• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ শুক্রবার | ১৪ মে, ২০২১ | ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

Photo
কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশনার ব্যাপারে খসড়া বিষয়ে মতামত প্রদান

মোঃ মানসুর আলম সিকদার, এম.বি.এ, এল এল.বিঃ  কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশনার ব্যাপারে (খসড়া) বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ বীমা কোম্পানিগুলোকে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও খসড়া বিষয়ে মতামত প্রদান করতে পারবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। এই জন্যই নিম্ন লিখিত মতামত তুলে ধরা ধরলাম। আমি কমপক্ষে ১০০ (একশত) এর অধিক বীমা পেশাজিবীর উপর জড়িপ করে নিম্ন লিখিত মতামত তুলে ধরলাম। তবে মতামতগুলো একান্তভাবে আমার একার নয় ইহা অবশ্যই সমষ্টিগত ভাবে প্রকাশ করা হল।

১) বীমা এজেন্টদের জন্য বীমার মার্কেটিং বলতে কিছুই অবশিষ্ট্য থাকবে নাঃ কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স যারা পাবে তারা হচ্ছে তারা হচ্ছে অংশীদারি প্রতিষ্ঠান অথবা কোম্পানী আইন (১৯৯৪ সালের ১৮নং আইন) এর অধীনে গঠিত একটি কোম্পানী, ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর অধীনে গঠিত ব্যাংক কোম্পানী, নিবন্ধিত সমবায় সমিতি, নিবন্ধিত এনজিও। যদি তাই হয় তবে সে ক্ষেত্রে নন-লাইফ বীমায় যারা কর্মরত অথবা বীমা এজেন্ট আছে তাদের ব্যবস্যা পাওয়ার সুযোগ কোথায়? তবে কি বলা যেতে পারে যে, বীমা এজেন্টদের জন্য কি বীমার মার্কেটিং বলতে কিছুই অবশিষ্ট্য থাকবে না?

২) কর্পোরেট এজেন্টের অস্তিত্ত্ব পৃথিবীর কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে নাঃ নন-লাইফের বীমা পেশাজীরিরা অনেকেই এই বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্বের কোথাও কর্পোরেট এজেন্টের অস্তিত্ত্ব কোথায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ধরনের কনসেপ্ট ব্যাতিক্রম ধর্মি বলে মন্তব্য করছেন। কেননা যেখানে পৃথিবীর কোথাও বীমার কর্পোরেট এজেন্টের অস্তিত্ত্ব খুজেপাচ্ছে না, সেখানে কেন বাংলাদেশে নন-লাইফ বীমার এজেন্টেদের সার্থ বিরোধী একটি ফরমুলা বানানো হল? এটা সর্ব ক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে।

৩) নন-লাইফ বীমায় কর্পোরেট এজেন্ট আইনের সাথে সাংঘর্ষিকঃ বীমা আইন 1938, 1958, 2010 এর মধ্যে বীমায় কর্মরত ব্যক্তিরাই বীমা এজেন্ট হতে পারবে। তবে বীমা আইন 1938, 1958 এ Insurance Agent & employer of agent’s এর কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু কোন ব্যাংকিং আইনে বীমার কর্পোরেট এজেন্ট থাকতে পারবে এ ধরনে কোন বিধান আছে বলে তেমন করোই জানা নাই। যদি তাই হয় তবে বলা যেতে পারে এটা বীমা আইন এবং ব্যাংকিং আইনে সাথে ঐগুলো সংঘর্ষিক বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।

৪) কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদান সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিকঃ অনেকেই মনে করছেন ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশনার (খসড়া) বিষয়টি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে বিধি ২৬ এ বলা হয়েছে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল। এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে। রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।

৫) এগুলো বীমা প্রচলিত আইনের সাথে সংঘর্ষিকঃ যেহেতু বীমা বিধি ১৯৩৮, ১৯৫৮ এবং ব্যাংক বিধিতে কোথাও কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স এবং ব্যাংকস্যুরেন্স নামে কেউ বীমার কভার নোট বা পলিসি দিতে পারবে এই ধরনের কোন নিয়ম কোথাও দেখা যায় নাই। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, সাধারন বীমা সৃষ্টি লগ্নথেকে যদি কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স এবং ব্যাংকস্যুরেন্স এর অস্তিত্ব খুজে পাওয়া না যায় তবে সেটাকে বলা যেতে পারে যে, এগুলো বীমা প্রচলিত আইনের সাথে সংঘর্ষিক।

