• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ রবিবার | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

Photo
টাকার পিছনে ছুটতে হবেনা টাকাই আপনার পিছনে ছুটবে

কোন একটা কাজে সফলতার গুরুত্বপূর্ণ জ়ায়গাটি দখল করে আছে মোটিভেশন। কাজটি শেষ হওয়া পর্যন্ত যিনি নিজের মোটিভেশনটা কে ধরে রাখতে পারেন তিনিই সফলকাম হতে পারেন। কিন্তু নানা রকম বিষয় এসে আমাদের এই মোটিভেশন কে নষ্ট করে দেয়, ব্যর্থ করে দেয়। তাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নিজের মোটিভেশন কে বৃদ্ধি করার উপায়, কথা গুলো মেনে চল্লে আপনাকে টাকার পিছনে ছুটতে হবেনা টাকাই আপনার পিছনে ছুটবে।

১। এমন একটা বানী খুজে বের করুন যা আপনাকে অনেক মোটিভেট করেঃ  এমন কিছু বাণী আছে যা আমাদের অনেক বেশি প্ররণা যোগায়। আজ়কাল অনেকের ফেইসবুক প্রোফাইলের About অংশে আপনি দেখবেন কোন একটি স্লোগান লিখে রেখেছে যা উনাকে অনেক বেশি প্রেরণা দেয়। এটি অনেক লম্বা হওয়ার দরকার নেই। শুধু কয়েকটি শব্দই যতেষ্ট। খুজে বের করুন আপনার সেই বানী বা স্লোগানটি যা আপনাকে অনেক বেশি মোটিভেট করেন।

২। পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমানঃ কর্ম জীবনে ঘুম এমন একটি বিষয় যা আপনাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম আপনার কর্মক্ষমতা কে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়। আপনার শরীর এবং মন কে শিথিল করার জন্য ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যান এবং রাত ১১ টার আগে ঘুমানো অনেক বেশি উত্তম। আপনার মোটিভেশন এর সাথে ঘুমের সম্পর্ক বিদ্যমান।

৩। আপনার খাদ্যাভাস কে গুরুত্ব দিনঃ আপনি যে খাবার খান সেটা শুধু আপনার শারীরিক স্বাস্থ্যকে করে না পাশাপাশি আপনার মানসিক বিষয় গুলোকে প্রভাবিত করে। আপনি যদি ভাবছেন যে কীভাবে অনুপ্রাণিত হতে হয় তা হলে আপনি আপনার খাবারকে আরও সতর্কতার সাথে গুরুত্ব দিন বিশেষ করে আপনার ব্রেকফাস্টকে। ফল, সবজি, ডিম এবং কম চর্বিযুক্ত দই ইত্যাদির মতো উচ্চ শক্তির খাবারগুলি চিহ্নিতকরুন যাতে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় গতিসম্পন্ন শক্তি সরবরাহ করতে পারে।

৪। প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা করুনঃ আপনার মোটিভেশন কে ধরে রাখতে প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা করুন। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা আপনার লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সহায়ক হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠুন আর মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করুন সারা দিনের পরিকল্পনা করতে। এটি শুধুমাত্র আপনার একটি খসড়া পরিকল্পনা যেন আপনি কি কি করবেন সারাদিন তা মনে রাখতে পারেন। এমন যেন না হয় যে আপনি ঘর থেকে বের হলেন আর আপনি জানেনি না যে কোথায় যাবেন আর কি করবেন।  

৫। নিজেকে পরিপাটি রাখুনঃ নিজেকে পরিপাটি রাখা এমন একটি বিষয় যা আপনাকে সারাটি দিন প্রানবন্ত রাখবে। চিন্তা করে দেখুন যে দিন আপনি আপনার পছন্দের পোশাকটি পড়ে এবং ভাল ভাবে পরিপাটি হয়ে বের হত সেদিন আপনার দিনটা কতটা কর্মশক্তিপূর্ণ হয়। আপনার মাঝে একটি অন্যরকম ভাল লাগা কাজ করে। এটি আপনার মোটিভেশন কে বৃদ্ধি করবে।

৬। নিজেকে পুরস্কৃত করুনঃ আপনার মোটিভেশন কে বৃদ্ধি করতে নিজেকে পুরস্কৃত করুন। আপনি ভাবতে পারেন নিজেকে আবার কিভাবে পুরস্কৃত করা যায়। হ্যাঁ নিজেকে অনেক ভাবেই পরস্কৃত করা যায়। আপনার লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি কাজের মধ্যে ডুবে না থেকে কাজ থেকে একটু বিরতি নিন। যেন আপনি আবার কাজের মধ্যে নতুন উদ্দ্যমে যোগদান করতে পারেন।

