• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ২৩ জুন, ২০২১ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৮:২৭ অপরাহ্ন

Photo
বীমা শিল্প নিয়ে কিছু ভাবনা

শামিমা নাসরিনঃ "বীমা" বলতে আমাদের দেশে প্রায় অধিকাংশ মানুষ ই বুঝে থাকেন - জীবন বীমা অর্থাৎ Life Insurance. আমার দীর্ঘ চলার পথে দেখেছি 'বীমা' সেক্টরে কাজ করার কথা বললেই প্রথম প্রশ্ন : জীবন বীমা? Alico? Field - এ যেতে হয়? ক্লাইন্ড যোগাড় করতে হয়? টার্গেট আছে? এ ধরনের প্রশ্ন জনগনের পক্ষ থেকে আসে, অনেক শিক্ষিত জনের ও ধারনা নেই বীমার দুইটা ভাগ সম্পর্কে যথা :-
★জীবন বীমা অর্থাৎ Life Ins urance
★সাধারন বীমা অর্থাৎ -Non- Life insurance.

আমার খুব আফসোস হয় যখন কোন শিক্ষিত, অফিসে কাজ করেন বা ব্যাংক কর্মকর্তা বা শিক্ষকতার পেশায় জড়িত এমন কোন মানুষের পক্ষ থেকে প্রশ্ন আসলে। ব্যাংক বীমা দু'টি কিন্তু পারস্পারিক শব্দ। এই দু'টি বীমার পার্থক্য বুঝতে গিয়ে এবং সাধারন বীমা সম্পর্কে ধারনা দিতে রীতিমত একটা লেকচার দিতে হয়। যেমন বলি :
আপনি একটা গাড়ি রাস্তায় চালাবেন- ইন্সুরেন্স লাগবে-
আপনি Export Import business করবেন ইন্সুরেন্স লাগবে-
আপনি বাড়ি বানাবেন, ব্যাংক লোন নিবেন- সেখানেও আপনার ইন্সুরেন্স লাগবে। আপনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন- সেখানেও ইন্সুরেন্স কোম্পানি আপনার পাশে থাকবে। এসব কারণে আমার ব্যক্তিগত ধারণা, সাধারণ বীমা অর্থাৎ (No Life Insuurance সম্পর্কে ব্যাপক প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন। কারণ এটা সম্পত্তির বীমা। প্রতিটা মানুষেরই কোন না কোন সম্পত্তি আছে এবং সে গুলোর ঝুঁকি আছে অপ্রত্যাশিত ক্ষয় ক্ষতির যার ঝুঁকি Non Life insurance Company গুলো বহন করে থাকে।

আমি ছোট করার জন্য বলছি না Life Insurance এর কর্মকর্তাগণ এমনভাবে সাধারণ জনগণের কাছে তাদের দৈন্যতা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন মাঠকর্মী পলিসি সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দেয়ার কারণে ভুল ধারণা হয়ে গেছে। বিশ্বাসের জায়গাটা হালকা হয়ে গেছে। যে কারণে ঢালাও ভাবে ইন্সুরেন্স সেক্টরকে বক্র দৃষ্টিতে দেখার এবং নেতিবাচক ধারনা পোষন করা সাধারনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যা হোক আমি Non- Life অর্থাৎ সাধারণ বীমা নিয়ে কিছু কথা বলার চেস্টা করছি এবং এ দুইটির পার্থক্য টা একটু দেখি:-

★জীবন বীমাঃ- এটি এমন একটি চুক্তি যা একজন বীমা গ্রহীতা ও একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত হয়- যেখানে বীমা প্রতিষ্ঠান এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে যে- বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ বীমা গ্রহীতার উত্তরাধীকারিকে প্রদান করা হবে।
এখানে বীমা গ্রহীতার সুবিধা হচ্ছে মানসিক প্রশান্তি লাভ। কারণ তিনি জানেন যে তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধীকারী অর্থ সংকটে পরবে না।
অপরদিকে -

* সাধারণ বীমা হলো : অর্থের বিনিময়ে সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয় ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত ও নির্দিষ্ট ঝুঁকির স্থানান্তর এর মাধ্যমে ব্যক্তি বা বীমা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কিছু অর্থের ( প্রিমিয়ামের) বিনিময়ে বীমা গ্রহীতার আংশিক বা সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি গ্রহন করে থাকে। এটি অনিশ্চয়তার ক্ষয় ক্ষতি এড়ানোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার এক অংশ- এই পার্থক্য দুইটি সাধারণকে বুঝাতে হবে।