৬) সরকারের নিতিমালা এবং চিন্তা চেতনার সাথে এগুলো সাংঘর্ষিকঃ অন্য দিকে বীমা খাতের ব্যপকতা এবং জনবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই বীমা কোম্পানি এবং কোম্পানির শাখাগুলো বাড়ানোর উপর সরকার গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু বেকারত্ত্ব সৃষ্টির জন্য সরকার বীমার পরিসর বাড়া্য় নাই। তাই যদি হয় তবে কেন ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু হতে যাচ্ছে? এগুলোতে কোথাও বীমা এজেন্টের স্বার্থে কোন কথাই বলা হয় নাই, নন-লাইফের শাখার কথাও কিছুই বলা হয় নাই। এমনকি নন-লাইফের শাখায় চাকরিরত লোকজনের কি হবে? সে ব্যাপ্যা্রেও কোন সুনিদির্ষ্ট দিকনির্দেশনা নাই। এটা কি সরকারের নিতিমালা এবং চিন্তা চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক না, সেটা ভেবে দেখার সময় এখই বলে অনেকেই মতপ্রকাশ করেছেন।

৭) শাখা প্রধানগনও চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেঃ অনেকেই আশংক্খা প্রকাশ করছেন যে, ব্যাংস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু হলে যারা বীমা এজেন্ট হিসাবে কর্মরত আছেন, তারা অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে। তারা হারিয়ে গেলে যাদেরকে রেগুলার ভিত্তিতে শাখা প্রধান করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে তারাও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

৮) নন-লাইফ বীমার শাখাগুলো অস্তিত্ত্ব সংঙ্কটে পড়ার আশংঙ্কা আছেঃ বীমা এজেন্ট এবং শাখা প্রধানগন চাকরি ঝুঁকিতে পড়লে নন-লাইফ বীমার শাখাগুলো অস্তিত্ত্ব সংঙ্কটে পড়বে। তার ফলে শাখাগুলোতে যারা ডেস্কে কর্মরত তারাও চাকরি হাড়ানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এখন অনেকেরই প্রশ্ন যে, ব্যাংস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা কার স্বার্থে করা হচ্ছে? এখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।

৯) অনেকেই আংশঙ্কা করছে কতিপয় ব্যক্তি শির্ষ মহলদেরকে ভুল-ভাল বুঝাচ্ছেঃ অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, হয়তো এখানে উপরের শির্ষ মহলদেরকে কতিপয় ব্যক্তি ভুল-ভাল বুঝাচ্ছে। যেখানে এগুলো নিয়ে যখন গুরুত্বপূর্ন মিটিং হয় সেখানে হয়তবা টেকনিক্যাল লোকদেরকে প্রধান্য দেয়া হচ্ছে না। যদি তাদের প্রধান্য দেয়া হত তবে ঐধরনের নিতিমালা রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রনয়ন করার ক্ষেত্রে হয়তবা বাধাপ্রাপ্ত হত। অনেকেরই প্রশ্ন যে, ব্যাংস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু হলে কে লাভবান হবে? একটু ভেবে দেখুনতো। এখানে সবাইকে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১০) অনেকেরই প্রশ্ন একটি সেটেলমেন্ট ইস্যুকে রিসেটেলমেন্ট করা হচ্ছে কেন? স্বাধীন বাংলাদেশে এমন কোন নিতি প্রনয়ন করা যাবে না যেখানে হাজার হাজার লোক চাকরি হারানোর আতঙ্কে ভুগবে। যদি এতগুলো বীমা পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তবে এদের দায়-দায়িত্ব কে নিবে? অবশ্যই রাষ্ট্রকে নিতে হবে, যেহেতু এটা একটি সেটেলমেন্ট ইস্যুকে রিসেটেলমেন্ট করা হচ্ছে। অনেকেই অভিমত প্রকাশ করছেন যে, কেন কতিপয় লোকের স্বার্থে হাজার হাজার লোকের চাকরি ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছি? কেন নিতিনির্ধাকরা ক্ষুদ্র স্বার্থ সম্মুন্নত রেখে, বৃহত্তর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে? যদি চাকরিরত থাকাকালিন সময় কোন নিতি প্রনয়নের কারণে হাজার হাজার লোকের চাকরি হারানোর আশংক্খা থাকে, তবে সেটা সংবিধানের বিধি ২৬ এর সম্পূর্ণ লংঙ্গন। কোন ক্রমেই কোন রাষ্ট্রীয় কোন নিতির কারণে যদি হাজার হাজার লোকের চাকরি হারানের আশংক্খা থাকে তবে এটা অবশ্যই সংবিধানের বিধি ২৬ এর সাথে সাংঘর্ষিক হবে। অতএব কেউ যদি এগুলোর ব্যাপ্যারে হাইকোর্টে রিট করে তবে ইহা অবশ্যই বাতিল হইয়া যাইবে বলে অনেকেই আশংক্খা প্রকাশ করছে।

