• বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৃষ্টি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বীমা ব্লগে আপনাকে স্বাগতম
আজ বুধবার | ২৩ জুন, ২০২১ | ৯ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সময়ঃ ০৮:২৬ অপরাহ্ন

Photo
কিছু ব্যাংক ম্যানেজার বনাম নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর কমিশন

দীর্ঘদিন ধরে ইন্স্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুবাদে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ ও  পরিচয়  হয়েছে কারন ভাই –বোন বন্ধু-বান্ধব, আত্বীয় - স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই ব্যাংকে থাকায় অনেকের  সাথে ই পরিচয় -আলাপ এবং সখ্যতা গড়ে উঠেছে যেহেতু ব্যাংক এবং বীমা একে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত।

তারই সুত্র ধরে বলছি-আমার পরিচিত একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যাংকার আপা বললেন “আপা –আমাদের তো সমস্যা নেই আপনার কোম্পানীতে বীমা করাতে- আমার ম্যানেজার স্যার যেখানে কমিশন বেশী দিবে সেখান থেকেই ইন্স্যুরেন্স কাভার নিবেন। L/C এলে স্যার ই বলে দেন কোন কোম্পানী থেকে কাভার নোট নিতে হবে-  আর একটা বিষয় থাকে আপনি যদি deposit দেন তো ভেবে দেখা যায়। “ এই হলো ব্যাংকের অবস্থা। একজন ব্যাংকার যখন deposit চাইতে আসেন আমার আপনার কাছে   তখন আমরা কিন্তু খুব একটা Negatively  নেই না।  কিন্তু একজন বীমা কর্মী যখন আপনাকে বীমা করার জন্য বলবেন তখন আপনি যত প্রকার  Negativity  আছে বলবেন এবং অসম্মান প্রদর্শন করতেও ছাড়বেন না। এটা আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র। অথচ দেখেন বর্তমান সরকার বীমা পেশাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে  ১লা মার্চ কে ‘বীমা দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তা প্রতিবছর পালিত ও হচ্ছে। প্রসঙ্গ ছিল  নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর কমিশনঃ প্রকৃত পক্ষে  বীমা কমিশন বলতে কোন শব্দ নেই যা কোন ব্যাংক ম্যানেজার বা বীমা গ্রহীতার সেটা প্রাপ্য। যেটা  ছিল সেটার নাম  ‘এজেন্ট কমিশন’ যেটা ১৫% বা ১৪.২৫% বীমা এজেন্ট এর জন্য বরাদ্দ । এজেন্ট হচ্ছেন যিনি বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে প্রিমিয়াম সংগ্রহের কাজ করবেন এবং ২০১০ সালের ১২৬ ধারা অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্স ধারী ব্রোকার হতে হবে তার। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারণত আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠ মানের বীমা চর্চা অনুসরণ করে থাকে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে বাংলাদেশে বীমাখাতে এমন কিছু চর্চা প্রচলিত রয়েছে, যা অন্য কোন দেশে পালন করা হয় বলে জানা যায় নাই। বাংলাদেশের বীমাখাত সঠিক ভাবে পরিচালিত হলে এই দুর্দশার সৃস্টি হতো না। আশাকরি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(IDRA) বীমাখাতের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ব্যাংক L/C open করবে, বীমা কোম্পানী অনিশ্চিত ক্ষতির ঝুঁকি নিজের কাঁধে নিয়ে আর্থিক সহযোগিতার অঙ্গীকার দিয়ে ইন্স্যুরেন্স কাভার দিবে এইতো। সেখানে কমিশন নিয়ে এত বার্গেনিং ? লজ্জাই হয়- অথচ IDRA সার্কুলার দিয়েও এই সিস্টেম বন্ধ করতে পারছে না। সকল বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক আর ৭৬ টি বীমা কোম্পানী নিয়ন্ত্রণ করে IDRA । তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একত্রে কাজ করলে হয়তো এই রুগ্নতা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব। এখানে পেশাদারিত্তের মধ্যেও কিছু সমস্যা এবং অদক্ষতা আছে অস্বীকার করার উপায় নেই। সেটা নিয়ে অন্য এক সময় আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

বীমাখাতে দক্ষ এবং পেশাদার কর্মী তৈরীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে আমাদের “বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিআইডিএস)” আমরা আশাবাদী। আসুন আমরা যারা বীমা সেক্ট্ররে কাজ করছি সবাই মিলে BIDS এর  পাশে থেকে দক্ষ বীমা কর্মী হয়ে সমাজে বীমাকে সম্মাননক পেশায় রুপান্তরিত করি।
ধন্যবাদ, 

শামিমা নাসরীন
সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট 
প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোঃ লিঃ 
ও 
অফিস সেক্রেটারি, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিআইডিএস)



ব্লগটির ক্যাটাগরিঃ পাঠক কলাম

-- ব্লগার Admin Post এর অন্যান্য পোস্টঃ --
  • সর্বশেষ ব্লগ
  • জনপ্রিয় ব্লগ
2 1 0 0 6
আজকের প্রিয় পাঠক
3 4 3 6 5 6 2 7
মোট পাঠক