• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ২৩ জুন, ২০২১ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

Photo
বিশ্বে গড়ে মাথাপিছু বীমা প্রিমিয়াম ৬৩৮.৫০ ডলার

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বীমা খাত। বীমার মাধ্যমে বিভিন্ন কম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ঝুঁকি শেয়ার করতে পারে কিংবা বড় ধরনের ক্ষতি হলে লোকসানও কমিয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশে বীমা খাত এখনো বিকাশমান। এখানে সাধারণ বীমার চেয়ে জীবন বীমার পণ্যের চাহিদাই বেশি। বাংলাদেশে ৪৬টি সাধারণ ও ৩২টি জীবন বীমা কম্পানি রয়েছে। বাংলাদেশে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে ইনস্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) কার্যক্রম শুরু করে ২০১১ সাল থেকে। বাংলাদেশে সাধারণ বীমা পণ্যগুলোর চেয়ে তুলনামূলক জীবন বীমা পণ্যগুলো বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এগুলো অনেক সময় বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স ট্রেন্ডস অ্যানালিসিস ২০১৮ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিশ্বের বীমা খাত দাঁড়িয়েছে ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে। বীমা গ্রহণের হার ৬.৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪ শতাংশ।

বীমাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুইস রে’র ‘ওয়ার্ল্ড ইনস্যুরেন্স ইন ২০১৬’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সালে উন্নত দেশগুলোতে জীবন বীমায় প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি হয় ০.৫০ শতাংশ, সাধারণ বীমায় ২.৩০ শতাংশ এবং মোট প্রবৃদ্ধি হয় ০.৭০ শতাংশ। উদীয়মান দেশগুলোতে জীবন বীমায় প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি হয় ১৭ শতাংশ, সাধারণ বীমায় ৯.৬০ শতাংশ এবং মোট প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ। ফলে বিশ্বে জীবন বীমায় প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি হয় ২.৫০ শতাংশ এবং সাধারণ বীমায় ৩.৭০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, প্রিমিয়াম সংখ্যা বিবেচনায় জীবন বীমায় আমেরিকা অঞ্চলের শেয়ার ২৫.৯১ শতাংশ, সাধারণ বীমায় ৪৪.৩২ শতাংশ। জীবন বীমায় ইউরোপের শেয়ার ৩২.৮১ শতাংশ, সাধারণ বীমায় ২৮.৯১ শতাংশ। জীবন বীমায় এশিয়া অঞ্চলের শেয়ার ৩৮.২২ শতাংশ, সাধারণ বীমায় ২৩.৩২ শতাংশ। জীবন বীমায় আফ্রিকার শেয়ার ১.৫৫ শতাংশ, সাধারণ বীমায় ০.৯৫ শতাংশ। ওশেনিয়া অঞ্চলের জীবন বীমায় প্রিমিয়াম শেয়ার ১.৫১ শতাংশ এবং সাধারণ বীমায় ২.৫১ শতাংশ।

এই চিত্র স্পষ্ট করছে মাথাপিছু হিসাবে সাধারণ বীমায় আমেরিকা, ইউরোপ ও ওশেনিয়া থেকে অনেক পিছিয়ে এশিয়া অঞ্চল। মাথাপিছু জিডিপিতে যেসব দেশ এগিয়ে, সেসব দেশে সাধারণ বীমার চাহিদাও বেশি। মাথাপিছু কম জিডিপির দেশগুলোতে সাধারণ বীমার চেয়ে জীবন বীমার চাহিদাই বেশি।

বীমা প্রিমিয়ামের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের ৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম। এর মধ্যে জীবন বীমায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫২ এবং সাধারণ বীমায় ৮৫তম। মোট বীমা প্রিমিয়ামে বাংলাদেশের শেয়ার ০.০৪ শতাংশ। বীমা প্রিমিয়ামে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় জাপান, তৃতীয় চীন, চতুর্থ যুক্তরাজ্য এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৈশ্বিক তালিকায় ১৩তম অবস্থানে ভারত, মালয়েশিয়া ৩৪তম, পাকিস্তান ৫৪তম এবং ৭৫তম অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০১৬ সালের হিসাবে বিশ্বের বীমা খাতে জীবন বীমার অংশ ৫৫.৩০ শতাংশ। মোট জীবন বীমা প্রিমিয়াম দুই হাজার ৫৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ। তবে জীবন বীমা প্রিমিয়ামে ভারত, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়ার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্বে জীবন বীমা প্রিমিয়ামে বাংলাদেশের শেয়ার ০.০৬ শতাংশ। এর বিপরীতে ভারতের অংশ ২.৯২ শতাংশ, পাকিস্তানের ০.০৮ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার অংশ ০.৪৩ শতাংশ। বাংলাদেশের বীমাশিল্পে জীবন বীমার শেয়ার ৭৩.৫ শতাংশ। সাধারণ বীমার পরিমাণ মাত্র ২৬.৫ শতাংশ। এশিয়ায় জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা দুই দিক থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছে জাপান ও চীন। বিশ্বে গড়ে মাথাপিছু বীমা প্রিমিয়াম ৬৩৮.৫০ ডলার। এর বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু বীমা প্রিমিয়াম ২.৭০ ডলার। বৈশ্বিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বীমাশিল্পে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সূত্র: কালেরকন্ঠ



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ দেশ-বিদেশে বীমা , বীমা সংবাদ

-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 2 1 1 3
আজকের প্রিয় পাঠক
3 4 3 6 6 7 3 4
মোট পাঠক