১১) ইহা সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবেঃ যদি ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু হয় তবে হাজার হাজার বীমা কর্মিরা চাকরি হরানোর ঝুঁকিতে থাকবে। তারা যদি সত্যি সত্যি চাকুরি হারায় তবে সমাজে চরম বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে বলে অনেকেই আশংক্খা প্রকাশ করছেন। তবে এমনও অনেকেই আশংঙ্কা প্রকাশ করছে যে, এগুলো নিয়ে অনেকেই রাজনৈতিক ফায়দাও নিতে পারে। এই সুযোগ কাউকে দেয়াও ঠিক হবে না, এইজন্য এখানে সতকর্তামূলক পন্থা অবলম্বন করতে হবে।

১২) দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের যায়গা হচ্ছে বীমা সেক্টরঃ একটি কথা ভুলে যাওয়া উচিৎ না যে, বাংলাদেশে গার্মেন্স সেক্টরের পর বীমা সেক্টরে সবচেয়ে বেশী লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের যায়গায় যদি হাজার হাজার বীমা কর্মিরা চাকরি হরানোর ঝুঁকিতে থাকে তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পাড়ি যে, সমাজে একটি বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। এখানে যদি কেউ কারো স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এগুলো করছে, তবে সেটা নেহাইত ভুল হবে কেননা এটা একটি স্পর্ষকাতর বিষয়। এখানে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থানের বিষয়, হিতে-বিপরিত হলে, এটা কেউই মেনে নিবে না, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ভাবে মোরও নিতে পারে বলে অনেকেই আশংক্খা প্রকাশ করছেন। এজন্য প্রতিটি পদক্ষেপে নিতিনির্ধাকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১৩) বীমা এজেন্টগন আইনের প্রতি দারস্ত হতে পারেঃ যদি শেষ পর্যন্ত ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু করা হয় এবং তার জন্য যদি হাজার হাজার বীমা কর্মিরা চাকরি হরানোর ঝুঁকিতে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে অনেকেরই ধারনা যে, বীমা এজেন্টগন আইনের প্রতি দারস্ত হতে পারে এবং পরিস্তিতি খারাপের দিকে যেতে পারে।

১৩) হাজার হাজার কর্মি বেকায় হয়ে পড়তে পারেঃ যেখানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়নন্ত্রন কর্তৃপক্ষ কর্পোরেট এজেন্টের লইসেন্স প্রদানের নির্দেশনা (খসড়া)অনুসারে “প্রতিষ্ঠান“ অর্থ (অ) একটি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান অথবা (আ) কোম্পানী আইন (১৯৯৪ সালের ১৮নং আইন) এর অধীনে গঠিত একটি কোম্পানী অথবা ১) ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর অধীনে গঠিত ব্যাংক কোম্পানী, ২) সমবায় সমিতি আইন ২০০১ এর অধীনে গঠিত নিবন্ধিত একটি সমবায় সমিতি অথবা ৩) নিবন্ধিত এনজিও। এরা কর্পোরেট এজন্টের লাইসেন্স করতে পারবে এবং তাদের ব্যবস্যা নিজেরাই করবে সেখানে বীমা এজেন্টগন ব্যবস্যা কোথা থেকে সংগ্রহ করবে? তাই আশংঙ্কা করা হচ্ছে যে, হাজার হাজার বীমা উন্নয়ন কর্মি বেকার হয়ে পড়বে। যদি তারা বেকার হয়ে পড়ে তবে বীমার শাখাগুলোর অবস্থা কি হতে পারে? শাখা প্রধানদেরই বা কি অবস্থা হবে? এমন কি যাদের ব্রকার লাইসেন্স দেয়া হবে তাদের ব্যবস্যার অবস্থাই বা কি হবে? যদি বোজার ভুল না হয়ে থাকে, তবে আশংঙ্কা করা হচ্ছে যে, সে ক্ষেত্রে এখানে জটিলতা মনে হচ্ছে থেকেই যাচ্ছে।