বাংলাদেশে ৭৮টি বীমা কোম্পানির মধ্যে ৪৬টি-ই Non-Life বীমাকারী কোম্পানী অথচ এই Non - life বীমা কোম্পানী গুলোর কর্মকর্তা কর্মচারী যারা আছেন তাদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি করলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা অনেকটাই সচল হতে পারে। কারণ বীমা শিল্প প্রথম থেকেই অবহেলা আর উপেক্ষার ভিতর দিয়েই আজ এখানে এসেছে। যার ফলশ্রুতিতে এ বছর সরকারীভাবে ১লা মার্চ *জাতীয় বীমা দিবস* হিসাবে পালিত হওয়ায় আশার আলো অনেকটাই উম্মুক্ত হয়েছে। বীমা শিল্প বেশি হবার কারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে এতে বীমা কোম্পানি ও গ্রাহক দু'পক্ষ -ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষ বীমা কর্মীর অভাবে বীমা গ্রহীতা এবং বীমাকারীর মধ্যে পলিসি আদান প্রদানের সময় সঠিক তথ্য বিশ্লেষণ না করা অর্থাৎ কোন সুবিধা পাবে বা কোন সুবিধা পাবে না যার কারণে দাবি আদায় হবার না -এটার সঠিক ভাবে বুঝানোর ব্যবস্থা না থাকায় ভুল বুঝাবুঝির জন্য বীমা কোম্পানির প্রতি অনিহা পরিলক্ষিত হয়। যা বীমা শিল্পের জন্য নেতিবাচক। এক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে বীমার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। বীমা খাতকে আরো উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে চাইলে বীমা পদ্ধতিকে " ডিজিটাল সিস্টেমে" আনতে গেলে শিক্ষিত ও নতুন প্রজন্ম অবশ্য ই প্রয়োজন হবে, তাতে মানুষের আস্থা অর্জনে সুবিধা হবে। এজন্য বীমা শিক্ষার প্রসার ঘটাবার পাশাপাশি বীমা কর্মীরা যাতে ভালো বেতন পায় সে দিকে বীমা কোম্পানী গুলোকে নজর দিতে হবে। বীমা কোম্পানীর বেতন এতো কম যে মেধাবীরা বীমা পেশায় আসতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। যারা আছে তারা দায় ঠেকে আছে। তারা আর্থিক এবং মানসিক প্রশান্তি পেলে অবশ্যই বীমা খাতে উন্নতি আসবে।

বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্মচারী -কর্মকর্তাগন সব সময় "চাকরী" হারাবার ভয়ে থাকে যার ফলে তাদের ভিতর থেকে "ইনোভেটিভ আইডিয়া"আশা করা বাতুলতা মাত্র। "Job satisfaction" না থাকলে তার চিন্তা চেতনা positive ভাবনা গুলো আলোতে আসতে পারে না। বছরের পর বছর কর্মীদের প্রমোশন, ইনক্রীমেন্ট, ইনসেন্টিভ এর সুযোগ না পেলে সে নিজের সংসারের আর চাকরী বাঁচানোর চিন্তা করবে -না - সার্বিক, চিন্তা, দেশের চিন্তা,অর্থনৈতিক চিন্তা করবে -
" কর্মী সন্তুষ্ট থাকলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়" - এই উপলব্ধিটা যখন আমাদের বীমা শিল্পের ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে আসবে তখন অবশ্যই শিক্ষিত ও মেধাবীরা এ শিল্পকে তাদের মেধার পুরোটা প্রয়োগ করে বীমা শিল্পের প্রাণ সঞ্চারণে সচেষ্ট হবে, এটাই সাভাবিক।

বর্তমান বিশ্বায়নে চলছে "টিম ওর্য়াক" এর কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করা এবং সামনে এগিয়ে চলা ; Dominate করার প্রবণতা থাকলে উন্নয়নে তো বাঁধা পাবেই। আর একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় স্বজনপ্রীতি; বেশিরভাগ কোম্পানিতেই মালিক পক্ষের Reference এ নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে দক্ষতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় না(ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়) কিন্তু তাদের বীমা বিষয়ে দক্ষ করার জন্য সুযোগ দিতে হবে, প্রশিক্ষন দিতে হবে, কাজের স্বাধীনতা দিতে হবে। তারা নিজেস্ব ভাবে প্রশিক্ষণ নিতে গেলে আর্থিক বিষয়টা এসেই যায় যা পুর্বেই আলোচিত হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারীর এই ক্রন্তিকালে বীমা শিল্প তথা মানুষের জীবনমান ও সম্পদের সুরক্ষাকল্পে বীমা কর্মীদেরকে আরো সুসংগঠিত ও সুপরিকল্পিত ভাবে আগামীর পথ চলায় ভূমিকা রাখতে বীমা কার্যক্রমের সংকোচন নীতির পরিবর্তে সম্পপ্রসারণ নীতির কার্যক্রমে উৎসাহ ও প্রনোদনা মূলক ভূমিকা ই এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের তথা আগামী বাংলাদেশের বিনির্মাণের পথকে প্রশস্ত করবে, কারণ *বীমা কর্মীরাই বীমা খাতের চালিকা শক্তি*

লেকক: Shamima Nasrin
সদস্য: Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী)
 

[ আপনিও পারেন  “Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী)” এর একজন গর্বিত সদস্য হয়ে নিজের জ্ঞানচর্চা ও বীমা শিল্পের ইতিবাচক পরিবর্ত‍নে ভূমিকা রাখতে।  আগ্রহী ব্যক্তিগন Insurance BD Group (বাংলাদেশ বীমা গোষ্ঠী) এ যুক্ত হতে এই লিংকে ক্লিক করুন- https://www.facebook.com/groups/533586794169725/ ]


-- ব্লগার Insurance BD Group এর অন্যান্য পোস্টঃ --
আমার সম্পর্কে
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 1 0 2 4
আজকের প্রিয় পাঠক
3 4 3 6 5 6 4 5
মোট পাঠক