পছন্দের কোন জায়গায় যেতে পারেন
সুন্দর একটা পরিবেশে পছন্দের খাবার খেতে পারেন
বন্ধুদের সাথে আনন্দপূর্ণ সময় কাটাতে পারেন
শপিং করতে পারেন ইত্যাদি। এমন কিছু করুন যা আপনাকে অনেক বেশি আনন্দ দেয়, ভাল লাগে এবং ভাল থাকেন।

৭। স্মরণ করুন এমন কিছু মুহূর্তঃ এমন কিছু আপনার প্রিয় মুহূর্তের কথা স্মরণ করুন যা চিন্তা করলেই আপনার মাঝে এক ধরনের ভাল লাগা কাজ করে। আমি একটা কাজ করতাম তা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আমি যখন এস এস সি পরীক্ষার্থী তখন আমি প্রায়ই মনে করতাম –  আমি পরীক্ষায় খুব ভাল রেজাল্ট করলাম আর আমার রেজাল্ট পেয়ে টিচার, আমার বাবা মা সবাই অনেক খুশি। সবাই কে আমাকে অনেক ভাল বলছে। ঐ চিত্রটা আমাকে অনেক বেশি মোটিভেট করত। এবং সত্যি আমি অনেক ভাল রেজাল্ট করেছিলাম। ২০০৪ সালে আমি যে সেন্টারে পরীক্ষা দিয়েছিলাম সেখানের অংশগ্রহনকারী সকল স্কুলের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে কেউ জিপিএ ৫ পায় নি। আমারই বন্ধু পেয়েছিল ৪.৮১ এবং আমি পেয়েছিলাম ৪.৭৫।

৮। শুধু স্বপ্ন দেখবেন না, অনেক বড় স্বপ্ন দেখুনঃ আপনি যদি কোন স্বপ্নই না দেখেন তাহলে কিভাবে কিছু অর্জন করবেন? স্বপ্ন ছাড়া আপনি কিছু পাবেন না। আপনাকে স্বপ্ন দেখতে হবে আর শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না আপনাকে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। একদিন দেখবেন আপনি আপনার ঐ স্বপ্নের স্বপ্নটায় আছেন। স্বপ্নই যেহেতু দেখবেন তাহলে ছোট কেন? বড়টাই দেখুন।

৯। মোটিভেশনাল আর্টিকেল পড়ুনঃ আপনার মোটিভেশনকে বৃদ্ধি করতে মোটিভেশনাল আর্টিকেল পড়ুন। আপনার ভাল লাগলে বিডি মোটিভেটর আর্টিকেল গুলো পড়তে পারেন। এছাড়া আপনি অনলাইনে খুজুন দেখবেন অনেক মোটিভেশনাল আর্টিকেল পাবেন। আপনি পড়া শুরু করুন দেখবেন আপনার মাঝে কিছু একটা কাজ করছে যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে।

১০। সফল এবং ইতিবাচক ব্যক্তিদের সাথে মিশুনঃ আপনি যে কাজটি শুরু করেছেন এমন কাজ করে যারা ব্যর্থ হয়েছে তাঁদের সাথে কখনই মিশবেন না। তারা আপনাকে শুধু ব্যর্থতার গল্পই শুনাবে। সফল এবং ইতিবাচক মানুষের সাথে মিশুন দেখবেন আপনি অনেক পরামর্শ এবং নির্দেশনা পাবেন যা আপনার মোটিভেশন কে বৃদ্ধি করবে।

১১। নিজেকে বলুন আপনি পারবেনঃ মনে মনে হলেও আপনি বলুন যে আপনি পারবেন। আর যদি আপনি অন্যদের কাছে বলতে পারেন তাহলে তো আরো ভাল তাহলে লজ্জার হাত থেকে বাঁচার জন্য হলেও আপনি সেটা করবেন। আপনি বিশ্বাস করুন এবং বার বার নিজেকে বলুন যে আপনি পারবেন। দেখবেন কিছু শক্তি পাচ্ছেন যা করতে যাচ্ছেন।

১২। অন্যদের সহযোগিতা করুনঃ অন্যদের সহযোগিতা করুন। নিজেকে মোটিভেট করার একটি অন্যরকম টিপস হল এটি। আপনি যদি অন্যদের সহযোগিতা করেন তাহলে আপনার কোন কিছু অর্জনে নিজের মাঝে একটা আলাদা শক্তি পাবেন যে আপনি এমন একজন যার অন্যদের কাছে একটা গুরুত্ব আছে, আপনি কিছু করতে পারেন। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস কে বৃদ্ধি করবে।

আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো আপনার মোটিভেশনকে বৃদ্ধি করবে। এগুলো পরীক্ষিত। আপনি একবার প্রয়োগ করে দেখুন।  




-- ব্লগার মাহমুদুল ইসলাম এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
1 2 0 6
আজকের প্রিয় পাঠক
2 6 9 0 7 1 4 7
মোট পাঠক