১৪) ধনি আরও ধনি হওয়ার একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছেঃ প্রথম আলোর রিপোর্ট মতে বিগত ১০ বছরে ধনী বাড়ার হারে শীর্ষে বাংলাদেশ। সম্পদশালীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক দিয়ে গত দশকে বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে দেশে ধনকুবেরের (৫০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদের অধিকারী) সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। এগুলোর পিছনেতো কেউনা কেউ কাজ করার কারণেই একটি গড়িব রাষ্ট্রে প্রথম আলোর রিপোর্ট মতে বিগত ১০ বছরে ধনী বাড়ার হারে শীর্ষে বাংলাদেশ। অনেকেই আশংঙ্কা প্রকাশ করছে যে, ঠিক একই ভাবে রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার করে কোন ফরমুলার মাধ্যমে বীমা সেক্টরের কমিশনের নামে টাকা বেড় করে নেয়া যায় কিনা? তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই ভাবনার আশংঙ্কাটি সমর্থন করি না।

১৫) কতিপয় লোকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছেঃ বীমা সেক্টরের অনেকেই আশংঙ্কা প্রকাশ করছে যে, হাজার হাজার লোকের পেটে লাত্থি দিয়ে, শেষ পর্যন্ত ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু করার মাধ্যমে কতিপয় ব্যাংক মালিকদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেননা ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দিবে না বেসরকারি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি। বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় সব কোম্পানির মালিক এ সিদ্ধান্ত নেন সম্ভাব্য ২০/০৬/২০১৯ তারিখে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই কমিশন দেয়া যাবে না। ইহা কঠোর ভাবে পরিপালন করার নির্দেশনা আছে। এই কমিশন পাওয়ার অধিকার রাখবে শুধুমাত্র বীমা এজেন্টগন। ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু হলে বীমা কমিশনের টাকা উক্ত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিকগনদের প্রতিষ্ঠানেই থেকে যাবে এবং বীমা এজেন্টদেরকে প্রদান করতে হবে না। সে ক্ষেত্রে অংশিদারিত্ব ব্যবসায়ি, ব্যাংক, নিবন্ধিত সমবায় সমিতি এবং নিবন্ধিত এন.জিও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে অনেকেই আশংঙ্কা প্রকাশ করছেন।

১৬) বীমা কেউ ইচ্ছা করে নাঃ বাংলাদেশে বীমা কেউ ইচ্ছা করে না এই ব্যাপ্যারে মোটামুটি আমরা সবাই নিশ্চিত। বাধ্য হয়ে বীমা গ্রাহক নন-লাইফ বীমা পলিসি অথবা কভার নোট সংগ্রহ করে থাকে। ৬০% বীমার প্রিমিয়াম অংশিদারিত্ব ব্যবসায়ি, ব্যাংক, নিবন্ধিত সমবায় সমিতি এবং নিবন্ধিত এন.জিও প্রতিষ্ঠান থেকে আসে। এখন তারাই যদি বীমা কর্পোরেট এজেন্ট এর মাধ্যমে বীমা ব্যবস্যা সংগ্রহ করে তবে বীমা এজেন্টগনদের কি অবস্থা হতে পারে এক বার ভেবে দেখুনতো।

১৭) অনৈতিক কমিশন অপ্রতিরোধ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশংঙ্কা আছেঃ অনেকেই আশংঙ্কা প্রকাশ করছে যে, বিভিন্ন নিতিমালা প্রনয়ন করে যদি লেজেগোবরে মিশিয়ে ফেলে তবে পানি ঘোলা হবার সম্ভাবনা থকতে পারে। পানি ঘোলা হলেই পানির মাছগুলো দুর্বল হয়ে পারার আশংঙ্কা থাকবে, পরক্ষনেই ঐ দুর্বল মাছগুলো ধরা সহজ হবে। ঠিক একই ভাবে বীমা সেক্টরেও এ ধরনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা গ্রহন করতে হবে।

