দিতে হবে।

অপর দিকে মেয়াদি বিমার ক্ষেত্রেও ১৯ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সের গ্রাহকরা পলিসি করতে পারবে। তবে ওই বিমার পূর্ণতা পাবে যথাক্রমে ৩৫, ৪০, ৪৫, ৫৫ এবং ৬০ বছরে। বিমাকারীর বয়স ও পলিসির মেয়াদ ভেদে এ বিমার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ প্রিমিয়ামের পরিমাণ যথাক্রমে ২ টাকা ও ১৮ টাকা ২০ পয়সা।

অর্থাৎ যদি ৩৫ বছরের জন্য পলিসি করা হয় এবং গ্রাহকের বয়স যদি ১৯ বছর হয়। তবে একজন গ্রাহককে মাসে প্রতি হাজারের বিপরীতে ৫ টাকা ২০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম দিতে হবে।

লভ্যাংশের হার:

যেহেতু ডাকজীবন বিমা, “লাভ নয়, লোকসান নয়” ভিত্তিতে চালু, ফলে লভ্যাংশ পলিসি গ্রহণকারীদের মধ্যে বোনাস হিসেবে বণ্টন করা হয়। বর্তমান বোনাসের হার মেয়াদী পলিসিতে ৩৩ টাকা এবং আজীবন পলিসির জন্য ৪২ টাকা।

ঋণ সুবিধা:

এ বিমায় রয়েছে ঋণ নেওয়ার সুবিধাও। তবে এক্ষেত্রে গ্রাহকের পলিসির মেয়াদ ২ বছর পূর্ণ হতে হবে। দুই বৎসর পর জমাকৃত অর্থের ৯০ শতাংশ ঋণ আকারে তিনি নিতে পারবেন; যা সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

সীমাবদ্ধতা:

এতোকিছুর পরও বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এ বিমায়। এ প্রসঙ্গে আরিফুল হক বলেন, আমাদের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো বিমা দাবি পরিশোধে দীর্ঘসূত্রিতা। কারণ বিমার কার্যক্রমে এখনো কোনো প্রযুক্তির ছোয়া লাগেনি। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিমা হিসাব প্রধান অফিসে আসতে বেশ সময় লাগে। ফলে দাবি নিষ্পত্তিতেও সময় বেশি লাগে। তবে এ ব্যাপারে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের (এটুআই) আওতায় ডাক বিমার কার্যক্রমকে অটোমেশন সিস্টেমে অর্থাৎ রিয়েল টাইম ভিত্তিতে আনার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগির এটি চালু হবে বলে আশা করছি।

তথ্যসূত্রঃ অর্থসূচক/শাফায়াত/শাহীন


-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
8 6 8 5
আজকের প্রিয় পাঠক
1 8 9 7 9 1 7 3
মোট পাঠক