১৮) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মনোপলি অথবা অলিগোপলির মত ব্যবস্যা শুরু করতে পারেঃ শেষ পর্যন্ত ব্যাংকস্যুরেন্স এবং কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নিতিমালা চূরান্তভাবে চালু হলে অংশিদারিত্ব ব্যবসায়ি, ব্যাংক, নিবন্ধিত সমবায় সমিতি এবং নিবন্ধিত এন.জিও প্রতিষ্ঠান গুলি বীমা ব্যবস্যা মনোপলি অথবা অলিগোপলির মত নিয়ন্ত্রন করার একটি সম্ভাবনা দেখাদিতে পারে। তার ফলশ্রুতিতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানের নিকট পরক্ষভাবে নিয়ন্ত্রনাধীন অথবা জিম্মিহয়ে থাকার উপক্রম হতে পারে।

১৯) বীমা মর্কেটিং অকল্পনিয় ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেঃ যেখানে ৬০% থেকে ৭০% বীমার প্রিমিয়াম অংশিদারিত্ব ব্যবসায়ি, ব্যাংক, নিবন্ধিত সমবায় সমিতি এবং নিবন্ধিত এন.জিও প্রতিষ্ঠান থেকে আসে। এখন তারাই যদি বীমা কর্পোরেট এজেন্ট এর মাধ্যমে বীমা ব্যবস্যা সংগ্রহ করে তবে বীমা এজেন্টগনদের কি অবস্থা হতে পারে? অর্থাত বীমা ব্যবস্যার জন্য বীমা এজেন্ট কর্মিরা কোথাও দ্বাড়ানোর সুযোগ পাবে না। তখন সে বীমা পেশা থেকে সড়ে যেতে বাধ্য হবে। এই চিত্র সারা বাংলাদেশে সর্বত্র স্থানে হতে পারে। যদি এই চিত্র সারা দেশব্যাপি দৃশ্যমান হয় তবে বীমা মর্কেটিং অকল্পনিয় ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অনেকেই আশংঙ্কা করছে।

২০) বৈষম্য মূলক নিতি প্রনয়নঃ ব্রোকার লাইসেন্স ইস্যুর জন্য ৫০,০০০.০০ টাকা এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৫০,০০০.০০ টাকা। অন্যদিকে কর্পোরেট লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নের জন্য মাত্র ১,০০০.০০ টাকা প্রদেয় ফি। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, কেন এই বৈষম্য? ব্রোকার লাইসেন্স নিয়ে যারা কাজ করবে তারা কি বেশী সুবিধা পাবে IDRA এর(বীমা উন্নন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ) নিকট থেকে? তা হলে কেন এত বৈষম্য? এখানে অনেকেই সন্দেহ পোষন করছে যে, কর্তৃপক্ষ কি সব ক্ষমতাধরদের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে? এগুলো একান্তই সাধারন জনতার কথা। তাদের মুখতো কশটেপ দিয়ে আটকানো যাচ্ছে না। এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে তবে প্রশ্ন যতে না উঠে তারও ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি অবশ্যই বীমা উন্নন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ বীমা উন্নয়নের পক্ষেই সাহসের সাথে এবং ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে কাজ করতে হবে এটাই স্বাভাবিক।

যাই হোক কর্পোরেট এজেন্টের লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশনার ব্যাপারে (খসড়া) বিষয়ে যে মতামত তুলে ধরা হয়েছে সেগুলোর প্রতি যথাযথ নজড় রেখেই সবাই আশাকরছে যে, বিজ্ঞ কর্তৃপক্ষ সুচিন্তিয় সিদ্ধান্ত নিয়েই বীমাকে একটি সম্মান জনক অবস্থানে দাড় করাবে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।


মোঃ মানসুর আলম সিকদার
বীমা লেখকঃ সাধারণ বীমার মূলতত্ত্ব
তাং ০২/১২/২০২০ ইং



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম

-- ব্লগার মোঃ হাসান এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 9 5 2
আজকের প্রিয় পাঠক
3 3 4 9 7 8 6 5
মোট পাঠক